ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি সাইনবোর্ডে ‘ডাক্তার’, আসলে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট! চাঁপাইনবাবগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে ‘অবরুদ্ধ করে’ পিটুনি, আহত ৭; সাংবাদিক-পুলিশও লাঞ্ছিত “মনগড়া প্রচার সংখ্যার ভিত্তিতে আর রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপন নয়”- তথ্যমন্ত্রী শিবগঞ্জে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুনের খেলায় মেতে উঠল শিশুরা মাগুরায় শুরু দুই দিনব্যাপী “হাজরাপুরী লিচু মেলা-২০২৬” দেবিদ্বারে ছেলের পিটুনিতে বাবার মৃত্যু পাটগ্রাম সীমান্তে সাবেক কূটনীতিক আটক, জব্দ ৭ পাসপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উদ্বোধনে গৌরনদীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু পারিবারিক কলহের জেরে নাটোরে বৃদ্ধ স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

ভাতের উপকারিতা ও অপকারিতা: জানুন সঠিক খাওয়ার নিয়ম

সংগৃহীত ছবি।

ভাত বাঙালির প্রধান খাদ্য—এ কথা নতুন নয়। আমাদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় ভাতের উপস্থিতি প্রায় অপরিহার্য। সকাল, দুপুর কিংবা রাত—এক প্লেট ভাত ছাড়া অনেকেরই খাবার অসম্পূর্ণ মনে হয়। তবে শুধু পেট ভরানো নয়, ভাত শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎসও বটে। আবার অতিরিক্ত বা ভুলভাবে খেলে এটি কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

ভাত মূলত কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার, যা শরীরের প্রধান শক্তির জোগান দেয়। এছাড়াও এতে অল্প পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স (বিশেষ করে B1 ও B3), পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ উপাদান থাকে। বাদামী বা লাল চালে (ব্রাউন রাইস) তুলনামূলক বেশি ফাইবার থাকে, যা হজমের জন্য উপকারী।

ভাতে থাকা কার্বোহাইড্রেট দ্রুত শক্তি জোগায়, যা দৈনন্দিন কাজকর্মে সহায়ক। হাইড্রেট মস্তিষ্কের জ্বালানি হিসেবে কাজ করে এবং সেরোটোনিন নিঃসরণে সহায়তা করে, ফলে মন ভালো থাকে। ভাত হালকা ও সহজপাচ্য খাবার। অসুস্থতা বা দুর্বলতার সময় ভাত খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ভাতে থাকা ভিটামিন ও খনিজ উপাদান ত্বক ও চুলের সুস্থতায় ভূমিকা রাখে। যাদের গ্লুটেন অসহিষ্ণুতা রয়েছে, তাদের জন্য ভাত নিরাপদ একটি খাদ্য।বিশেষ করে সাদা ভাত দ্রুত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায়, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।অতিরিক্ত ভাত খেলে ক্যালরি জমে ওজন বেড়ে যেতে পারে।সাদা ভাতে ফাইবার ও কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি তুলনামূলক কম থাকে।কিছু অঞ্চলের চালে সামান্য আর্সেনিক থাকতে পারে, যদিও সঠিকভাবে ধোয়া ও রান্না করলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

দিনে পরিমিত পরিমাণে ভাত খান,রাতে অতিরিক্ত ভাত এড়িয়ে চলুন, সম্ভব হলে লাল চাল বা ব্রাউন রাইস বেছে নিন, ভাতের সঙ্গে শাকসবজি, ডাল, মাছ বা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন, ডায়াবেটিস বা ওজনজনিত সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ভাত আমাদের খাদ্যসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি শরীরে শক্তি জোগায়, সহজে হজম হয় এবং দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়ক। তবে সুস্থ থাকতে হলে ভাত খাওয়ার ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরিমিত ও সঠিক উপায়ে ভাত খাওয়াই স্বাস্থ্যকর জীবনের চাবিকাঠি।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের থাবায় নিঃস্ব পরিবার: সন্তানের চিকিৎসায় বিক্রি হচ্ছে গরু, হারাচ্ছে চাকরি

ভাতের উপকারিতা ও অপকারিতা: জানুন সঠিক খাওয়ার নিয়ম

প্রকাশের সময়ঃ ০৬:৩৬:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

ভাত বাঙালির প্রধান খাদ্য—এ কথা নতুন নয়। আমাদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় ভাতের উপস্থিতি প্রায় অপরিহার্য। সকাল, দুপুর কিংবা রাত—এক প্লেট ভাত ছাড়া অনেকেরই খাবার অসম্পূর্ণ মনে হয়। তবে শুধু পেট ভরানো নয়, ভাত শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎসও বটে। আবার অতিরিক্ত বা ভুলভাবে খেলে এটি কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

ভাত মূলত কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার, যা শরীরের প্রধান শক্তির জোগান দেয়। এছাড়াও এতে অল্প পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স (বিশেষ করে B1 ও B3), পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ উপাদান থাকে। বাদামী বা লাল চালে (ব্রাউন রাইস) তুলনামূলক বেশি ফাইবার থাকে, যা হজমের জন্য উপকারী।

ভাতে থাকা কার্বোহাইড্রেট দ্রুত শক্তি জোগায়, যা দৈনন্দিন কাজকর্মে সহায়ক। হাইড্রেট মস্তিষ্কের জ্বালানি হিসেবে কাজ করে এবং সেরোটোনিন নিঃসরণে সহায়তা করে, ফলে মন ভালো থাকে। ভাত হালকা ও সহজপাচ্য খাবার। অসুস্থতা বা দুর্বলতার সময় ভাত খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ভাতে থাকা ভিটামিন ও খনিজ উপাদান ত্বক ও চুলের সুস্থতায় ভূমিকা রাখে। যাদের গ্লুটেন অসহিষ্ণুতা রয়েছে, তাদের জন্য ভাত নিরাপদ একটি খাদ্য।বিশেষ করে সাদা ভাত দ্রুত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায়, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।অতিরিক্ত ভাত খেলে ক্যালরি জমে ওজন বেড়ে যেতে পারে।সাদা ভাতে ফাইবার ও কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি তুলনামূলক কম থাকে।কিছু অঞ্চলের চালে সামান্য আর্সেনিক থাকতে পারে, যদিও সঠিকভাবে ধোয়া ও রান্না করলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

দিনে পরিমিত পরিমাণে ভাত খান,রাতে অতিরিক্ত ভাত এড়িয়ে চলুন, সম্ভব হলে লাল চাল বা ব্রাউন রাইস বেছে নিন, ভাতের সঙ্গে শাকসবজি, ডাল, মাছ বা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন, ডায়াবেটিস বা ওজনজনিত সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ভাত আমাদের খাদ্যসংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি শরীরে শক্তি জোগায়, সহজে হজম হয় এবং দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়ক। তবে সুস্থ থাকতে হলে ভাত খাওয়ার ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরিমিত ও সঠিক উপায়ে ভাত খাওয়াই স্বাস্থ্যকর জীবনের চাবিকাঠি।