
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় নিখোঁজের প্রায় ১৫ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও হুমায়রা জান্নাত (৪) নামে এক শিশুর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। শিশুটিকে উদ্ধারে রাতভর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালালেও এখন পর্যন্ত তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
শনিবার সকাল থেকে শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে জীবিত বা নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারলে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
নিখোঁজ হুমায়রা জান্নাত রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার হাটকানপাড়া বাজার এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা হাসিবুল হোসেন শান্ত স্থানীয়ভাবে একটি ফার্মেসি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে বের হয় হুমায়রা। কিছুক্ষণ পর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। বাড়ির আশপাশের পুকুর, বাগান, ঝোপঝাড় ও জঙ্গল এলাকায় রাতভর তল্লাশি চালানো হয়। তবে কোথাও শিশুটির সন্ধান মেলেনি।
শিশুটির দাদা ইসমাইল হোসেন জানান, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নাতনির কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবার চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছে। তিনি বলেন, “আমার নাতনিকে জীবিত ও নিরাপদে ফিরিয়ে দিতে পারলে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।”
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার সময় হুমায়রার পরনে ছিল কালো রঙের গেঞ্জি ও হাফপ্যান্ট। তার সঙ্গে খেলতে থাকা সমবয়সী শিশুরাও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি। এ কারণে পরিবারের সদস্যদের ধারণা, শিশুটিকে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা চক্রের পক্ষ থেকে মুক্তিপণ দাবি করা হয়নি।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পঞ্চনন্দ জানান, শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, “শুক্রবার রাতভর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, প্রতিবেশী এবং শিশুটির সঙ্গে খেলতে থাকা শিশুদের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এটি অপহরণের ঘটনা কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারণ ঘটনার পর অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও কেউ মুক্তিপণ দাবি করেনি। তারপরও সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় রেখে তদন্ত ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
নিখোঁজ শিশুকে ঘিরে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত শিশুটিকে খুঁজে বের করতে প্রশাসনের আরও জোরালো পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 



















