ঢাকা ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

টরকী বন্দরে তর্ক থেকে রক্তাক্ত সংঘর্ষ- ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হাসপাতালে

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টরকী বন্দর মসজিদ মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে।

বরিশালের গৌরনদী পৌর এলাকার টরকী বন্দরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক কাপড় ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টরকী বন্দর মসজিদ মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা ওরফে চুন্নু খলিফা (৫৮) বর্তমানে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ওইদিনও মার্কেটে বেচাকেনা চলছিল। এ সময় পার্শ্ববর্তী দোকান ‘তনুশ্রী বস্ত্রালয়’-এর কর্মচারী উজ্জল মালী এক ক্রেতার কাছে থ্রি-পিস বিক্রির সময় আগের বিক্রির পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, গত ঈদ মৌসুমে তাদের দোকানে প্রায় দুই হাজার পিস সমমানের পণ্য বিক্রি হয়েছে।

এ সময় পাশের দোকানে বসে চা পান করছিলেন চুন্নু খলিফা। তিনি ওই দাবির বিরোধিতা করে বলেন, গত রমজান ও ঈদ মৌসুমে এই মার্কেটের কোনো দোকানেই এত বিপুল সংখ্যক থ্রি-পিস বিক্রি হয়নি। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তর্কের একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ক্রেতা পণ্য না কিনেই সরে গেলে বিরোধ আরও তীব্র হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উজ্জল মালী চুন্নু খলিফার ওপর হামলা চালান। প্রথমে কিল-ঘুষি মারার পর একটি চেয়ার দিয়ে আঘাত করা হলে তার মাথা ফেটে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ভর্তি করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চুন্নু খলিফা অভিযোগ করে বলেন, “আমি শুধু সত্য কথাটাই বলেছিলাম। এই সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে আমাকে এভাবে মারধর করা হবে, তা ভাবিনি।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উজ্জল মালী দাবি করেন, ঘটনার সূত্রপাত করেন চুন্নু খলিফাই। তার ভাষ্য, “তিনি আগে আমাকে চেয়ার দিয়ে আঘাত করতে যান। আমি শুধু নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে ধস্তাধস্তি করি। তখনই দুর্ঘটনাবশত একই চেয়ারের আঘাতে তিনি আহত হন।”

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। ব্যবসায়ীরা জানান, ছোটখাটো বিষয় নিয়ে এমন সহিংসতা বাজারের পরিবেশকে নষ্ট করছে এবং নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি করছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে গৌরনদী থানা-এ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, বাজার এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সহনশীলতা ও সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে, সামান্য বিরোধও সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করলে তা বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নিতে পারে—যা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

টরকী বন্দরে তর্ক থেকে রক্তাক্ত সংঘর্ষ- ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হাসপাতালে

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৩২:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

বরিশালের গৌরনদী পৌর এলাকার টরকী বন্দরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক কাপড় ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে টরকী বন্দর মসজিদ মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা ওরফে চুন্নু খলিফা (৫৮) বর্তমানে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ওইদিনও মার্কেটে বেচাকেনা চলছিল। এ সময় পার্শ্ববর্তী দোকান ‘তনুশ্রী বস্ত্রালয়’-এর কর্মচারী উজ্জল মালী এক ক্রেতার কাছে থ্রি-পিস বিক্রির সময় আগের বিক্রির পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, গত ঈদ মৌসুমে তাদের দোকানে প্রায় দুই হাজার পিস সমমানের পণ্য বিক্রি হয়েছে।

এ সময় পাশের দোকানে বসে চা পান করছিলেন চুন্নু খলিফা। তিনি ওই দাবির বিরোধিতা করে বলেন, গত রমজান ও ঈদ মৌসুমে এই মার্কেটের কোনো দোকানেই এত বিপুল সংখ্যক থ্রি-পিস বিক্রি হয়নি। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তর্কের একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ক্রেতা পণ্য না কিনেই সরে গেলে বিরোধ আরও তীব্র হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উজ্জল মালী চুন্নু খলিফার ওপর হামলা চালান। প্রথমে কিল-ঘুষি মারার পর একটি চেয়ার দিয়ে আঘাত করা হলে তার মাথা ফেটে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ভর্তি করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চুন্নু খলিফা অভিযোগ করে বলেন, “আমি শুধু সত্য কথাটাই বলেছিলাম। এই সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে আমাকে এভাবে মারধর করা হবে, তা ভাবিনি।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উজ্জল মালী দাবি করেন, ঘটনার সূত্রপাত করেন চুন্নু খলিফাই। তার ভাষ্য, “তিনি আগে আমাকে চেয়ার দিয়ে আঘাত করতে যান। আমি শুধু নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে ধস্তাধস্তি করি। তখনই দুর্ঘটনাবশত একই চেয়ারের আঘাতে তিনি আহত হন।”

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। ব্যবসায়ীরা জানান, ছোটখাটো বিষয় নিয়ে এমন সহিংসতা বাজারের পরিবেশকে নষ্ট করছে এবং নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি করছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে গৌরনদী থানা-এ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, বাজার এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সহনশীলতা ও সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে, সামান্য বিরোধও সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করলে তা বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নিতে পারে—যা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।