
মায়ের কবরের পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট এক কন্যা। যে মায়ের হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল, যার স্নেহে বড় হওয়ার কথা ছিল—আজ সেই মা-ই মাটির নিচে চিরনিদ্রায় শায়িত। এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য উপস্থিত সবার চোখে এনে দিয়েছে অশ্রু।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তার আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্বজনদের মাঝে।
মায়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তার ছোট্ট কন্যার অসহায় মুখ যেন পুরো ঘটনার বেদনা আরও গভীর করে তুলেছে। উপস্থিত অনেকেই জানান, “এ দৃশ্য ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। একটি শিশুর জীবনে সবচেয়ে বড় আশ্রয়ই হলো মা, আর সেই আশ্রয়টাই আজ হারিয়ে গেছে।”
আসমা সাদিয়া রুনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের একজন সুনামধন্য শিক্ষক ছিলেন। সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত মানবিক, মেধাবী ও দায়িত্বশীল। তার অকাল মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক ও শূন্যতা।
সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “রুনা ম্যাম শুধু একজন শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের পথপ্রদর্শক। তার এই করুণ মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তার মৃত্যুতে শোকের ঢেউ বইছে। অনেকেই ছোট্ট কন্যার সেই কবরের পাশের দৃশ্য দেখে গভীর শোক ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছেন।
সকলেই মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছেন—আল্লাহ যেন আসমা সাদিয়া রুনার সকল গুনাহ মাফ করে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং শোকাহত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সইবার শক্তি দান করেন
আফরিনা আমীন নদী, কুষ্টিয়া 


















