ঢাকা ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী

পিলখানার ঘটনা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ‘জাতীয় শহিদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পিলখানার হত্যাকাণ্ডকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তা ক্ষমা করবে না।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ‘জাতীয় শহিদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সভায় তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ, ৯০-এর গণআন্দোলন এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একইসঙ্গে ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে নিহত ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনাও প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতির ইতিহাসে একটি বেদনাবিধুর দিন। ২০০৯ সালের ওই দুই দিনের ঘটনা জাতীয় জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে, যার বেদনা এখনও বহমান। তিনি ব্যক্তিগত অনুভূতির কথাও তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানে এসে তিনি পরিবারের সদস্যদের ত্যাগ ও কষ্ট অনুধাবন করেছেন।

তিনি জানান, দেশে ফেরার পর বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবর জিয়ারতকালে তিনি পরিবারের দুর্দশা ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশার বিষয়টি উপলব্ধি করেন। সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকেই এই বাহিনী সেনাবাহিনীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্রের ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় তৎকালীন ইপিআরের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে বাহিনীকে পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যার মধ্যে ১৯৭৮ সালে সামরিক কাঠামোয় পুনর্গঠন উল্লেখযোগ্য।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সক্ষম করে তুলতে কাজ করবে। তিনি দাবি করেন, পিলখানার মর্মান্তিক ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা সামনে এনেছিল। তাই সময়োপযোগী ও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

এছাড়া শহীদ পরিবারগুলোর কল্যাণে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শহীদদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সভায় সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী

পিলখানার ঘটনা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব

প্রকাশের সময়ঃ ১২:৪৮:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পিলখানার হত্যাকাণ্ডকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা জাতীয় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তা ক্ষমা করবে না।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ‘জাতীয় শহিদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সভায় তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ, ৯০-এর গণআন্দোলন এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একইসঙ্গে ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে নিহত ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনাও প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি জাতির ইতিহাসে একটি বেদনাবিধুর দিন। ২০০৯ সালের ওই দুই দিনের ঘটনা জাতীয় জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে, যার বেদনা এখনও বহমান। তিনি ব্যক্তিগত অনুভূতির কথাও তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানে এসে তিনি পরিবারের সদস্যদের ত্যাগ ও কষ্ট অনুধাবন করেছেন।

তিনি জানান, দেশে ফেরার পর বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবর জিয়ারতকালে তিনি পরিবারের দুর্দশা ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশার বিষয়টি উপলব্ধি করেন। সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকেই এই বাহিনী সেনাবাহিনীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্রের ঘটনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় তৎকালীন ইপিআরের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে বাহিনীকে পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যার মধ্যে ১৯৭৮ সালে সামরিক কাঠামোয় পুনর্গঠন উল্লেখযোগ্য।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সক্ষম করে তুলতে কাজ করবে। তিনি দাবি করেন, পিলখানার মর্মান্তিক ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা সামনে এনেছিল। তাই সময়োপযোগী ও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

এছাড়া শহীদ পরিবারগুলোর কল্যাণে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শহীদদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সভায় সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।