ঢাকা ১১:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়

বড়শিতে ধরা ৩৭ কেজির ‘কালো পোয়া’, হ্যাটট্রিক প্রাইস ১ লাখ ১১ হাজার

পটুয়াখালীর মহিপুর মৎস্য বন্দরে এক জেলের বড়শিতে ধরা পড়েছে বিরল এক সামুদ্রিক মাছ—কালো পোয়া, যার ওজন ৩৭ কেজি। স্থানীয়ভাবে মাছটি ‘দাঁতিনা’ বা ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ নামেও পরিচিত।

বুধবার (১২ নভেম্বর) সকালে আল্লাহর দান ট্রলারের মাঝি তরিকুল বড়শি দিয়ে মাছটি ধরেন। পরে সেটি মহিপুর মৎস্য বন্দরের মনোয়ারা ফিশে নিয়ে আসা হলে একনজর দেখতে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়। জানা গেছে, মাছটি ১ লাখ ১১ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সগির আকন বলেন, “এ ধরনের মাছ সচরাচর ধরা পড়ে না। তাই আমরা সকাল থেকেই বন্দরে এসেছি দেখতে। শুনেছি দাম এক লাখ টাকার বেশি, সত্যিই অবাক করার মতো।”

ইকোফিশ বাংলাদেশের গবেষণা সহকারী বখতিয়ার রহমান জানান, কালো পোয়া একটি দুষ্প্রাপ্য সামুদ্রিক মাছ। সাধারণত এর ওজন ১০ থেকে ২৫ কেজির মধ্যে থাকে, তবে কখনও কখনও ৫০ কেজিরও বেশি হয়। বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার, মহেশখালী, সেন্ট মার্টিন ও পটুয়াখালীর উপকূলে এ মাছের দেখা মেলে।

তিনি আরও জানান, মাছটির বায়ু থলি বা এয়ার ব্লাডার আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন পণ্য। এটি চীনা ঐতিহ্যবাহী ওষুধ ও প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, যার কারণে মাছটির দাম অনেক বেশি।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, “মহিপুর বন্দরের জেলেরা ৩৭ কেজি ওজনের একটি দাঁতিনা বা কালো পোয়া পেয়েছেন—এটি অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। এ ধরনের মাছ সচরাচর ধরা পড়ে না।”

তিনি আরও যোগ করেন, “সরকারের জাটকা ও মা ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা মানার সুফল এখন জেলেরা পাচ্ছেন।”

উল্লেখ্য, চলতি বছর আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরে এই প্রজাতির পাঁচটি মাছ বিক্রি হয়েছে, যা মাছের পরিমাণ ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধির ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং উপকূলীয় অর্থনীতির জন্যও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

বড়শিতে ধরা ৩৭ কেজির ‘কালো পোয়া’, হ্যাটট্রিক প্রাইস ১ লাখ ১১ হাজার

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৩০:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

পটুয়াখালীর মহিপুর মৎস্য বন্দরে এক জেলের বড়শিতে ধরা পড়েছে বিরল এক সামুদ্রিক মাছ—কালো পোয়া, যার ওজন ৩৭ কেজি। স্থানীয়ভাবে মাছটি ‘দাঁতিনা’ বা ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ নামেও পরিচিত।

বুধবার (১২ নভেম্বর) সকালে আল্লাহর দান ট্রলারের মাঝি তরিকুল বড়শি দিয়ে মাছটি ধরেন। পরে সেটি মহিপুর মৎস্য বন্দরের মনোয়ারা ফিশে নিয়ে আসা হলে একনজর দেখতে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়। জানা গেছে, মাছটি ১ লাখ ১১ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সগির আকন বলেন, “এ ধরনের মাছ সচরাচর ধরা পড়ে না। তাই আমরা সকাল থেকেই বন্দরে এসেছি দেখতে। শুনেছি দাম এক লাখ টাকার বেশি, সত্যিই অবাক করার মতো।”

ইকোফিশ বাংলাদেশের গবেষণা সহকারী বখতিয়ার রহমান জানান, কালো পোয়া একটি দুষ্প্রাপ্য সামুদ্রিক মাছ। সাধারণত এর ওজন ১০ থেকে ২৫ কেজির মধ্যে থাকে, তবে কখনও কখনও ৫০ কেজিরও বেশি হয়। বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার, মহেশখালী, সেন্ট মার্টিন ও পটুয়াখালীর উপকূলে এ মাছের দেখা মেলে।

তিনি আরও জানান, মাছটির বায়ু থলি বা এয়ার ব্লাডার আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন পণ্য। এটি চীনা ঐতিহ্যবাহী ওষুধ ও প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, যার কারণে মাছটির দাম অনেক বেশি।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, “মহিপুর বন্দরের জেলেরা ৩৭ কেজি ওজনের একটি দাঁতিনা বা কালো পোয়া পেয়েছেন—এটি অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। এ ধরনের মাছ সচরাচর ধরা পড়ে না।”

তিনি আরও যোগ করেন, “সরকারের জাটকা ও মা ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা মানার সুফল এখন জেলেরা পাচ্ছেন।”

উল্লেখ্য, চলতি বছর আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরে এই প্রজাতির পাঁচটি মাছ বিক্রি হয়েছে, যা মাছের পরিমাণ ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধির ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং উপকূলীয় অর্থনীতির জন্যও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।