
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ২১টি মামলায় মোট ৪৫৭ জন আসামির বিচার চলছে। এদের মধ্যে ২৯৩ জন পলাতক এবং ১৬৪ জন কারাগারে রয়েছেন।
দুটি পৃথক ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন এসব মামলায় ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকালীন সময়ের বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আসামিদের তালিকায় রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক বিচারপতি, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা, বর্তমান ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা এবং সাবেক পুলিশ কর্মকর্তারা।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে ২৪টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হয়েছে। গত ১৭ মাসে তিনটি মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে।
দুটি মামলায় ট্রাইব্যুনাল-১ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এবং ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিবসহ ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। অন্যদিকে ট্রাইব্যুনাল-২ গাজীপুরের সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৫ জনকে দণ্ডিত করেছে। একটি মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ায় একজন আসামিকে ক্ষমা করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ ৭৪ জন বেসামরিক ব্যক্তি রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসামি আছেন। এদের মধ্যে ৬৫ জন পুলিশ সদস্য, ২০ জন সেনাবাহিনীর সদস্য এবং একজন আনসার সদস্য রয়েছেন।
মূল মামলাগুলোর পাশাপাশি তদন্তাধীন ‘মিস কেস’ হিসেবে আরও ৩৪টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল-১-এ ৩২টি এবং ট্রাইব্যুনাল-২-এ দুটি মামলা বিচারাধীন। এসব মামলায় মোট ২০৭ জন আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাদের মধ্যে ৯৬ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন এবং ১২৫ জন পলাতক।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 



















