
বগুড়া শহরে হঠাৎ করে পেট্রোল ও অকটেনের সংকট দেখা দিয়েছে। বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন মোটরসাইকেল চালকরা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোগান্তি ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেক চালকের অভিযোগ, এটি কৃত্রিম সংকট। তবে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে নিয়মিত সরবরাহ না পাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাত প্রায় ১০টার দিকে শহরের কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
শহরের বগুড়া ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তেল নেওয়ার জন্য অন্তত ৫০ জন মোটরসাইকেল চালক লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। পাম্প থেকে সীমিত পরিমাণে পেট্রোল সরবরাহ করা হলেও অকটেন বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।
তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক কমল বলেন, হঠাৎ করে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ মানুষ বিপদে পড়ে। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা খবর শোনা যাচ্ছে, আর সেই সুযোগে কিছু অসাধু চক্র পরিস্থিতি কাজে লাগাচ্ছে বলে সন্দেহ করছেন অনেকেই।
শাহজাহানপুর উপজেলা থেকে কয়েকটি পাম্প ঘুরে বগুড়া ফিলিং স্টেশনে এসেছেন তৌফিকুল আলম। তিনি বলেন, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তেলের খোঁজে ঘুরছি। মাঝিরা টিএমএসএস পাম্পে অনেক ভিড় থাকায় এখানে এসেছি। এখান থেকেও তেল না পেলে আজ মোটরসাইকেল চালানো কঠিন হয়ে যাবে।
আরেক চালক মিজানুর রহমান বলেন, হঠাৎ করে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে।
বগুড়া ফিলিং স্টেশনের এক কর্মচারী জানান, সকালে বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে তেল আনতে একটি গাড়ি পাঠানো হয়েছিল, যা রাত ৯টার দিকে ফিরে আসে। তিনি বলেন, দুই দিন পর মাত্র একটি গাড়ি তেল পাওয়া গেছে। এই তেল শেষ হয়ে গেলে আবার কবে পাওয়া যাবে, তা নিশ্চিত নয়।
শহরের হক পাম্প অ্যান্ড কোং, নরিমেক্স ফিলিং স্টেশনসহ অন্তত পাঁচটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, অনেক জায়গায় তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বা খুব সীমিত পরিমাণে দেওয়া হচ্ছে।
হক পাম্প অ্যান্ড কোং-এর ক্যাশিয়ার রিমন জানান, বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে তেল আনতে যাওয়া একটি গাড়িকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে জানানো হয়েছে, রোববার বা সোমবারের আগে তেল সরবরাহ করা সম্ভব নয়। ডিপো থেকে হিসাব করে তেল দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
তবে হঠাৎ জ্বালানি তেলের এই সংকটের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেনি। তাদের দাবি, গত দুই দিন ধরেই সরবরাহ কম ছিল এবং বৃহস্পতিবার এসে অনেক পাম্পেই তেল প্রায় শেষ হয়ে যায়।
এদিকে আকস্মিক এই সংকটে মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 



















