ঢাকা ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়

মো. ফরিদ সরকার। সংগৃহীত ছবি

গাজীপুরের শ্রীপুরে গভীর রাতে ইটভাটায় ডেকে নিয়ে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) এক নেতাকে রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামের শীতলক্ষ্যার তীরের কেবিএম ব্রিকস নামক ইটভাটায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত জাসাস নেতার নাম মো. ফরিদ সরকার (৩৫)। তিনি উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের মো. জামাল উদ্দিন সরকারের ছেলে। তিনি গোসিঙ্গা ইউনিয়ন জাসাসের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। স্বজনদের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে।

ফরিদের বাবা জামাল উদ্দিন সরকার বলেন, মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি আমার ছেলেকে মোবাইল ফোনে আবুল কাশেমের মালিকানাধীন কেবিএম ইটভাটায় ডেকে নেয়। রাত ১০টার দিকে সে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। রাত ৩টার দিকে স্থানীয় লোকজন বাসায় এসে খবর দেয় আমার ছেলেকে কয়েকজন মিলে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে গেছে। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, ছেলের রক্তাক্ত দেহ পড়ে রয়েছে। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গাজীপুর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, আমার ছেলে ইটভাটায় মাটি সরবরাহ করত। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে সমস্যা চলছে। কয়েকজন মাটি সরবরাহ করতে বাধা দিয়ে আসছিল ছেলেকে।

নিহতের মা ফরিদা বেগম বলেন, রাত ১০টার দিকে আমার ছেলে আর আমি একই সঙ্গে রাতের খাবার খাই। খাবার শেষে ইটভাটার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। রাত ৩টার দিকে ছেলেকে মেরে ফেলছে, এমন খবর পেয়ে মাথায় আসমান ভেঙে পড়ে। আমার কলিজাটা শেষ করে দিল ওরা। আমি ছেলেকে ফেরত চাই। আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে ওরা মেরে ফেলেছে। আমাদের শত্রুরা আমার ছেলেকে বাঁচতে দিল না। সবার নাম বলব পরে।

কেবিএম ইটভাটার কর্মচারী মো. জাকির হোসেন বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইটভাটায় এসে আগুন পোহাতে থাকে ফরিদ ভাই। এরপর রাত ৩টার দিকে কয়েকজন অচেনা ব্যক্তি রামদা হাতে এসে ফরিদ ভাইকে ধাওয়া করে। আমরা ভয়ে দৌড়ে পাশের ঘরে গিয়ে আশ্রয় নিই। এরপর কুপিয়ে-পিটিয়ে মেরে ফেলে যায়।

গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কালিয়াকৈর (সার্কেল) মিরাজুল ইসলাম বলেন, আপাতত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি দুর্বৃত্তের হাতে খুন বলতে হবে। পুলিশের কাছে নির্দিষ্ট কিছু তথ্য রয়েছে। কারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, এমন তথ্য রয়েছে। আপাতত তদন্তের জন্য বলা যাচ্ছে না। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:৫৩:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

গাজীপুরের শ্রীপুরে গভীর রাতে ইটভাটায় ডেকে নিয়ে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) এক নেতাকে রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামের শীতলক্ষ্যার তীরের কেবিএম ব্রিকস নামক ইটভাটায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত জাসাস নেতার নাম মো. ফরিদ সরকার (৩৫)। তিনি উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের মো. জামাল উদ্দিন সরকারের ছেলে। তিনি গোসিঙ্গা ইউনিয়ন জাসাসের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। স্বজনদের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করেছে।

ফরিদের বাবা জামাল উদ্দিন সরকার বলেন, মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি আমার ছেলেকে মোবাইল ফোনে আবুল কাশেমের মালিকানাধীন কেবিএম ইটভাটায় ডেকে নেয়। রাত ১০টার দিকে সে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। রাত ৩টার দিকে স্থানীয় লোকজন বাসায় এসে খবর দেয় আমার ছেলেকে কয়েকজন মিলে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে গেছে। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, ছেলের রক্তাক্ত দেহ পড়ে রয়েছে। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গাজীপুর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন, আমার ছেলে ইটভাটায় মাটি সরবরাহ করত। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে সমস্যা চলছে। কয়েকজন মাটি সরবরাহ করতে বাধা দিয়ে আসছিল ছেলেকে।

নিহতের মা ফরিদা বেগম বলেন, রাত ১০টার দিকে আমার ছেলে আর আমি একই সঙ্গে রাতের খাবার খাই। খাবার শেষে ইটভাটার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। রাত ৩টার দিকে ছেলেকে মেরে ফেলছে, এমন খবর পেয়ে মাথায় আসমান ভেঙে পড়ে। আমার কলিজাটা শেষ করে দিল ওরা। আমি ছেলেকে ফেরত চাই। আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে ওরা মেরে ফেলেছে। আমাদের শত্রুরা আমার ছেলেকে বাঁচতে দিল না। সবার নাম বলব পরে।

কেবিএম ইটভাটার কর্মচারী মো. জাকির হোসেন বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইটভাটায় এসে আগুন পোহাতে থাকে ফরিদ ভাই। এরপর রাত ৩টার দিকে কয়েকজন অচেনা ব্যক্তি রামদা হাতে এসে ফরিদ ভাইকে ধাওয়া করে। আমরা ভয়ে দৌড়ে পাশের ঘরে গিয়ে আশ্রয় নিই। এরপর কুপিয়ে-পিটিয়ে মেরে ফেলে যায়।

গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কালিয়াকৈর (সার্কেল) মিরাজুল ইসলাম বলেন, আপাতত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি দুর্বৃত্তের হাতে খুন বলতে হবে। পুলিশের কাছে নির্দিষ্ট কিছু তথ্য রয়েছে। কারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, এমন তথ্য রয়েছে। আপাতত তদন্তের জন্য বলা যাচ্ছে না। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।