ঢাকা ১২:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
সাংবাদিক ও গণমাধ্যম মালিককে গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের পূর্বানুমতি বেরোবিতে ‘জার্নাল অব লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্সেস’-এর দ্বিতীয় খণ্ডের মোড়ক উন্মোচন চীনা দূতাবাসের জিম্মায় জামিন পেলেন চীন ও তাইওয়ানের ৬ নাগরিক ‘অপলক’ দিয়ে বড় পর্দায় রাজীব, জুটি হচ্ছেন নিশো-মেহজাবীন জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের আহ্বান মার্কিন নির্বাচনের প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানি, বাণিজ্য ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে চতুর্থ শ্রেণিতে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি শিক্ষার নতুন বই, জানালেন প্রতিমন্ত্রী মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা, ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব কি কমছে? খাদ্য অপচয় কমাতে সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান পোশাকশ্রমিকদের দাবি পূরণে সরকারের প্রতি শফিকুর রহমানের আহ্বান

কনকনে শীতে এক কম্বলেই রাত কাটে ৩ সন্তানের, বসে থাকেন মা

দেশের উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে হাড় কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশায় বিপর্যয় নেমেছে জনজীবনে। জেলায় জরাজীর্ণ একটি ঘরে তিন সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন এক মা।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের সিন্দুর্না নদীপাড়া গ্রামের বিলকিস আক্তার। স্বামীসহ পাঁচ সদস্যের পরিবার। তবে স্বামী থেকেও যেন নেই৷ শারীরিকভাবে অক্ষম, পারেন না ভরণপোষণ জোগাতে।  তিন সন্তান নিয়ে একা সংগ্রাম মায়ের। বড় ছেলে ফয়সাল (১৩), মেঝো কাউসার (৮) ও ছোট মেয়ে জান্নাতুন। দুই সন্তানই শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। টিন-বাঁশের ঘরের চারপাশ থেকে হু-হু করে ঢুকছে বাতাস। মাটিতে খড় আর ওপরে ছেঁড়া এক কম্বল দিয়ে কমছে না শীত। কাঁপছে শিশুদের শরীর। অসুস্থ হচ্ছে প্রায়শই। গরম কাপড় নেই, নেই কোনো বিশেষ যত্ন বা চিকিৎসার ব্যবস্থাও। রাতে ঠাণ্ডা বাতাসে শিশুদের কান্না আর কাশির শব্দে ঘুম নেই মায়ের চোখে। সারা রাত কাটান সন্তানের পাশে বসে। স্থানীয় প্রতিবেশী রেজাউল ইসলাম জানান, তাদের কষ্ট আর সংগ্রাম বলে প্রকাশ করার মতো না।

অন্ন, বস্ত্র, বাস্থস্থান, চিকিৎসা সবকিছুর অভাব তাদের। তাদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। আমরা আহ্বান করছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য। আবেগআপ্লুত হয়ে বিলকিস আক্তার বলেন, আমি মা সন্তানদের কষ্ট দেখে থাকতে পারি না। কোনোমতে ছেঁড়া কাপড় আর কম্বল তাদের ওপর দিয়ে রেখেছি। দুইটা বাচ্চা প্রতিবন্ধী। তারা ঠাণ্ডা একেবারেই সহ্য করতে পারে না। রাতে কাঁপতে থাকে, তখন শুধু চোখের পানি ফেলা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। আমার সন্তানগুলোর পাশে দাঁড়ান। ঘরে তেমন কোনো খাবার নেই। সাদা ভাত খাইয়ে দিন পার করছি। আশপাশের কয়েকজন সহযোগিতা না করলে মরেই যেতাম।সেই সংগ্রামী মায়ের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা বলেন, খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক ও গণমাধ্যম মালিককে গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের পূর্বানুমতি

কনকনে শীতে এক কম্বলেই রাত কাটে ৩ সন্তানের, বসে থাকেন মা

প্রকাশের সময়ঃ ০৮:০৩:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে হাড় কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশায় বিপর্যয় নেমেছে জনজীবনে। জেলায় জরাজীর্ণ একটি ঘরে তিন সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন এক মা।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের সিন্দুর্না নদীপাড়া গ্রামের বিলকিস আক্তার। স্বামীসহ পাঁচ সদস্যের পরিবার। তবে স্বামী থেকেও যেন নেই৷ শারীরিকভাবে অক্ষম, পারেন না ভরণপোষণ জোগাতে।  তিন সন্তান নিয়ে একা সংগ্রাম মায়ের। বড় ছেলে ফয়সাল (১৩), মেঝো কাউসার (৮) ও ছোট মেয়ে জান্নাতুন। দুই সন্তানই শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। টিন-বাঁশের ঘরের চারপাশ থেকে হু-হু করে ঢুকছে বাতাস। মাটিতে খড় আর ওপরে ছেঁড়া এক কম্বল দিয়ে কমছে না শীত। কাঁপছে শিশুদের শরীর। অসুস্থ হচ্ছে প্রায়শই। গরম কাপড় নেই, নেই কোনো বিশেষ যত্ন বা চিকিৎসার ব্যবস্থাও। রাতে ঠাণ্ডা বাতাসে শিশুদের কান্না আর কাশির শব্দে ঘুম নেই মায়ের চোখে। সারা রাত কাটান সন্তানের পাশে বসে। স্থানীয় প্রতিবেশী রেজাউল ইসলাম জানান, তাদের কষ্ট আর সংগ্রাম বলে প্রকাশ করার মতো না।

অন্ন, বস্ত্র, বাস্থস্থান, চিকিৎসা সবকিছুর অভাব তাদের। তাদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। আমরা আহ্বান করছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তার পাশে দাঁড়ানোর জন্য। আবেগআপ্লুত হয়ে বিলকিস আক্তার বলেন, আমি মা সন্তানদের কষ্ট দেখে থাকতে পারি না। কোনোমতে ছেঁড়া কাপড় আর কম্বল তাদের ওপর দিয়ে রেখেছি। দুইটা বাচ্চা প্রতিবন্ধী। তারা ঠাণ্ডা একেবারেই সহ্য করতে পারে না। রাতে কাঁপতে থাকে, তখন শুধু চোখের পানি ফেলা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। আমার সন্তানগুলোর পাশে দাঁড়ান। ঘরে তেমন কোনো খাবার নেই। সাদা ভাত খাইয়ে দিন পার করছি। আশপাশের কয়েকজন সহযোগিতা না করলে মরেই যেতাম।সেই সংগ্রামী মায়ের পাশে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা বলেন, খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।