
আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে আগাম প্রস্তুতি জোরদার করেছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)। নগরজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সমন্বিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (৬ জুন) রাজশাহী নগরীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে “ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনমূলক র্যালি-২০২৬”। এ সময় রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন ঘোষণা দেন, “ডেঙ্গুমুক্ত রাজশাহী মহানগরী গড়ে তুলতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
সকাল ১১টায় নগর ভবনের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র্যালিটি শুরু হয়ে দড়িখরবোনা মোড়, কাদিরগঞ্জসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় নগর ভবন চত্বরে এসে শেষ হয়। র্যালিতে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বাস্থ্যকর্মী, ওয়ার্ড সচিব, রেড ক্রিসেন্ট ও বিডিক্লিনের স্বেচ্ছাসেবক, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।র্যালি শেষে নগর ভবন চত্বরে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, “ডেঙ্গু একটি ভয়াবহ মশাবাহিত রোগ। তবে সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। নগরবাসীকে নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ড্রেন ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”তিনি বলেন, “রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ইতোমধ্যে ডেঙ্গু মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বর্ষা শুরুর আগেই মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে দুই সপ্তাহব্যাপী ফগার মেশিনে বিশেষ স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে লার্ভা ধ্বংস ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও চলমান থাকবে।”রাসিক প্রশাসক আরও বলেন, “পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলা এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। অতীতে হাম-রুবেলা মোকাবেলায় যেমন কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তেমনি ডেঙ্গু প্রতিরোধেও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া এ যুদ্ধ সফল হবে না।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু বহনকারী এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার ও স্থির পানিতে বংশবিস্তার করে। বাড়ির ছাদে পড়ে থাকা টব, ফুলদানি, পরিত্যক্ত টায়ার, নারিকেলের খোসা, নির্মাণাধীন ভবনের জমে থাকা পানি এবং বিভিন্ন পাত্র এ মশার প্রজননের আদর্শ স্থান। ফলে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সচেতনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল আলম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহমদ আল মঈন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এএএম আঞ্জুমান আরা বেগম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. নূর-ই-সাঈদ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলরবৃন্দ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স রাজশাহীর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্ষা মৌসুমের আগে এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও মশক নিধন অভিযান ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আর নগরবাসী সচেতন হলে ডেঙ্গুমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর রাজশাহী গড়ে তোলার লক্ষ্য অর্জন আরও সহজ হবে।
সৈয়দ মাসুদ, রাজশাহী 

















