ঢাকা ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ভিডিও বানাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর শিশুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে সৎ মা আটক- পলাতক বাবা লুট হওয়া জামায়াতের ৯ মোটরসাইকেল বিএনপি নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা রাজধানীর সচিবালয় মেট্রোরেল স্টেশনে ট্রেনের ছাদে দুই ব্যক্তি কর্মস্থলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সিনিয়র সাংবাদিক জহির এনসিপির প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হতে আর ‘দুই দিন’ সময় লাগতে পারে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেগম জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় যুব দলের দোয়া মাহফিল “স্বেচ্ছায় বিবাহ, তবুও  অপহরণ মামলা-নিরাপত্তা চেয়ে  ইসরাত খাতুন”র সংবাদ সম্মেলন ৮ দল আমাদের আর ৮ দল থাকছে না- আরও অনেক দল জোট করার আবেদন করছে- গোলাম পরওয়ার

দেশের তরুণ সমাজকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান

দেশের তরুণ সমাজকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একজন নাগরিক হিসেবে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য নিজেকে তৈরি করতে হবে। তোমাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিয়ে আমরা পেছন থেকে তোমাদের শক্তি জোগাতে চাই। দেশের ককপিটে তোমাদের বসাতে চাই।

তিনি বলেন, ভুল করলে কানে কানে বলে তোমাদের সংশোধন করব। তোমাদের সেভাবেই প্রস্তুত হতে হবে। আমি বিশ্বাস করি তোমরা পারবা, ইনশআল্লাহ।

(৭ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘দুর্বার নেতৃত্বে গড়ি স্বপ্নের ক্যাম্পাস’ প্রতিপাদ্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে চার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পিতা মকবুল হোসেন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

আদায়ে ছাত্রশিবির ও শিক্ষার্থীদের ভূমিকা শীর্ষক ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা স্মারক, ফুল, ক্রেস্ট ও বই তুলে দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পর ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বহু বছর ধরে দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ ছিল অপ্রাসঙ্গিক। শুধু ছাত্র সংসদ নয়, পুরো বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাই ছিল অচল। আমি সবাইকে অভিনন্দন জানাই। ছাত্র সংসদের প্রতি জাতির অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, তোমাদের হাত ধরেই এই জাতির ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তোমাদের জাতির স্বপ্নসারথি হতে হবে।

তিনি বলেন, আমি তারুণ্যের বিকাশের পথে। আমরা সবাই তারুণ্যনির্ভর একটা বাংলাদেশ দেখতে চাই। এই তরুণরা আগামীতে কেমন বাংলাদেশ গড়বে, তার রিহার্সেল হচ্ছে এই ছাত্র সংসদের মাধ্যমে।

নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেককে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেন্টার অব একাডেমিক এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শুধু বই-খাতা মেলে পড়ব আর লেকচার শুনব সেটা না। বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে মূলত গবেষণার কেন্দ্র। কিন্তু আফসোস গবেষণা উবে গেছে। যার কারণে পৃথিবীর হাজারও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আমরা নেই। আমি চাই এই দুয়ারটা খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি ছাত্র সংসদ অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। এর সঙ্গে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য যা দরকার ক্যাম্পাসে তারা সেটি করুক।

জামায়াতের আমির বলেন, অতীতের কলুষিত ছাত্র রাজনীতিতে আমরা দেখতাত ও শুনতাম ছাত্র সংসদগুলোতে যারা নির্বাচিত হন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তারা জড়িয়ে পড়েন। তারা অংশ বসিয়ে অসৎ উপায়ে রুজি করেন। আমরা সততার পরীক্ষায় এই ছাত্র সংসদগুলোকে শতভাগ উন্নীত দেখতে চাই। এখানে এক ভাগও ব্যর্থতা জাতি দেখতে চায় না। কারণ ইতোমধ্যে যুবকদের নিয়ে জাতির যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল কারও কারও ভুলের কারণে সে জায়গায় ভাটা পড়েছে। আমি চাই সেই ভাটার জোয়ার এই ছাত্র সংসদগুলোর মাধ্যমে ফিরে আসুক। তারা যেন প্রমাণ করে যে, কয়েকজনের ব্যর্থতা মানে গোটা ছাত্রসমাজের ব্যর্থতা এটা আমরা মেনে নেব না। আমরা প্রমাণ করব, ছাত্ররা সবসময় ন্যায়-সত্যের পক্ষে এবং বৈষম্যহীনতার পক্ষে।

সভাপতির বক্তব্যে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন ছিল ছাত্রসমাজের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত। এটি ছিল জুলাই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। ইসলামী ছাত্রশিবির বরাবরই ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে সোচ্চার থেকেছে ও আন্দোলন করেছে। ছাত্র সংসদ শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মঞ্চ হবে না, বরং এটি হবে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রশিক্ষণের ভিত্তি। এই নেতৃত্বই আগামী দিনে দেশের গতিপথ ও নীতিনির্ধারণ করবে। প্রতিনিধিরা কোনো ব্যক্তি বা দলের প্রতিনিধি নয়; বরং সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে সবার জন্য কাজ করবে। সব ক্যাম্পাসে ছাত্রবান্ধব কর্মসূচি থাকতে হবে। প্রত্যেক প্রতিনিধিকে সবার নেতা হয়ে উঠতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষমতার চর্চা করতে চাই না, বরং একে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার কেন্দ্রে পরিণত করতে চাই। জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও নতুন জ্ঞান উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চাই। ছাত্রশিবির মনে করে, ছাত্রবান্ধব কর্মসূচির পাশাপাশি জাতীয় সংকটের মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়তে হবে।

ট্যাগঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

ভিডিও বানাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর

দেশের তরুণ সমাজকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান

প্রকাশের সময়ঃ ১২:২৫:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

দেশের তরুণ সমাজকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একজন নাগরিক হিসেবে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য নিজেকে তৈরি করতে হবে। তোমাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিয়ে আমরা পেছন থেকে তোমাদের শক্তি জোগাতে চাই। দেশের ককপিটে তোমাদের বসাতে চাই।

তিনি বলেন, ভুল করলে কানে কানে বলে তোমাদের সংশোধন করব। তোমাদের সেভাবেই প্রস্তুত হতে হবে। আমি বিশ্বাস করি তোমরা পারবা, ইনশআল্লাহ।

(৭ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘দুর্বার নেতৃত্বে গড়ি স্বপ্নের ক্যাম্পাস’ প্রতিপাদ্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে চার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পিতা মকবুল হোসেন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।

আদায়ে ছাত্রশিবির ও শিক্ষার্থীদের ভূমিকা শীর্ষক ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা স্মারক, ফুল, ক্রেস্ট ও বই তুলে দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পর ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বহু বছর ধরে দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ ছিল অপ্রাসঙ্গিক। শুধু ছাত্র সংসদ নয়, পুরো বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাই ছিল অচল। আমি সবাইকে অভিনন্দন জানাই। ছাত্র সংসদের প্রতি জাতির অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, তোমাদের হাত ধরেই এই জাতির ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তোমাদের জাতির স্বপ্নসারথি হতে হবে।

তিনি বলেন, আমি তারুণ্যের বিকাশের পথে। আমরা সবাই তারুণ্যনির্ভর একটা বাংলাদেশ দেখতে চাই। এই তরুণরা আগামীতে কেমন বাংলাদেশ গড়বে, তার রিহার্সেল হচ্ছে এই ছাত্র সংসদের মাধ্যমে।

নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেককে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেন্টার অব একাডেমিক এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শুধু বই-খাতা মেলে পড়ব আর লেকচার শুনব সেটা না। বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে মূলত গবেষণার কেন্দ্র। কিন্তু আফসোস গবেষণা উবে গেছে। যার কারণে পৃথিবীর হাজারও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আমরা নেই। আমি চাই এই দুয়ারটা খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি ছাত্র সংসদ অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। এর সঙ্গে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য যা দরকার ক্যাম্পাসে তারা সেটি করুক।

জামায়াতের আমির বলেন, অতীতের কলুষিত ছাত্র রাজনীতিতে আমরা দেখতাত ও শুনতাম ছাত্র সংসদগুলোতে যারা নির্বাচিত হন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তারা জড়িয়ে পড়েন। তারা অংশ বসিয়ে অসৎ উপায়ে রুজি করেন। আমরা সততার পরীক্ষায় এই ছাত্র সংসদগুলোকে শতভাগ উন্নীত দেখতে চাই। এখানে এক ভাগও ব্যর্থতা জাতি দেখতে চায় না। কারণ ইতোমধ্যে যুবকদের নিয়ে জাতির যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল কারও কারও ভুলের কারণে সে জায়গায় ভাটা পড়েছে। আমি চাই সেই ভাটার জোয়ার এই ছাত্র সংসদগুলোর মাধ্যমে ফিরে আসুক। তারা যেন প্রমাণ করে যে, কয়েকজনের ব্যর্থতা মানে গোটা ছাত্রসমাজের ব্যর্থতা এটা আমরা মেনে নেব না। আমরা প্রমাণ করব, ছাত্ররা সবসময় ন্যায়-সত্যের পক্ষে এবং বৈষম্যহীনতার পক্ষে।

সভাপতির বক্তব্যে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন ছিল ছাত্রসমাজের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত। এটি ছিল জুলাই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। ইসলামী ছাত্রশিবির বরাবরই ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে সোচ্চার থেকেছে ও আন্দোলন করেছে। ছাত্র সংসদ শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মঞ্চ হবে না, বরং এটি হবে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রশিক্ষণের ভিত্তি। এই নেতৃত্বই আগামী দিনে দেশের গতিপথ ও নীতিনির্ধারণ করবে। প্রতিনিধিরা কোনো ব্যক্তি বা দলের প্রতিনিধি নয়; বরং সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে সবার জন্য কাজ করবে। সব ক্যাম্পাসে ছাত্রবান্ধব কর্মসূচি থাকতে হবে। প্রত্যেক প্রতিনিধিকে সবার নেতা হয়ে উঠতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষমতার চর্চা করতে চাই না, বরং একে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার কেন্দ্রে পরিণত করতে চাই। জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও নতুন জ্ঞান উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চাই। ছাত্রশিবির মনে করে, ছাত্রবান্ধব কর্মসূচির পাশাপাশি জাতীয় সংকটের মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়তে হবে।