ঢাকা ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

নদী ও জলবায়ু সংকটের প্রতিবাদে ৬০০ কিলোমিটারের পদযাত্রা সম্পন্ন করলেন পরিবেশকর্মী টনি

সংগৃহীত ছবি।

নদী অববাহিকার অবনতি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে কুড়িগ্রামের চর ইটালুকান্দা থেকে ভোলার চরকুকরিমুকরি পর্যন্ত প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পদযাত্রা সম্পন্ন করেছেন পরিবেশকর্মী মাসফিকুল হাসান টনি।

দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে দেশের প্রধান চার নদীর তীরবর্তী এলাকা ধরে হেঁটে তিনি নদীঘেঁষা জনপদ, চরাঞ্চল এবং ভাঙনপ্রবণ অঞ্চল অতিক্রম করেন। রোববার তিনি ভোলায় পৌঁছান।

এই যাত্রার সমাপ্তি উপলক্ষে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার আলিমদ্দি বাংলাবাজারে একটি সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে কাজ করা নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরার (ধরা) উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী, স্থানীয় জনগণ, যুব প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

জানা গেছে, গত ২৪ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর ইটালুকান্দা গ্রাম থেকে এই পদযাত্রা শুরু হয়। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এবং বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের (বিএমটিসি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অভিযানে তিনি ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চল অতিক্রম করেন।

পথে তিনি নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম, বালু উত্তোলনের ফলে বদলে যাওয়া নদীপ্রবাহ এবং মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার বাস্তব চিত্র প্রত্যক্ষ করেন। একই সঙ্গে নদীপাড়ের মানুষের আতিথেয়তা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংগ্রামের গল্প এই যাত্রাকে আরও অর্থবহ করে তোলে।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মাসফিকুল হাসান টনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বহু এলাকায় নদীভাঙনকে ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ দিয়েছে। বারবার ঘরবাড়ি হারিয়ে অসংখ্য মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তিনি বলেন, নদী রক্ষা এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলা এখন সময়ের দাবি।

সমাবেশে ধরিত্রী রক্ষায় আমরার সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, নদী ধ্বংস হলে জেলে ও কৃষকের জীবন-জীবিকা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে, যা দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলবে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নদী সুরক্ষা এবং জীবাশ্ম জ্বালানি সম্প্রসারণ বন্ধের বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে তুলে ধরতেই এই ব্যতিক্রমী পদযাত্রা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আয়োজকদের মতে, এই পদযাত্রা কোনো প্রতীকী কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি জলবায়ু ন্যায়ের দাবিতে একটি সময়োপযোগী সামাজিক আহ্বান। সমাবেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পদযাত্রার একটি পর্ব শেষ হলেও টনি চরকুকরিমুকরি থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত তাঁর যাত্রা অব্যাহত রাখবেন।

সমাবেশে ধরিত্রী রক্ষায় আমরার সমন্বয়ক সানজিদা রহমান, রিভার বাংলা–এর সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, রিভারাইন পিপল ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসাইন এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

নদী ও জলবায়ু সংকটের প্রতিবাদে ৬০০ কিলোমিটারের পদযাত্রা সম্পন্ন করলেন পরিবেশকর্মী টনি

প্রকাশের সময়ঃ ০১:১৫:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নদী অববাহিকার অবনতি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে কুড়িগ্রামের চর ইটালুকান্দা থেকে ভোলার চরকুকরিমুকরি পর্যন্ত প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পদযাত্রা সম্পন্ন করেছেন পরিবেশকর্মী মাসফিকুল হাসান টনি।

দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে দেশের প্রধান চার নদীর তীরবর্তী এলাকা ধরে হেঁটে তিনি নদীঘেঁষা জনপদ, চরাঞ্চল এবং ভাঙনপ্রবণ অঞ্চল অতিক্রম করেন। রোববার তিনি ভোলায় পৌঁছান।

এই যাত্রার সমাপ্তি উপলক্ষে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার আলিমদ্দি বাংলাবাজারে একটি সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে কাজ করা নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরার (ধরা) উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী, স্থানীয় জনগণ, যুব প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

জানা গেছে, গত ২৪ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর ইটালুকান্দা গ্রাম থেকে এই পদযাত্রা শুরু হয়। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এবং বাংলা মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের (বিএমটিসি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অভিযানে তিনি ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চল অতিক্রম করেন।

পথে তিনি নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম, বালু উত্তোলনের ফলে বদলে যাওয়া নদীপ্রবাহ এবং মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার বাস্তব চিত্র প্রত্যক্ষ করেন। একই সঙ্গে নদীপাড়ের মানুষের আতিথেয়তা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংগ্রামের গল্প এই যাত্রাকে আরও অর্থবহ করে তোলে।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মাসফিকুল হাসান টনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বহু এলাকায় নদীভাঙনকে ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ দিয়েছে। বারবার ঘরবাড়ি হারিয়ে অসংখ্য মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তিনি বলেন, নদী রক্ষা এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলা এখন সময়ের দাবি।

সমাবেশে ধরিত্রী রক্ষায় আমরার সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, নদী ধ্বংস হলে জেলে ও কৃষকের জীবন-জীবিকা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে, যা দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলবে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নদী সুরক্ষা এবং জীবাশ্ম জ্বালানি সম্প্রসারণ বন্ধের বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে তুলে ধরতেই এই ব্যতিক্রমী পদযাত্রা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আয়োজকদের মতে, এই পদযাত্রা কোনো প্রতীকী কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি জলবায়ু ন্যায়ের দাবিতে একটি সময়োপযোগী সামাজিক আহ্বান। সমাবেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পদযাত্রার একটি পর্ব শেষ হলেও টনি চরকুকরিমুকরি থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত তাঁর যাত্রা অব্যাহত রাখবেন।

সমাবেশে ধরিত্রী রক্ষায় আমরার সমন্বয়ক সানজিদা রহমান, রিভার বাংলা–এর সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, রিভারাইন পিপল ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসাইন এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী উপস্থিত ছিলেন।