ঢাকা ০৪:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

অসহায় মায়ের দুঃখ ভাগ করে নিলেন ইউএনও মাসুম বিল্লাহ

ইস্রাফিল খান, গোপালগঞ্জ (জেলা) প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সন্তানহারা মা আছিয়া বেগমের বাড়িতে ছুটে গেলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাসুম বিল্লাহ।
শনিবার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার তারাশী গ্রামে শোকাহত আছিয়া বেগমের পরিবারের খোঁজখবর নিতে যান তিনি। এসময় আছিয়া বেগমের হাতে নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন ইউএনও মাসুম বিল্লাহ।

এর একদিন আগে, শুক্রবার বিকেলে মায়ের সাথে অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে আছিয়া বেগমের ১৪ বছর বয়সী ছেলে জোনায়েদ শেখ। ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া নামিয়ে আনে।

জানা যায়, আছিয়া বেগমের স্বামী মৃদুল শেখ দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস করেন। ফলে সরকারিভাবে পাওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তিনি। বড় ছেলের এমন মৃত্যুর পর বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন এই অসহায় মা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আছিয়া বেগম বলেন, “দুই সন্তানকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছিলাম। অনেক কষ্টে ওদের মানুষ করছিলাম। বড় ছেলে এভাবে আমাকে ফাঁকি দিয়ে চলে যাবে—কখনো ভাবিনি। ইউএনও স্যার আমার মতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এজন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার মতো অভাগা মা যেন আর কেউ না হয়।”

ইউএনও মাসুম বিল্লাহ বলেন, “বড় ছেলের মৃত্যুর পর আছিয়া বেগম ভেঙে পড়েছেন। সমাজের সবারই উচিত প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়া—যাতে ভবিষ্যতে শিশু জোনায়েদের মতো এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর জন্য নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে।”

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

অসহায় মায়ের দুঃখ ভাগ করে নিলেন ইউএনও মাসুম বিল্লাহ

প্রকাশের সময়ঃ ০৬:০১:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

ইস্রাফিল খান, গোপালগঞ্জ (জেলা) প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সন্তানহারা মা আছিয়া বেগমের বাড়িতে ছুটে গেলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাসুম বিল্লাহ।
শনিবার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার তারাশী গ্রামে শোকাহত আছিয়া বেগমের পরিবারের খোঁজখবর নিতে যান তিনি। এসময় আছিয়া বেগমের হাতে নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন ইউএনও মাসুম বিল্লাহ।

এর একদিন আগে, শুক্রবার বিকেলে মায়ের সাথে অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে আছিয়া বেগমের ১৪ বছর বয়সী ছেলে জোনায়েদ শেখ। ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া নামিয়ে আনে।

জানা যায়, আছিয়া বেগমের স্বামী মৃদুল শেখ দ্বিতীয় বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস করেন। ফলে সরকারিভাবে পাওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তিনি। বড় ছেলের এমন মৃত্যুর পর বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন এই অসহায় মা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আছিয়া বেগম বলেন, “দুই সন্তানকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছিলাম। অনেক কষ্টে ওদের মানুষ করছিলাম। বড় ছেলে এভাবে আমাকে ফাঁকি দিয়ে চলে যাবে—কখনো ভাবিনি। ইউএনও স্যার আমার মতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এজন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার মতো অভাগা মা যেন আর কেউ না হয়।”

ইউএনও মাসুম বিল্লাহ বলেন, “বড় ছেলের মৃত্যুর পর আছিয়া বেগম ভেঙে পড়েছেন। সমাজের সবারই উচিত প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়া—যাতে ভবিষ্যতে শিশু জোনায়েদের মতো এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর জন্য নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে।”