
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে জমি দখলের পুরোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে থানায় অভিযোগ করার পরও রক্ষা পায়নি আমবাগান। অভিযোগ দায়েরের ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই দুর্বৃত্তরা রাতের অন্ধকারে বাগানের সাতটি উচ্চ ফলনশীল আমগাছ কেটে ফেলে। গত রবিবার (২৩ নভেম্বর) গভীর রাতে শাহবাজপুর ইউনিয়নের চাপড় এলাকায় ঘটে এ বর্বরোচিত ঘটনা।স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চাপড় মৌজার আরএস ৭৯৭, ৭৯৮, ৭৯৯, ৮৪৬ ও ০২ নম্বর জেল মিলিয়ে মোট ৫৮ শতক জমিতে রয়েছে ৬৫টি আমগাছ। ওই জমিটি প্রথমে বিক্রি করেন দৌলত মন্ডল দুলু ওরফে তরিকুল ইসলাম, যা দুই হাত ঘুরে বর্তমানে মালিকানায় রয়েছে আড়গড়াহাট এলাকার মৃত ইমরান খানের ছেলে মো. মামুনুর রশিদের। তিনি বাগানটি ৫ বছরের জন্য লিজ দেন মইনুদ্দিন জামান রনিকে। কিন্তু জমি বিক্রি করেও দখল ছাড়তে না চেয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি, হুমকি ও চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে দৌলত মন্ডল দুলুর বিরুদ্ধে। ২১ নভেম্বর মামুনুর রশিদকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি শিবগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন। আর ঠিক পরদিনই গাছ কেটে ক্ষতির মুখে ফেলে দেওয়া হয় জমির মালিক ও বাগান ক্রেতাকে।জমির মালিক মামুনুর রশিদ বলেন,“আমি যাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছি, তারাই ক্ষুব্ধ হয়ে সাতটি আমগাছ কেটে ফেলেছে। দুই বছর আগে জমি বিক্রি করলেও এখন কাগজপত্র ছাড়াই জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছে। আমার লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে -আমি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”টুনিয়ারা বেগম, আমবাগানের জোগানদারের স্ত্রী, জানান,“দুলু কয়েকদিন আগে আমাকে সরাসরি বলেছে-‘বাগানে গেলে লাশ বানায়ে ফালাইমু।’ এখন গাছ কেটে তাদের সেই হুমকিরই বাস্তবায়ন!”স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন,“গাছের কোনো দোষ ছিল না। বিরোধ যদি থাকে, মানুষে মানুষের হয়-গাছে কেন?”বাগান লিজ নেওয়া মইনুদ্দিন জামান রনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“গতবছর লোকসান হয়েছিল। এবার লাভের আশায় আবার বিনিয়োগ করেছি। কিন্তু গাছ কেটে সব শেষ করে দিয়েছে! আমি এর কঠোর বিচার চাই।”অভিযুক্ত তরিকুল ইসলামের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। শিবগঞ্জ থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া বলেন,“অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন-এটা শুধু গাছ কাটার ঘটনা নয়, এটি প্রকাশ্য সন্ত্রাসী তৎপরতা এবং আইনের প্রতি ভয় না থাকার জ্বলন্ত প্রমাণ।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 













