
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই দেশে একটি আধিপত্যবাদী শক্তি ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি শুরু করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, হেলমেট ও হাতুড়ি বাহিনী ব্যবহার করে নাগরকান্দা ও সালথা এলাকায় সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে। রিকশা প্রতীকে ভোট দিলে ভোটের পর মানুষকে ঘরছাড়া করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সোমবার ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা ও সালথা) আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মনোনীত রিকশা প্রতীকের প্রার্থী শাহ্ আকরাম আলীর সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা সদরের মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
আল্লামা মামুনুল হক বলেন, আল্লামা আকরাম আলীর কোনো নেতাকর্মীর ওপর যদি হামলা চালানো হয়, তবে তার প্রতিক্রিয়া সামাল দেওয়া সহজ হবে না। তিনি বলেন, খেলাফত মজলিস শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাস করে এবং কোনো উসকানিতে জড়াতে চায় না। তবে ভয়ভীতি দেখিয়ে যদি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, যারা বন্ধুত্ব ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেবে, তাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে তারা প্রস্তুত। কিন্তু কেউ যদি শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে নির্বাচনী ফল নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে জনগণই তার জবাব দেবে।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে মামুনুল হক বলেন, আল্লামা আকরাম আলীকে সাদাসিধে ভেবে দুর্বল মনে করার সুযোগ নেই। তিনি দেশের একজন সম্মানিত আলেম ও জাতীয় পর্যায়ের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। তার ন্যায্য অধিকার আদায়ে প্রশাসন যদি গাফিলতি করে, তাহলে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
মাঠ বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমির মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অযথা বিলম্ব করা হয়েছে, যার কারণে কেন্দ্রীয়ভাবে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচনে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ব্যর্থ হলে এর দায় জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে নিতে হবে।
জনসভায় রিকশা প্রতীকের প্রার্থী শাহ্ আকরাম আলীসহ ১১-দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে সমাবেশস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 






















