
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন কারাগারে থাকা ৫ হাজার ৬৭ জন কারাবন্দি পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ভোট দেওয়া বন্দিদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতা ও ভিআইপি বন্দি রয়েছেন ৫৬ জন। গত এক সপ্তাহ ধরে এই ভোটগ্রহণ কার্যক্রম চলে, সোমবার ছিল ভোট দেওয়ার শেষ দিন। শেষ দিনে ভোট দিয়েছেন ২৩৪ জন কারাবন্দি।
কারা সূত্রে জানা গেছে, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে মোট ৫ হাজার ৯৬০ জন কারাবন্দি নিবন্ধন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৬০ জন ছিলেন ভিআইপি বন্দি। নিবন্ধনকারীদের তালিকায় ছিলেন ২২ জন রাজনৈতিক নেতা, ১১ জন সাবেক সচিব, পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক।
নিবন্ধনকারী রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, আনিসুল হক, হাসানুল হক ইনু ও জুনাইদ আহমেদের নাম রয়েছে। তারা সবাই ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও গণমাধ্যম) জান্নাত-উল-ফরহাদ জানান, কারাগারে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভোট প্রদানকারী ৫ হাজার ৬৭ জন বন্দির মধ্যে ১৯৮ জন নারী।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের বিভিন্ন কারাগারে পোস্টাল ব্যালটে ভোট নেওয়া শুরু হয়। প্রথম দিন ভোট দেন ১ হাজার ৫২১ জন। এরপর ৪ ফেব্রুয়ারি ৯৮৮ জন, ৫ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার ১৩৮ জন, ৬ ফেব্রুয়ারি ৪২০ জন, ৭ ফেব্রুয়ারি ৪৭১ জন এবং ৮ ফেব্রুয়ারি ২৯৫ জন ভোট দেন।
ভোটের আগে কারা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত অ্যাপের মাধ্যমে ভোট দিতে আগ্রহী বন্দিদের নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়।
বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে ৮০ হাজারের বেশি বন্দি রয়েছেন। তবে বিভিন্ন কারণে অধিকাংশ বন্দি ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেননি। কারও জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকা, আবার কারও দ্রুত জামিন পাওয়ার আশায় নিবন্ধনে আগ্রহ না দেখানোর তথ্যও জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 



















