
নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার দেশে পাঁচ কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন।
নির্বাচনের আগে ‘মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র’ গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে দেওয়া ইশতেহারে বিএনপি ৯টি অগ্রাধিকার খাত নির্ধারণ করে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। দলটির ঘোষণায় বলা হয়েছিল, প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে এ কার্ড চালু করা হবে। এর আওতায় প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা বা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হবে এবং ভবিষ্যতে সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে।
কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ জানান, প্রাথমিকভাবে নগদ অর্থ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। হতদরিদ্র ও নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ঈদের আগেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে হতদরিদ্র পরিবার এবং পরবর্তী ধাপে দরিদ্র পরিবারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনাতেও প্রত্যেক পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, কমিটি কর্মসূচির নকশা ও সুবিধাভোগী বাছাই পদ্ধতি প্রণয়ন করবে।
কমিটির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে—প্রথম পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে উপজেলায় কর্মসূচি চালু করা, বিদ্যমান নারী-কেন্দ্রিক কর্মসূচিগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের সম্ভাবনা যাচাই, জাতীয় পরিচয়পত্র ও জাতীয় তথ্যভাণ্ডারের সমন্বয়ে ডিজিটাল এমআইএস প্রণয়নের সুপারিশ এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে প্রাথমিক প্রতিবেদন দাখিল করা।
সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় কার্ড দেওয়া হবে না এবং কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর সংশ্লিষ্টতা থাকবে না। কার্ড সরাসরি পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এ কর্মসূচি চালু হলেও বিদ্যমান ভাতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
‘ফ্যামিলি কার্ড প্রদানসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র সভাপতি হিসেবে অর্থমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 



















