মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি জাতির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে তিনি শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, মহিলা ও শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, তথ্য মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা একে একে শ্রদ্ধা জানান।
এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনসহ নির্বাচন কমিশনাররা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তিন বাহিনীর প্রধান—সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান—শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা ফুল দেন।
জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
প্রথম প্রহরে আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন চলাকালে নিরাপত্তা বেষ্টনির বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন হাজারো মানুষ। মধ্যরাতের আগেই ফুল হাতে শহীদ মিনারের দিকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ মিনার সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় একুশের চেতনা বাধাগ্রস্ত ছিল, তবে এবার তা নতুনভাবে উদ্ভাসিত হয়েছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পর জনগণের প্রত্যাশা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, একুশের মূল চেতনা—ভাষা, সংস্কৃতি, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের মূল্যবোধ—সমুন্নত রাখতে সরকার ও জনগণ একসঙ্গে কাজ করবে। মাতৃভাষার বিকাশ এবং সংস্কৃতির সমৃদ্ধির পাশাপাশি একটি ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই হবে আগামী দিনের অঙ্গীকার।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 




















