গণ-অভ্যুত্থানের দেড় বছর পর দেশ নতুন সরকার ও সংসদ পেতে যাচ্ছে। নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বরণে প্রস্তুত হচ্ছে জাতীয় সংসদ ভবন। আগামীকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে নতুন মন্ত্রীসভা ও সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান, যা ঘিরে সংসদ ভবনকে সাজানো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়াকড়ি করা হয়েছে।
সংসদ ভবনের সংশ্লিষ্টরা জানান, সকাল ১০টায় দক্ষিণ প্লাজায় শুরু হবে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন শপথবাক্য পাঠ করাবেন। এরপর নবনির্বাচিত সদস্যরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রাপ্ত দলের সংসদীয় নেতা নির্বাচন করবেন এবং রাষ্ট্রপতির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ প্রার্থনা করবেন।
দুপুরে বিকেল চারটায় একই স্থানে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নিয়মানুযায়ী শপথবাক্য পড়াবেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সোমবার সকাল থেকেই সংসদ ভবন এলাকায় শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। ধোয়া-মোছা, দক্ষিণ প্লাজা ও শপথ কক্ষের সাজসজ্জা, সদস্যদের বরাদ্দকৃত কক্ষ প্রস্তুতকরণ—সবই তৎপরভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে; মূল প্রবেশ গেট বন্ধ, অন্যান্য প্রবেশ পথে ব্যারিকেড বসানো, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয় নির্বাচন শেষের পর শনিবার থেকে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংসদ ভবনের যেসব অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেগুলোও মেরামত করা হচ্ছে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, সংবিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। নির্বাচনের পর শুক্রবার রাতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফল প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। বিএনপি ২০৯টি আসন নিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট ৭৭টি আসন পেয়ে বিরোধী দলের আসনে বসবে। বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 




















