
অবশেষে ধসে পড়ল বহুদিনের ঝুঁকিপূর্ণ গোয়াতলা বেইলি ব্রিজ। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি উপেক্ষিত থাকার পর কংস নদীর ওপর নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি ভেঙে পড়ায় ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার হাজারো মানুষের জীবনযাত্রা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর অবস্থা সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তাদের ভোগান্তির চিত্র শুনেন। এ সময় তিনি দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধোবাউড়া-তারাকান্দা সড়কের গোয়াতলা বেইলি ব্রিজটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। প্রায় এক দশক আগে এটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হলেও স্থায়ী সেতু নির্মাণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি ব্যবহার করতে হয়েছে এলাকাবাসীকে।
সেতুটি ধসে পড়ার ফলে ধোবাউড়া উপজেলার সঙ্গে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ, স্কুল-কলেজে যাতায়াত, রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এবং দৈনন্দিন ব্যবসা-বাণিজ্যে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে মানুষকে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
পরিদর্শন শেষে প্রিন্স বলেন, “এটি শুধু একটি সেতু নয়, পুরো এলাকার অর্থনীতি ও জনজীবনের লাইফলাইন। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।”
তিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, এলজিইডি এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ভেঙে পড়া বেইলি ব্রিজ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে অন্তর্বর্তীকালীনভাবে যান চলাচল স্বাভাবিক করা যায়।
প্রিন্স আরও বলেন, “শুধু অস্থায়ী মেরামত নয়, স্থায়ী ও টেকসই সেতু নির্মাণই এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
পরিদর্শনকালে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, এলজিইডির প্রকৌশলী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দ্রুত কারিগরি মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর উদাসীনতা ও ধীরগতির কারণে আজ এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, আর কোনো আশ্বাস নয়—দ্রুত একটি আধুনিক ও স্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করতে হবে।
গোয়াতলা বেইলি ব্রিজ ধসের ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন না হলে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর পতন পুরো অঞ্চলের জনজীবনকে অচল করে দিতে পারে। এখন ধোবাউড়াবাসীর একটাই প্রশ্ন—কবে মিলবে স্থায়ী সেতু, আর কবে শেষ হবে দুর্ভোগের এই দীর্ঘ অধ্যায়?
শফিয়েল আলম সুমন, ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ 

















