
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদক, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশের জোরালো অভিযানে ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং মাদক নির্মূলে পরিচালিত এ বিশেষ অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা ও চোলাই মদও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অপরাধ দমনে চলমান ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৫ জুন) সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুক্রবার (৬ জুন) সকাল পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। জেলা পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এস.এম. ওয়াসিম ফিরোজ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবাবগঞ্জ সদর সার্কেল) মো. ইয়াসির আরাফাতের তত্ত্বাবধানে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
অভিযানে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. একরামুল হোসাইন পিপিএম, ওসি (অপারেশন) মোহাম্মদ আব্দুর রউফ তালুকদারসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা অংশ নেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৬ জন মাদক ব্যবসায়ী, ১০ জন মাদকসেবী, সিআর সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত ১ জন, সাধারণ ওয়ারেন্টভুক্ত ৩ জন এবং নিয়মিত মামলার ১ জন আসামি রয়েছে। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫০০ গ্রাম গাঁজা এবং ২০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া ইয়াবাসহ গ্রেফতার হওয়া দুই আসামিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে একজনকে ২১ দিনের এবং অন্যজনকে ৩০ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বকুল আলী, দেলোয়ার, আসলাম আলী, খলিল, রহিত ইসলাম, আসাদুল্লাহ, সুমন আলী, আব্দুস সালাম, দুলাল, মোমেনা খাতুন, জাহিরুল ইসলাম, আব্দুল আলীম, জুয়েল রানা, বাবু, শাহিন রেজা, হযরত আলী, কৃষ্ণ চৌধুরী, নয়ন হালদার, নাসির উদ্দিন, রাকিমুদ্দিন ও জাহিদ হাসান কাওসারসহ মোট ২১ জন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি একরামুল হোসাইন পিপিএম বলেন, “গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। কয়েকজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তবর্তী এই জেলায় মাদক ও অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
জেলা পুলিশ সাধারণ জনগণকে মাদক ও অপরাধবিরোধী তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, “অপরাধ দমনে পুলিশ ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগই সবচেয়ে বড় শক্তি।”
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 

















