
সকাল সাড়ে সাতটা থেকে শুরু হয়েছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত।
ভোটের শুরুতে বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর না পাওয়া গেলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা। বিশেষ করে গোপালগঞ্জ, সিলেট ও ঢাকার আশপাশের কিছু কেন্দ্রে সকাল সাড়ে নয়টা পর্যন্ত ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম।
কোথাও কম উপস্থিতি, কোথাও ধীরগতি
বিবিসি বাংলার সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, গোপালগঞ্জের বিভিন্ন কেন্দ্রে সকালবেলায় ভোটার উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। অনেক কেন্দ্রে একটি নির্দিষ্ট প্রতীকের এজেন্ট ছাড়া অন্য প্রার্থীদের এজেন্ট চোখে পড়েনি।
সিলেটের কয়েকটি কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টের অনুপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বরিশালের একটি কেন্দ্রে এজেন্ট সংকটের কারণে প্রায় ৩০ মিনিট দেরিতে ভোট শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
তবে চট্টগ্রামসহ বেশিরভাগ এলাকায় বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়তে পারে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। সারা দেশে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪২ হাজার ৭৭৯টি।
একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুরের একটি আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোট দেওয়ার পর বলেন, মানুষ উৎসবের আমেজে ভোট দিচ্ছে। কেন্দ্রের বাইরে ছোটখাটো গোলমাল হলেও তা দ্রুত সমাধান করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সকালে গুলশানে নিজের ভোট প্রদান করেন। ভোট শেষে তিনি তার দলের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং দেশবাসীকে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের মানুষ ভোট দিলে যে কোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া সম্ভব।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানও ভোট দেওয়ার পর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। ফল সুষ্ঠু হলে তা মেনে নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ে ভোট দিয়ে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হওয়ার আশা প্রকাশ করেন।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন স্থানে তাদের প্রার্থী ও কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে এবং নির্বাচনী ক্যাম্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি বলেন, জনগণের রায় ব্যালটের মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে এবং তারা ফল মেনে নেবেন।
অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা কিছু কেন্দ্রে অনিয়মের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কাছে বিষয়টি অবহিত করেছেন বলে জানিয়েছেন।
সার্বিক চিত্র
নির্বাচনের আগের রাতে বিভিন্ন জেলায় টাকা উদ্ধারের ঘটনা ও উত্তেজনার খবর থাকলেও ভোটের সকালে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল। যদিও কিছু এলাকায় ভোটার উপস্থিতি কম ও বিচ্ছিন্ন অভিযোগ সামনে এসেছে, তবুও বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে এবং ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 


















