ঢাকা ০৩:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হাম নিয়ন্ত্রণে আরও ২-৩ মাস সময় লাগতে পারে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কঠোর ব্যবস্থা, বললেন তাপস রায় মহাখালী থেকে চুরি হওয়া এনা পরিবহণের বাস মিরপুর বেড়িবাঁধে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ নোয়াখালীতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান, গ্রেপ্তার ২৭ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শনিবার দ্বিতীয় টেস্ট, ম্যাকাইয়ে অচেনা ভেন্যুর পরীক্ষায় বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা শুরু, অনুমোদনের জন্য ১১ প্রকল্প ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিংয়ে প্রাইভেটকার, আহত ২ বেগমগঞ্জে ১২ দিনে ৮ জনকে গুলি, এখনো অধরা অস্ত্রধারীরা কলকাতার হোটেলে ভয়াবহ আগুন, ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু নোবিপ্রবিতে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ- ঘটনাস্থল পরিদর্শনে তদন্ত কমিটি

রাবিতে প্রাথমিক চিকিৎসা না পাওয়ায় চিকিৎসাকেন্দ্রে তালা ঝুলালেন শিক্ষার্থীরা

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রাথমিক চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আহত এক শিক্ষার্থীকে ন্যূনতম চিকিৎসা না দিয়ে অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শাহরুখ হোসেন, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। জানা যায়, সকাল ১১টার দিকে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে তিনি ঠোঁটে গুরুতর আঘাত পান এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। সহপাঠীরা দ্রুত তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান প্রাথমিক চিকিৎসার আশায়।

তবে অভিযোগ উঠেছে, সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দিয়ে শুধু মুখে টিস্যু দিয়ে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে সহপাঠীরা তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেলে নিয়ে যান।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে একই বিভাগের শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা সেবায় অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে চিকিৎসা কেন্দ্রের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে কিছু সময়ের জন্য চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান এবং রাকসু প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যব্যবস্থা বিভাগের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“একজন শিক্ষার্থী গুরুতরভাবে আহত হয়ে রক্তক্ষরণে ভুগছিল, অথচ তাকে কোনো প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে শুধু টিস্যু দিয়ে অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি শুধু অবহেলা নয়, এটি মানবিক দায়িত্বে চরম ব্যর্থতা।”

একই বিভাগের শিক্ষার্থী বিন আজমাইল বলেন,
“যদি একটি চিকিৎসা কেন্দ্র ন্যূনতম প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে না পারে, তাহলে সেটি চালু রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমরা দায়িত্বরতদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানাই।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন,
“ঘটনার বিষয়ে অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি চিকিৎসা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছি এবং শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শুনেছি। তাদের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।”

এদিকে চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসক ডা. মাফরুহা সিদ্দিকা লিপি বলেন,
“আমি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছি। ঘটনাটি সম্পর্কে জেনেছি এবং শুনেছি কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

শিক্ষার্থীরা বলছেন, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও সেখানে ন্যূনতম সেবা না পাওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। তারা দ্রুত সেবার মান উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিতকরণ এবং দায়িত্বরতদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনাটি এখন পুরো ক্যাম্পাসে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাম নিয়ন্ত্রণে আরও ২-৩ মাস সময় লাগতে পারে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

রাবিতে প্রাথমিক চিকিৎসা না পাওয়ায় চিকিৎসাকেন্দ্রে তালা ঝুলালেন শিক্ষার্থীরা

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৩১:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

প্রাথমিক চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আহত এক শিক্ষার্থীকে ন্যূনতম চিকিৎসা না দিয়ে অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শাহরুখ হোসেন, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। জানা যায়, সকাল ১১টার দিকে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে তিনি ঠোঁটে গুরুতর আঘাত পান এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। সহপাঠীরা দ্রুত তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান প্রাথমিক চিকিৎসার আশায়।

তবে অভিযোগ উঠেছে, সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দিয়ে শুধু মুখে টিস্যু দিয়ে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে সহপাঠীরা তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেলে নিয়ে যান।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে একই বিভাগের শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা সেবায় অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে চিকিৎসা কেন্দ্রের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে কিছু সময়ের জন্য চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান এবং রাকসু প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যব্যবস্থা বিভাগের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“একজন শিক্ষার্থী গুরুতরভাবে আহত হয়ে রক্তক্ষরণে ভুগছিল, অথচ তাকে কোনো প্রাথমিক চিকিৎসা না দিয়ে শুধু টিস্যু দিয়ে অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি শুধু অবহেলা নয়, এটি মানবিক দায়িত্বে চরম ব্যর্থতা।”

একই বিভাগের শিক্ষার্থী বিন আজমাইল বলেন,
“যদি একটি চিকিৎসা কেন্দ্র ন্যূনতম প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে না পারে, তাহলে সেটি চালু রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমরা দায়িত্বরতদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানাই।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন,
“ঘটনার বিষয়ে অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি চিকিৎসা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছি এবং শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শুনেছি। তাদের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।”

এদিকে চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসক ডা. মাফরুহা সিদ্দিকা লিপি বলেন,
“আমি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছি। ঘটনাটি সম্পর্কে জেনেছি এবং শুনেছি কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

শিক্ষার্থীরা বলছেন, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও সেখানে ন্যূনতম সেবা না পাওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। তারা দ্রুত সেবার মান উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিতকরণ এবং দায়িত্বরতদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনাটি এখন পুরো ক্যাম্পাসে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।