ঢাকা ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য বেতন-ভাতা ও ১৩ ধরনের সুযোগ-সুবিধা

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নিয়েছেন নতুন মন্ত্রিসভার মন্ত্রীরা।

নতুন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা গাড়ি, বাসভবন, বেতন-ভাতা ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, চিফ হুইপ, হুইপ, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার এ সুবিধার আওতায় থাকবেন। অতীতের সরকারগুলোর সময়ও মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টারা অনুরূপ সুবিধা ভোগ করেছেন।

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পারিশ্রমিক ও অন্যান্য সুবিধা নির্ধারিত রয়েছে দ্য মিনিস্টার্স অ্যান্ড মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্টে। অতীতে সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। রাজধানীতে স্থায়ী বাসস্থান না থাকলে রাজউকের পক্ষ থেকে প্লট বরাদ্দের নজিরও রয়েছে। তবে চলতি মেয়াদে এ ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসতে পারে।

নির্বাচনী প্রচারণাকালে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণা দেন। মঙ্গলবার এমপিদের শপথের পর বিএনপিও একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ ঘোষণাকে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, জুলাই সনদের ৭৪ নম্বর ধারায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের তিন মাসের মধ্যে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং তা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। প্রতি বছর এ হিসাব হালনাগাদ করার কথাও উল্লেখ আছে।

 

রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা

রাষ্ট্রীয় মর্যাদাক্রম অনুযায়ী চিফ হুইপ ও বিরোধীদলীয় নেতা পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা ভোগ করেন। হুইপরা প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা পান। স্পিকারের অবস্থান প্রধানমন্ত্রীর পরেই এবং ডেপুটি স্পিকার মন্ত্রীর মর্যাদা পেয়ে থাকেন। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা ভোগ করেন।


বেতন ও বাসভবন সুবিধা

মন্ত্রী: মাসিক বেতন-ভাতা ১ লাখ ৫ হাজার টাকা, প্রতিমন্ত্রী: ৯২ হাজার টাকা, উপমন্ত্রী: ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা

দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁরা সরকারি ব্যয়ে সুসজ্জিত বাসভবন পাবেন। প্রয়োজনীয় মেরামতও রাষ্ট্র বহন করবে। সরকারি বাসভবনে না থাকলে—মন্ত্রী পাবেন মাসিক ৮০ হাজার টাকা বাড়িভাড়া, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী পাবেন ৭০ হাজার টাকা

নিজস্ব বা ভাড়া বাসায় থাকলে বছরে তিন মাসের ভাড়ার সমপরিমাণ অর্থ রক্ষণাবেক্ষণ খাতে পাওয়া যাবে। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিফোন বিল সরকার বহন করবে। বাসভবনের সাজসজ্জার জন্য বছরে মন্ত্রী পাবেন ৫ লাখ এবং প্রতিমন্ত্রী ৪ লাখ টাকা।


গাড়ি ও ভ্রমণ সুবিধা

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা সরকারি গাড়ি পাবেন পরিবহন পুল থেকে। প্রতিদিন ১৮ লিটার জ্বালানি বা সমমূল্যের অর্থ বরাদ্দ থাকবে। প্রয়োজন হলে নির্বাচনী এলাকায় ভ্রমণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জিপ ব্যবহার করা যাবে।

দেশের অভ্যন্তরে সফরে—মন্ত্রী দৈনিক ভাতা পাবেন ২ হাজার টাকা,  উপমন্ত্রী পাবেন দেড় হাজার টাকা, বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে বছরে ১০ লাখ টাকার বীমা সুবিধা রয়েছে।


ব্যক্তিগত স্টাফ

একজন মন্ত্রী পাবেন—উপসচিব পদমর্যাদার একান্ত সচিব (পিএস),  সহকারী একান্ত সচিব, দুজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, দুজন অফিস সহায়ক, একজন জমাদার, একজন আরদালি ও একজন বাবুর্চি,

প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর ক্ষেত্রে স্টাফ সংখ্যা তুলনামূলক কম।


চিকিৎসা সুবিধা

মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের চিকিৎসা ব্যয় সম্পূর্ণভাবে সরকার বহন করবে। এ ব্যয়ের কোনো নির্দিষ্ট সীমা আইনে উল্লেখ নেই; তবে ভাউচার জমা দিতে হবে।


আপ্যায়ন ভাতা

মন্ত্রী: মাসে ১০ হাজার টাকা, প্রতিমন্ত্রী: সাড়ে ৭ হাজার টাকা, উপমন্ত্রী: ৫ হাজার টাকা


নির্বাচনী এলাকায় বরাদ্দ

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও দাতব্য কাজে বরাদ্দ—মন্ত্রী: বছরে ১০ লাখ টাকা, প্রতিমন্ত্রী: সাড়ে ৭ লাখ টাকা, উপমন্ত্রী: ৫ লাখ টাকা

একজন মন্ত্রী একজন ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান দিতে পারেন; প্রতিমন্ত্রী ৩৫ হাজার ও উপমন্ত্রী ২৫ হাজার টাকা দিতে পারেন।


প্রধানমন্ত্রীর সুবিধা

দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী মাসে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক এবং ১ লাখ টাকা বাড়িভাড়া পাবেন। সরকারি বিনোদন ব্যয় ও অফিস-বাসভবন যাতায়াতসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ রাষ্ট্র বহন করবে। প্রধান নির্বাহী হিসেবে আরও কিছু প্রটোকল ও সুবিধা প্রযোজ্য।


সংসদ সদস্যদের সুবিধা

সংসদ সদস্যরা মাসিক ৫৫ হাজার টাকা বেতন পান। অতীতে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি ও প্লট বরাদ্দের নজির রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা বা উন্নয়ন খাতের বিভিন্ন বরাদ্দ থেকেও এমপিরা অর্থ পেয়েছেন—এমন উদাহরণও রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য বেতন-ভাতা ও ১৩ ধরনের সুযোগ-সুবিধা

প্রকাশের সময়ঃ ০১:২০:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নতুন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা গাড়ি, বাসভবন, বেতন-ভাতা ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, চিফ হুইপ, হুইপ, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার এ সুবিধার আওতায় থাকবেন। অতীতের সরকারগুলোর সময়ও মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টারা অনুরূপ সুবিধা ভোগ করেছেন।

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর পারিশ্রমিক ও অন্যান্য সুবিধা নির্ধারিত রয়েছে দ্য মিনিস্টার্স অ্যান্ড মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্টে। অতীতে সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। রাজধানীতে স্থায়ী বাসস্থান না থাকলে রাজউকের পক্ষ থেকে প্লট বরাদ্দের নজিরও রয়েছে। তবে চলতি মেয়াদে এ ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসতে পারে।

নির্বাচনী প্রচারণাকালে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণা দেন। মঙ্গলবার এমপিদের শপথের পর বিএনপিও একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ ঘোষণাকে ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, জুলাই সনদের ৭৪ নম্বর ধারায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের তিন মাসের মধ্যে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং তা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। প্রতি বছর এ হিসাব হালনাগাদ করার কথাও উল্লেখ আছে।

 

রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা

রাষ্ট্রীয় মর্যাদাক্রম অনুযায়ী চিফ হুইপ ও বিরোধীদলীয় নেতা পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা ভোগ করেন। হুইপরা প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা পান। স্পিকারের অবস্থান প্রধানমন্ত্রীর পরেই এবং ডেপুটি স্পিকার মন্ত্রীর মর্যাদা পেয়ে থাকেন। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা ভোগ করেন।


বেতন ও বাসভবন সুবিধা

মন্ত্রী: মাসিক বেতন-ভাতা ১ লাখ ৫ হাজার টাকা, প্রতিমন্ত্রী: ৯২ হাজার টাকা, উপমন্ত্রী: ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা

দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁরা সরকারি ব্যয়ে সুসজ্জিত বাসভবন পাবেন। প্রয়োজনীয় মেরামতও রাষ্ট্র বহন করবে। সরকারি বাসভবনে না থাকলে—মন্ত্রী পাবেন মাসিক ৮০ হাজার টাকা বাড়িভাড়া, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী পাবেন ৭০ হাজার টাকা

নিজস্ব বা ভাড়া বাসায় থাকলে বছরে তিন মাসের ভাড়ার সমপরিমাণ অর্থ রক্ষণাবেক্ষণ খাতে পাওয়া যাবে। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিফোন বিল সরকার বহন করবে। বাসভবনের সাজসজ্জার জন্য বছরে মন্ত্রী পাবেন ৫ লাখ এবং প্রতিমন্ত্রী ৪ লাখ টাকা।


গাড়ি ও ভ্রমণ সুবিধা

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা সরকারি গাড়ি পাবেন পরিবহন পুল থেকে। প্রতিদিন ১৮ লিটার জ্বালানি বা সমমূল্যের অর্থ বরাদ্দ থাকবে। প্রয়োজন হলে নির্বাচনী এলাকায় ভ্রমণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জিপ ব্যবহার করা যাবে।

দেশের অভ্যন্তরে সফরে—মন্ত্রী দৈনিক ভাতা পাবেন ২ হাজার টাকা,  উপমন্ত্রী পাবেন দেড় হাজার টাকা, বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে বছরে ১০ লাখ টাকার বীমা সুবিধা রয়েছে।


ব্যক্তিগত স্টাফ

একজন মন্ত্রী পাবেন—উপসচিব পদমর্যাদার একান্ত সচিব (পিএস),  সহকারী একান্ত সচিব, দুজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, দুজন অফিস সহায়ক, একজন জমাদার, একজন আরদালি ও একজন বাবুর্চি,

প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর ক্ষেত্রে স্টাফ সংখ্যা তুলনামূলক কম।


চিকিৎসা সুবিধা

মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের চিকিৎসা ব্যয় সম্পূর্ণভাবে সরকার বহন করবে। এ ব্যয়ের কোনো নির্দিষ্ট সীমা আইনে উল্লেখ নেই; তবে ভাউচার জমা দিতে হবে।


আপ্যায়ন ভাতা

মন্ত্রী: মাসে ১০ হাজার টাকা, প্রতিমন্ত্রী: সাড়ে ৭ হাজার টাকা, উপমন্ত্রী: ৫ হাজার টাকা


নির্বাচনী এলাকায় বরাদ্দ

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও দাতব্য কাজে বরাদ্দ—মন্ত্রী: বছরে ১০ লাখ টাকা, প্রতিমন্ত্রী: সাড়ে ৭ লাখ টাকা, উপমন্ত্রী: ৫ লাখ টাকা

একজন মন্ত্রী একজন ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান দিতে পারেন; প্রতিমন্ত্রী ৩৫ হাজার ও উপমন্ত্রী ২৫ হাজার টাকা দিতে পারেন।


প্রধানমন্ত্রীর সুবিধা

দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী মাসে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক এবং ১ লাখ টাকা বাড়িভাড়া পাবেন। সরকারি বিনোদন ব্যয় ও অফিস-বাসভবন যাতায়াতসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ রাষ্ট্র বহন করবে। প্রধান নির্বাহী হিসেবে আরও কিছু প্রটোকল ও সুবিধা প্রযোজ্য।


সংসদ সদস্যদের সুবিধা

সংসদ সদস্যরা মাসিক ৫৫ হাজার টাকা বেতন পান। অতীতে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি ও প্লট বরাদ্দের নজির রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা বা উন্নয়ন খাতের বিভিন্ন বরাদ্দ থেকেও এমপিরা অর্থ পেয়েছেন—এমন উদাহরণও রয়েছে।