ঢাকা ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা: এক বছর পরও স্মৃতির বেদনা অব্যাহত কূটনীতিকদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার মাহফিল পরিচ্ছন্নতা কর্মীর মজুরি জাল স্বাক্ষরে উত্তোলন দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৬৫ বাংলাদেশি রোববার থেকে বাড়তে পারে বৃষ্টি, কয়েক বিভাগে বজ্রপাতের আশঙ্কা আ.লীগ কার্যালয়ে ভোরে টাঙানো ছাত্রলীগের ব্যানার, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উধাও আ.লীগ কার্যালয়ের ধ্বংসাবশেষে টানানো সেই ব্যানার রাতেই উধাও শিবগঞ্জে পৈতৃক সম্পতি উদ্ধার, থানায় মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস এবার বগুড়ায়
ইবি শিক্ষিকা রুনা হত্যা

দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তার নির্দেশনার অভিযোগ, মামলা দায়ের

আসমা সাদিয়া রুনা।সংগৃহীত ছবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিভাগের দুই শিক্ষক ও সাবেক এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যায় নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান এ অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহারে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক অফিস সহকারী ফজলুর রহমানকে, যিনি সরাসরি ছুরিকাঘাত করে রুনাকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান এবং বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস। এছাড়া আরও অজ্ঞাত ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দণ্ডবিধির ৩০২ ও ১০৯ ধারায় মামলা নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কাজ করছে।

এজাহারে যা বলা হয়েছে

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আসমা সাদিয়া রুনা সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আগের সময়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব বুঝে নিতে চাইলে তৎকালীন সভাপতি শ্যাম সুন্দর সরকার তা দেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, বিভাগের কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস রুনাকে বলেন—তিনি সভাপতি হলেও বিভাগ যেভাবে নির্দেশ দেবে সেভাবেই কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে হবে। তবে রুনা তাতে রাজি না হয়ে বিভাগের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার কথা জানান। এরপর থেকেই তার সঙ্গে শ্যাম সুন্দর সরকার ও বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাসের সম্পর্কের অবনতি ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।

স্বামীর অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় অফিস সহায়ক ফজলুর রহমানকে দিয়ে বিভিন্নভাবে রুনাকে হয়রানি ও অসহযোগিতা করা হতো। এক পর্যায়ে তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলে তিনি লিখিতভাবে ক্ষমা চান। কিন্তু এরপরও একই ধরনের আচরণ অব্যাহত ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও অভিযোগ করা হয়েছে, একবার বিভাগের শিক্ষক হাবিবুর রহমানের সামনেই ফজলুর রহমান রুনার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। বিষয়টি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রোকসানা মিলিকে জানানো হলে তিনি বিভাগে একাডেমিক কমিটির সভা আহ্বানের নির্দেশ দেন। সেই সভায় প্রশাসনিক কারণে ফজলুর রহমানকে সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ সিদ্ধান্তে শিক্ষক হাবিবুর রহমান অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ফজলুর রহমানকে বিভাগে বহাল রাখার বিষয়েও রুনাকে চ্যালেঞ্জ জানান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ফজলুর রহমানকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয় এবং কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাসকেও ১৮ ফেব্রুয়ারি একটি ছাত্রী হলে বদলি করা হয়।

এজাহারে দাবি করা হয়েছে, এসব ঘটনার জের ধরেই বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমানের প্ররোচনা ও নির্দেশনায় ফজলুর রহমান ধারালো ছুরি নিয়ে রুনার অফিস কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে তাকে হত্যা করেন। এসব ঘটনার কথা রুনা প্রায়ই তার স্বামীকে জানাতেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযুক্তদের প্রতিক্রিয়া

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার বলেন, “আমাদের এক সহকর্মী মারা গেছেন। আমরা খুবই শোকাহত। তার সঙ্গে আমাদের এমন কোনো বিরোধ ছিল না যে আমরা হত্যার নির্দেশ দেব। বিষয়টি তদন্তাধীন, তদন্তেই সব পরিষ্কার হবে।”

অন্য অভিযুক্ত শিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, “এই ঘটনার সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত। যদি আমি নিজেও এতে জড়িত থাকি, তাহলে আমারও শাস্তি হওয়া উচিত।”

অপর অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

মূল আসামির স্বীকারোক্তি

এদিকে হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ফজলুর রহমান লিখিতভাবে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ও চিকিৎসকরা। বুধবার রাত থেকে তিনি কথা বলতে না পারলেও সাড়া দিচ্ছেন এবং প্রশ্নের উত্তরে লিখে জানাচ্ছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তার দুই পাতার লিখিত বক্তব্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, বদলি এবং বেতন বন্ধ করে দেওয়ার কারণে তার মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।

ঘটনার বিবরণ

গত বুধবার বিকেল চারটার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের ২২৬ নম্বর কক্ষে ঢুকে আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাত করেন ফজলুর রহমান। পরে তিনি নিজেও গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

পরে দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বাদ জোহর কুষ্টিয়া পৌর ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে তাকে কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা: এক বছর পরও স্মৃতির বেদনা অব্যাহত

ইবি শিক্ষিকা রুনা হত্যা

দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তার নির্দেশনার অভিযোগ, মামলা দায়ের

প্রকাশের সময়ঃ ০৩:০০:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিভাগের দুই শিক্ষক ও সাবেক এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যায় নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিহত শিক্ষিকার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান এ অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহারে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক অফিস সহকারী ফজলুর রহমানকে, যিনি সরাসরি ছুরিকাঘাত করে রুনাকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান এবং বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস। এছাড়া আরও অজ্ঞাত ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দণ্ডবিধির ৩০২ ও ১০৯ ধারায় মামলা নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কাজ করছে।

এজাহারে যা বলা হয়েছে

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আসমা সাদিয়া রুনা সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আগের সময়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব বুঝে নিতে চাইলে তৎকালীন সভাপতি শ্যাম সুন্দর সরকার তা দেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, বিভাগের কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস রুনাকে বলেন—তিনি সভাপতি হলেও বিভাগ যেভাবে নির্দেশ দেবে সেভাবেই কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে হবে। তবে রুনা তাতে রাজি না হয়ে বিভাগের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার কথা জানান। এরপর থেকেই তার সঙ্গে শ্যাম সুন্দর সরকার ও বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাসের সম্পর্কের অবনতি ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।

স্বামীর অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় অফিস সহায়ক ফজলুর রহমানকে দিয়ে বিভিন্নভাবে রুনাকে হয়রানি ও অসহযোগিতা করা হতো। এক পর্যায়ে তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলে তিনি লিখিতভাবে ক্ষমা চান। কিন্তু এরপরও একই ধরনের আচরণ অব্যাহত ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও অভিযোগ করা হয়েছে, একবার বিভাগের শিক্ষক হাবিবুর রহমানের সামনেই ফজলুর রহমান রুনার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। বিষয়টি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রোকসানা মিলিকে জানানো হলে তিনি বিভাগে একাডেমিক কমিটির সভা আহ্বানের নির্দেশ দেন। সেই সভায় প্রশাসনিক কারণে ফজলুর রহমানকে সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ সিদ্ধান্তে শিক্ষক হাবিবুর রহমান অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ফজলুর রহমানকে বিভাগে বহাল রাখার বিষয়েও রুনাকে চ্যালেঞ্জ জানান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ফজলুর রহমানকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয় এবং কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাসকেও ১৮ ফেব্রুয়ারি একটি ছাত্রী হলে বদলি করা হয়।

এজাহারে দাবি করা হয়েছে, এসব ঘটনার জের ধরেই বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমানের প্ররোচনা ও নির্দেশনায় ফজলুর রহমান ধারালো ছুরি নিয়ে রুনার অফিস কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে তাকে হত্যা করেন। এসব ঘটনার কথা রুনা প্রায়ই তার স্বামীকে জানাতেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযুক্তদের প্রতিক্রিয়া

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার বলেন, “আমাদের এক সহকর্মী মারা গেছেন। আমরা খুবই শোকাহত। তার সঙ্গে আমাদের এমন কোনো বিরোধ ছিল না যে আমরা হত্যার নির্দেশ দেব। বিষয়টি তদন্তাধীন, তদন্তেই সব পরিষ্কার হবে।”

অন্য অভিযুক্ত শিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, “এই ঘটনার সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত। যদি আমি নিজেও এতে জড়িত থাকি, তাহলে আমারও শাস্তি হওয়া উচিত।”

অপর অভিযুক্ত বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

মূল আসামির স্বীকারোক্তি

এদিকে হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ফজলুর রহমান লিখিতভাবে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ও চিকিৎসকরা। বুধবার রাত থেকে তিনি কথা বলতে না পারলেও সাড়া দিচ্ছেন এবং প্রশ্নের উত্তরে লিখে জানাচ্ছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তার দুই পাতার লিখিত বক্তব্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, বদলি এবং বেতন বন্ধ করে দেওয়ার কারণে তার মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।

ঘটনার বিবরণ

গত বুধবার বিকেল চারটার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের ২২৬ নম্বর কক্ষে ঢুকে আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাত করেন ফজলুর রহমান। পরে তিনি নিজেও গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

পরে দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বাদ জোহর কুষ্টিয়া পৌর ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে তাকে কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়।