
শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেনি বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ ঘটনায় ২৩ জন আহত হলেও কেউ গুলিবিদ্ধ হননি বলে সরকার নিশ্চিত করেছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকার জানায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। যমুনা ও আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও প্রথমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ করেনি।
বিবৃতিতে বলা হয়, শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে পড়েন। এ অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। তবে ওই সময় কোনো ধরনের গুলি ছোড়া হয়নি বলে সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে।
সরকার আরও জানায়, জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ আইনানুগ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার না করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্যে জানানো হয়, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন চিকিৎসা নেন। তবে আহতদের কারও শরীরে গুলির আঘাত পাওয়া যায়নি।
বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকার পুনরায় জানায়, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনি দিকগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং আগামী রোববার এ বিষয়ে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।
বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের যে অভিযোগ উঠেছে, সরকার তা নাকচ করেছে।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমান সংবেদনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সবাইকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, প্রায় ১৮ কোটি মানুষ এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর নিবদ্ধ। ইতোমধ্যে বহু বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক দেশে অবস্থান করছেন।
সরকার দেশের সব নাগরিকের সহযোগিতায় একটি শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে জানায়, আসন্ন নির্বাচন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত এই সুযোগকে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে বাস্তবায়ন করাই জাতির সম্মিলিত দায়িত্ব।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 



















