
পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করায় দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ-সরাইল বিশ্বরোড অংশে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার দিনভর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ গোলচত্বর, সরাইল কুট্টাপাড়া ও বিশ্বরোড মোড় এলাকায় দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা যায়।
সড়কের প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট ছড়িয়ে পড়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। কোথাও কোথাও একই সড়কে কয়েক স্তরে যানবাহন আটকে থাকতে দেখা গেছে।
স্বাভাবিক সময়ে আশুগঞ্জ থেকে সরাইল বিশ্বরোড পর্যন্ত যেতে যেখানে ২০ মিনিট সময় লাগে, সেখানে এখন যাত্রীদের সময় লাগছে দুই থেকে তিন ঘণ্টা।
তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনে আটকে থেকে দুর্ভোগে পড়েছেন নারী, শিশু, বৃদ্ধ, শিক্ষার্থী ও অসুস্থ যাত্রীরা। অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগীরাও দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অনেকে আবার যানজট এড়িয়ে ব্যাগ-লাগেজ নিয়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
দূরপাল্লার কয়েকজন বাসচালক জানান, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত ও ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব স্থানে পানি জমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে পড়ে।
চালকদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নিয়ম না মেনে ওভারটেকিংয়ের কারণেও যানজট তীব্র আকার ধারণ করছে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে অনেক যানবাহনকে বিকল্প পথে কাঁচপুর ব্রিজ হয়ে কুমিল্লা ঘুরে অতিরিক্ত প্রায় ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সিলেট অঞ্চলে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও জ্বালানি খরচ দুটোই বাড়ছে।
এদিকে দীর্ঘ যানজটের সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারী ও পকেটমার চক্র। যাত্রীদের অভিযোগ, ধীরগতির যানবাহনের জানালা দিয়ে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও নারীদের ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত প্রায় ৫১ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প ২০১৭ সালে অনুমোদন পায়। পরে ২০২০ সালে ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড’ প্রকল্পের কাজ শুরু করে।
তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে সরাইল বিশ্বরোড পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার অংশের কাজ এখনো শেষ হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতি ও সমন্বয়হীনতার কারণেই প্রতিদিন দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান বলেন, ঈদ উপলক্ষে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। সীমিত জনবল নিয়েও হাইওয়ে পুলিশ দিনরাত যানজট নিরসনে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, চার লেন প্রকল্পের কাজ দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে যাওয়ায় এবং রাস্তার বিভিন্ন অংশ খুঁড়ে রাখায় দুর্ভোগ বেড়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 

















