ঢাকা ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়
কামরুল ও পিতা আ,লীগ নেতা মজনু পলাতক

‘স্ত্রীর স্বীকৃতি না পেলে মরব’-বাবুগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কলেজ ছাত্রীর অনশন

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের ম্যাটস কোয়ার্টারে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন শশী।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে এক কলেজছাত্রীর অনশন ঘিরে চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রেম, বিয়ে, অস্বীকৃতি আর অনশনের এই নাটকীয় ঘটনায় সরগরম পুরো এলাকা। অনশনরত কলেজছাত্রী সাদিয়া আক্তার শশী (২৩) ঘোষণা দিয়েছেন—“স্বীকৃতি না পেলে অনশন ভাঙবো না।”

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের ম্যাটস কোয়ার্টারে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন শশী। তার দাবি, বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স মোসাঃ কাজল রেখার ছেলে মোঃ কামরুল ইসলাম নিরবের (২৯) সঙ্গে তার বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু সেই সম্পর্ক অস্বীকার করে তাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নিচ্ছে না নিরবের পরিবার।

অনশনরত শশীর অভিযোগ, সম্পর্কের পর বিয়েও হয়েছে, কিন্তু এখন সামাজিক ও পারিবারিক চাপে নিরবের পরিবার তাকে প্রত্যাখ্যান করছে। স্ত্রীর মর্যাদা না পাওয়া পর্যন্ত সরকারি কোয়ার্টার ছাড়বেন না বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এমনকি আত্মহত্যার হুমকিও দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

অন্যদিকে কামরুলের পরিবার সম্পর্কটি সরাসরি অস্বীকার করেছে। কামরুলের বাবা, বরিশাল সদর উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মজনু মিয়া, এ সম্পর্ক মেনে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না বলে মন্তব্য করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানের দোহাই দিয়ে মেয়ের পরিবারকে ছোট করে দেখা হচ্ছে।

কামরুল ও শশী।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে টানটান উত্তেজনা। উৎসুক জনতার ভিড়, কানাঘুষা আর নানা আলোচনা-সমালোচনায় পুরো এলাকা সরগরম। স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, এটি শুধু পারিবারিক বিরোধ নয়, বরং সামাজিক মর্যাদা ও নারীর অধিকার প্রশ্নে এক প্রতিবাদের রূপ নিয়েছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। অনেকেই অনশনরত ছাত্রীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশাসনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

কামরুল ও পিতা আ,লীগ নেতা মজনু পলাতক

‘স্ত্রীর স্বীকৃতি না পেলে মরব’-বাবুগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কলেজ ছাত্রীর অনশন

প্রকাশের সময়ঃ ০৯:১৮:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে এক কলেজছাত্রীর অনশন ঘিরে চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রেম, বিয়ে, অস্বীকৃতি আর অনশনের এই নাটকীয় ঘটনায় সরগরম পুরো এলাকা। অনশনরত কলেজছাত্রী সাদিয়া আক্তার শশী (২৩) ঘোষণা দিয়েছেন—“স্বীকৃতি না পেলে অনশন ভাঙবো না।”

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের ম্যাটস কোয়ার্টারে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন শশী। তার দাবি, বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স মোসাঃ কাজল রেখার ছেলে মোঃ কামরুল ইসলাম নিরবের (২৯) সঙ্গে তার বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু সেই সম্পর্ক অস্বীকার করে তাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নিচ্ছে না নিরবের পরিবার।

অনশনরত শশীর অভিযোগ, সম্পর্কের পর বিয়েও হয়েছে, কিন্তু এখন সামাজিক ও পারিবারিক চাপে নিরবের পরিবার তাকে প্রত্যাখ্যান করছে। স্ত্রীর মর্যাদা না পাওয়া পর্যন্ত সরকারি কোয়ার্টার ছাড়বেন না বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এমনকি আত্মহত্যার হুমকিও দিয়েছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

অন্যদিকে কামরুলের পরিবার সম্পর্কটি সরাসরি অস্বীকার করেছে। কামরুলের বাবা, বরিশাল সদর উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মজনু মিয়া, এ সম্পর্ক মেনে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না বলে মন্তব্য করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানের দোহাই দিয়ে মেয়ের পরিবারকে ছোট করে দেখা হচ্ছে।

কামরুল ও শশী।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে টানটান উত্তেজনা। উৎসুক জনতার ভিড়, কানাঘুষা আর নানা আলোচনা-সমালোচনায় পুরো এলাকা সরগরম। স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, এটি শুধু পারিবারিক বিরোধ নয়, বরং সামাজিক মর্যাদা ও নারীর অধিকার প্রশ্নে এক প্রতিবাদের রূপ নিয়েছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। অনেকেই অনশনরত ছাত্রীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশাসনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।