ঢাকা ০৭:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়
চাঁপাইনবাবগঞ্জ

হামলা-মামলায় জেলেদের কোণঠাসা করে বিল ভাতিয়া দখল!

শনিবার (৬ জুন) সকাল ১১টায় শিবগঞ্জ উপজেলার কর্নখালী ব্রিজ চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগী মৎস্যজীবী ও কৃষকরা।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিল হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বিল ভাতিয়া দখলকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলা, মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক দখলের মাধ্যমে বিলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। ফলে বৈধভাবে ইজারা পাওয়া মৎস্যজীবীরা মাছ আহরণ থেকে বঞ্চিত হয়ে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে খালে অবৈধ বাঁধ নির্মাণের কারণে প্রায় ২ হাজার একর ফসলি জমি জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে পড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

এ অবস্থার প্রতিবাদে এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে শনিবার (৬ জুন) সকাল ১১টায় শিবগঞ্জ উপজেলার কর্নখালী ব্রিজ চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগী মৎস্যজীবী ও কৃষকরা।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বিল ভাতিয়ার ইজারা পেয়েছে দুর্গাপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। কিন্তু ইজারা পাওয়ার পর থেকেই একটি প্রভাবশালী মহল নানা কৌশলে সমিতির সদস্যদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হয়রানি শুরু করে। একপর্যায়ে অস্ত্রের মুখে জেলেদের বিলে প্রবেশে বাধা দিয়ে বিলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।

বক্তারা আরও বলেন, বিল দখলের পর দখলদাররা কলমুগাড়া এলাকায় একটি খালের ওপর অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করেছে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি জমে আশপাশের প্রায় ২ হাজার একর কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে কয়েক হাজার কৃষক ও মৎস্যজীবীর জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী মৎস্যজীবীরা দাবি করেন, যুগ যুগ ধরে তারা বিল ভাতিয়া থেকে মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে তারা নিজেদের ইজারাকৃত বিলে প্রবেশ করতেই পারছেন না। প্রতিবাদ করলেই হামলা, মামলা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে খালে অবৈধ বাঁধ নির্মাণের কারণে প্রায় ২ হাজার একর ফসলি জমি জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে পড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

তারা অভিযোগ করেন, জামবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসিম মেম্বার এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল কালামের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিল দখল, হামলা এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। যদিও এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “আমরা বৈধ ইজারাদার হয়েও বিলে যেতে পারছি না। মাছ চাষ করে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি। এখন মাছ আহরণ করতে না পেরে সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শত শত জেলে পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হবে।”

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন দুর্গাপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম কালু, সদস্য জিন্নুর আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক আলী, দাইপুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আকতারুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মালেকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

মানববন্ধন শেষে ভুক্তভোগীরা বিল দখলমুক্ত করা, অবৈধ বাঁধ অপসারণ, হামলা-হুমকির বিচার এবং বৈধ ইজারাদারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বিল ভাতিয়াকে কেন্দ্র করে যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘাত সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ বাঁধের কারণে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাজারো কৃষককে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

হামলা-মামলায় জেলেদের কোণঠাসা করে বিল ভাতিয়া দখল!

প্রকাশের সময়ঃ ০৫:৫৮:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিল হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বিল ভাতিয়া দখলকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলা, মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক দখলের মাধ্যমে বিলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। ফলে বৈধভাবে ইজারা পাওয়া মৎস্যজীবীরা মাছ আহরণ থেকে বঞ্চিত হয়ে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে খালে অবৈধ বাঁধ নির্মাণের কারণে প্রায় ২ হাজার একর ফসলি জমি জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে পড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

এ অবস্থার প্রতিবাদে এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে শনিবার (৬ জুন) সকাল ১১টায় শিবগঞ্জ উপজেলার কর্নখালী ব্রিজ চত্বরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগী মৎস্যজীবী ও কৃষকরা।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বিল ভাতিয়ার ইজারা পেয়েছে দুর্গাপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। কিন্তু ইজারা পাওয়ার পর থেকেই একটি প্রভাবশালী মহল নানা কৌশলে সমিতির সদস্যদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হয়রানি শুরু করে। একপর্যায়ে অস্ত্রের মুখে জেলেদের বিলে প্রবেশে বাধা দিয়ে বিলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।

বক্তারা আরও বলেন, বিল দখলের পর দখলদাররা কলমুগাড়া এলাকায় একটি খালের ওপর অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করেছে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি জমে আশপাশের প্রায় ২ হাজার একর কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে কয়েক হাজার কৃষক ও মৎস্যজীবীর জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী মৎস্যজীবীরা দাবি করেন, যুগ যুগ ধরে তারা বিল ভাতিয়া থেকে মাছ আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে তারা নিজেদের ইজারাকৃত বিলে প্রবেশ করতেই পারছেন না। প্রতিবাদ করলেই হামলা, মামলা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে খালে অবৈধ বাঁধ নির্মাণের কারণে প্রায় ২ হাজার একর ফসলি জমি জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে পড়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।

তারা অভিযোগ করেন, জামবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসিম মেম্বার এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল কালামের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিল দখল, হামলা এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। যদিও এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “আমরা বৈধ ইজারাদার হয়েও বিলে যেতে পারছি না। মাছ চাষ করে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি। এখন মাছ আহরণ করতে না পেরে সর্বস্বান্ত হওয়ার পথে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শত শত জেলে পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হবে।”

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন দুর্গাপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম কালু, সদস্য জিন্নুর আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক আলী, দাইপুকুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আকতারুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মালেকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

মানববন্ধন শেষে ভুক্তভোগীরা বিল দখলমুক্ত করা, অবৈধ বাঁধ অপসারণ, হামলা-হুমকির বিচার এবং বৈধ ইজারাদারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

স্থানীয়দের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বিল ভাতিয়াকে কেন্দ্র করে যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘাত সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ বাঁধের কারণে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাজারো কৃষককে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে।