ঢাকা ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়

আ.লীগের লকডাউনে তীব্র যানজট রংপুরে- লাপাত্তা নেতাকর্মীরা

আগামীকাল সোমবার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের ডাকা লকডাউন যানজটে পরিণত হয়েছে রংপুর নগরী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লকডাউনের ডাক দিয়ে লাপাত্তা রয়েছেন নেতাকর্মীরা।  রংপুর সাইড বেকারির স্বত্বাধিকারী ও চেম্বারের সদস্য ব্যবসায়ী সুমন মিয়া ও হোটেল ব্যবসায়ী রমজান আলী জানান, রংপুরে লকডাউনের কোনো চিহ্ন নেই। আমরা পূর্বের নেয় শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করে আসছি। লকডাউন ডেকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নিজেরাই লাপাত্তা হয়ে গেছেন। তাদের কোনো পাত্তা নেই।

অটোচালক রহমত আলী ও বশির মিয়া বলেন, কিসের লকডাউন যানজটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোড়গুলোতে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশ সাইট দিতে হিমশিম খাচ্ছে। লকডাউনের কথা আমরা মানুষের মুখে শুনেছি বাস্তবে কোনো লকডাউন দেখছি না। মাঝেমধ্যে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মিছিল চোখে পড়েছে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম জানান, খুনি ফ্যাসিস্ট হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের ডাকা লকডাউনে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীরা মাঠে রয়েছেন। তাদের যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা প্রতিহত করতে আমরা সর্বদা মাঠে রয়েছি ।

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক জানান, এদেশে ফ্যাসিস্টদের ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই। ছাত্র-জনতার খুনি হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে যারাই অরাজকতা পরিস্থিতির সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে তাদেরকে শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে। জনগণকে বিভ্রান্ত করতে খুনি হাসিনার দোসররা কোন সাহসে এ দেশকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা করে সে বিষয়টি প্রশাসনকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে।

রংপুরের পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম শফিক ও বদরগঞ্জ থানার আতিকুর রহমান আতিক এবং রংপুর মেট্রো কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান জানান, শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের ডাকা লকডাউন ঠেকাতে পুলিশ প্রশাসন রাতদিন কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি থানায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি আমরা ইন্সপেক্টরাও নিজে মাঠে নেমে কাজ করছি। গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের থানা এলাকায় কোনো ধরনের মিছিল মিটিং শোডাউন বা আওয়ামী লীগের কোন তৎপরতা খবর পাওয়া যায়নি।

রংপুর জেলা পুলিশ সুপার আবু সাইম জানান, রংপুরের বদরগঞ্জ, মিঠাপুকুর ও পীরগঞ্জ এবং গংগাছড়া থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে নাশকতা ও রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতারকারীদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করা হয়েছে। এই মামলায় এখন পর্যন্ত ২০ জনের অধিক আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লকডাউনে নাশকতা ঠেকাতে ১৩ নভেম্বর থেকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে । যেকোনো ধরনের দেশবিরোধী অপরতা রুখতে এবং জানমালের  নিরাপত্তা দিতে পুলিশ সবসময় মাঠে কাজ করছে। গোয়েন্দা বিভাগ তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে যেকোনো সময় যে কোন খানের বিশেষ কোনো খবর এলে তাৎক্ষণিক পুলিশ সেখানে গিয়ে অভিযান করছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী জানান, রংপুর নগরীতে রক্ষায় দিনরাত পুলিশ মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। লকডাউনে বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার মামলা নিয়ে মেট্রোর ছয়টি থানায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনের অধিক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে যাতে কেউ অরাজকতা সৃষ্টি বা জনগণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নগরী সরকারি প্রতিটি অফিস আদালত এবং হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ডিউটি পালন করছেন। যেকোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ মাঠে রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

আ.লীগের লকডাউনে তীব্র যানজট রংপুরে- লাপাত্তা নেতাকর্মীরা

প্রকাশের সময়ঃ ১০:৩২:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

আগামীকাল সোমবার ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের ডাকা লকডাউন যানজটে পরিণত হয়েছে রংপুর নগরী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লকডাউনের ডাক দিয়ে লাপাত্তা রয়েছেন নেতাকর্মীরা।  রংপুর সাইড বেকারির স্বত্বাধিকারী ও চেম্বারের সদস্য ব্যবসায়ী সুমন মিয়া ও হোটেল ব্যবসায়ী রমজান আলী জানান, রংপুরে লকডাউনের কোনো চিহ্ন নেই। আমরা পূর্বের নেয় শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করে আসছি। লকডাউন ডেকে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নিজেরাই লাপাত্তা হয়ে গেছেন। তাদের কোনো পাত্তা নেই।

অটোচালক রহমত আলী ও বশির মিয়া বলেন, কিসের লকডাউন যানজটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোড়গুলোতে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশ সাইট দিতে হিমশিম খাচ্ছে। লকডাউনের কথা আমরা মানুষের মুখে শুনেছি বাস্তবে কোনো লকডাউন দেখছি না। মাঝেমধ্যে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মিছিল চোখে পড়েছে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম জানান, খুনি ফ্যাসিস্ট হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের ডাকা লকডাউনে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীরা মাঠে রয়েছেন। তাদের যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা প্রতিহত করতে আমরা সর্বদা মাঠে রয়েছি ।

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক জানান, এদেশে ফ্যাসিস্টদের ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই। ছাত্র-জনতার খুনি হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে যারাই অরাজকতা পরিস্থিতির সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে তাদেরকে শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে। জনগণকে বিভ্রান্ত করতে খুনি হাসিনার দোসররা কোন সাহসে এ দেশকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা করে সে বিষয়টি প্রশাসনকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে।

রংপুরের পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম শফিক ও বদরগঞ্জ থানার আতিকুর রহমান আতিক এবং রংপুর মেট্রো কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ আতাউর রহমান জানান, শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের ডাকা লকডাউন ঠেকাতে পুলিশ প্রশাসন রাতদিন কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি থানায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি আমরা ইন্সপেক্টরাও নিজে মাঠে নেমে কাজ করছি। গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের থানা এলাকায় কোনো ধরনের মিছিল মিটিং শোডাউন বা আওয়ামী লীগের কোন তৎপরতা খবর পাওয়া যায়নি।

রংপুর জেলা পুলিশ সুপার আবু সাইম জানান, রংপুরের বদরগঞ্জ, মিঠাপুকুর ও পীরগঞ্জ এবং গংগাছড়া থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে নাশকতা ও রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতারকারীদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করা হয়েছে। এই মামলায় এখন পর্যন্ত ২০ জনের অধিক আওয়ামী লীগের পদধারী নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লকডাউনে নাশকতা ঠেকাতে ১৩ নভেম্বর থেকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে । যেকোনো ধরনের দেশবিরোধী অপরতা রুখতে এবং জানমালের  নিরাপত্তা দিতে পুলিশ সবসময় মাঠে কাজ করছে। গোয়েন্দা বিভাগ তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে যেকোনো সময় যে কোন খানের বিশেষ কোনো খবর এলে তাৎক্ষণিক পুলিশ সেখানে গিয়ে অভিযান করছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী জানান, রংপুর নগরীতে রক্ষায় দিনরাত পুলিশ মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। লকডাউনে বিশেষ ক্ষমতা আইনে নাশকতার মামলা নিয়ে মেট্রোর ছয়টি থানায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনের অধিক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে যাতে কেউ অরাজকতা সৃষ্টি বা জনগণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নগরী সরকারি প্রতিটি অফিস আদালত এবং হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ডিউটি পালন করছেন। যেকোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ মাঠে রয়েছে।