ঢাকা ০২:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]

নতুন ইউনিফর্মে অস্বস্তি: আগের পোশাকে ফেরার দাবি পুলিশ সদস্যদের

পুলিশের পুরাতন পোশাক (বাম পাশে), নতুন পোশাক (ডান পাশে)। সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে অস্বস্তি ও অসন্তোষের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনেক পুলিশ সদস্য পুরনো পোশাকে ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। নতুন ইউনিফর্মের রং ও নকশা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন পোশাক নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের কারণে বাহিনীর সদস্যরা বিব্রতবোধ করছেন বলেও জানা গেছে।

এ প্রেক্ষাপটে সোমবার রাতে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য তড়িঘড়ি করে আনা এ পরিবর্তনের পক্ষে নন। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত খাকি পোশাকটি বাহিনীর ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের প্রতীক ছিল।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নতুন পোশাক নির্ধারণের ক্ষেত্রে সদস্যদের মতামত, দেশের আবহাওয়া ও বাহিনীর স্বাতন্ত্র্য যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি অন্য কিছু সংস্থার ইউনিফর্মের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকায় মাঠপর্যায়ে দ্রুত চিহ্নিতকরণে সমস্যার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়।

সংগঠনের দাবি, ২০০৩-২০০৪ সালে গঠিত একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আগের পোশাক নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখন দেশের পরিবেশ, দায়িত্ব পালনের ধরন ও স্বাতন্ত্র্য বিবেচনায় নেওয়া হয়।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, ইউনিফর্ম পরিবর্তন একটি ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই অর্থ বাহিনীর আধুনিকায়ন, থানা পর্যায়ে যানবাহন ও লজিস্টিক সহায়তা বাড়াতে ব্যয় করা অধিক যৌক্তিক হতে পারে। সংগঠনটির মতে, পোশাকের রং বা নকশার চেয়ে সদস্যদের মনোবল, পেশাদারিত্ব ও সেবার মান উন্নয়নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

                                                                                     

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আনিসুজ্জামান বলেন, শুরু থেকেই নতুন পোশাক নিয়ে আপত্তি ছিল। মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করেই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, চাইলে আগের পোশাকে ফেরা যেতে পারে, অথবা সবার মতামতের ভিত্তিতে নতুন নকশা নির্ধারণ করা যেতে পারে। বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সদস্যদের বছরে পাঁচ সেট করে পোশাক সরবরাহ করা হয়। প্রায় ২১ বছর পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ইউনিফর্মে পরিবর্তন আনা হয়। এর আগে সর্বশেষ ২০০৪ সালে পোশাক পরিবর্তন করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার বাহিনীর পোশাকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সমালোচনার মুখে র‍্যাব ও আনসারের ইউনিফর্মে পরিবর্তন স্থগিত রাখা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন ইউনিফর্মে অস্বস্তি: আগের পোশাকে ফেরার দাবি পুলিশ সদস্যদের

প্রকাশের সময়ঃ ০২:০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে অস্বস্তি ও অসন্তোষের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনেক পুলিশ সদস্য পুরনো পোশাকে ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। নতুন ইউনিফর্মের রং ও নকশা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন পোশাক নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের কারণে বাহিনীর সদস্যরা বিব্রতবোধ করছেন বলেও জানা গেছে।

এ প্রেক্ষাপটে সোমবার রাতে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য তড়িঘড়ি করে আনা এ পরিবর্তনের পক্ষে নন। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত খাকি পোশাকটি বাহিনীর ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের প্রতীক ছিল।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নতুন পোশাক নির্ধারণের ক্ষেত্রে সদস্যদের মতামত, দেশের আবহাওয়া ও বাহিনীর স্বাতন্ত্র্য যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি অন্য কিছু সংস্থার ইউনিফর্মের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকায় মাঠপর্যায়ে দ্রুত চিহ্নিতকরণে সমস্যার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়।

সংগঠনের দাবি, ২০০৩-২০০৪ সালে গঠিত একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আগের পোশাক নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখন দেশের পরিবেশ, দায়িত্ব পালনের ধরন ও স্বাতন্ত্র্য বিবেচনায় নেওয়া হয়।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, ইউনিফর্ম পরিবর্তন একটি ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই অর্থ বাহিনীর আধুনিকায়ন, থানা পর্যায়ে যানবাহন ও লজিস্টিক সহায়তা বাড়াতে ব্যয় করা অধিক যৌক্তিক হতে পারে। সংগঠনটির মতে, পোশাকের রং বা নকশার চেয়ে সদস্যদের মনোবল, পেশাদারিত্ব ও সেবার মান উন্নয়নই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

                                                                                     

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আনিসুজ্জামান বলেন, শুরু থেকেই নতুন পোশাক নিয়ে আপত্তি ছিল। মাঠপর্যায়ের সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করেই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, চাইলে আগের পোশাকে ফেরা যেতে পারে, অথবা সবার মতামতের ভিত্তিতে নতুন নকশা নির্ধারণ করা যেতে পারে। বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সদস্যদের বছরে পাঁচ সেট করে পোশাক সরবরাহ করা হয়। প্রায় ২১ বছর পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ইউনিফর্মে পরিবর্তন আনা হয়। এর আগে সর্বশেষ ২০০৪ সালে পোশাক পরিবর্তন করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার বাহিনীর পোশাকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সমালোচনার মুখে র‍্যাব ও আনসারের ইউনিফর্মে পরিবর্তন স্থগিত রাখা হয়।