ঢাকা ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়
ঘুষ নাকি বৈধ লেনদেন?

বাগমারা থানায় টাকা নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

ভিডিও থেকে সংগৃহীত ছবি।

রাজশাহীর বাগমারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কমলেশ দাসকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাকে এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম গ্রহণ, খাম থেকে টাকা বের করে গুনে দেখা এবং পরে নিজের মানিব্যাগে রাখতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে রাজশাহী পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৮ জুন) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী জেলা পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশে কমলেশ দাসকে বাগমারা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। একইসঙ্গে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে।

৫২ সেকেন্ডের ভিডিওতে যা দেখা গেল

রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৫২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, বাগমারা থানার তদন্ত কর্মকর্তা কমলেশ দাস তার কার্যালয়ে বসে আছেন। এ সময় এক ব্যক্তি তার হাতে একটি খাম তুলে দেন। খামটি গ্রহণের পর তিনি ভেতর থেকে টাকা বের করে দ্রুত গুনে দেখেন এবং পরে সেই টাকা নিজের মানিব্যাগে রেখে দেন।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, অর্থ গ্রহণের পুরো সময়জুড়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে তিনি স্বাভাবিক ও হাস্যোজ্জ্বলভাবে কথা বলছেন। পরে টেবিলের ওপর থাকা একটি লাল রঙের খাতার কিছু অংশ দেখিয়ে তাকে কিছু বোঝাতেও দেখা যায়।

তবে ভিডিওতে অর্থ প্রদানকারী ব্যক্তির মুখ স্পষ্ট নয় এবং ভিডিওটির অডিও অংশও বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে অর্থ গ্রহণের প্রকৃত কারণ কিংবা দু’জনের মধ্যে কী ধরনের আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ফেসবুক থেকে শুরু, মুহূর্তেই ভাইরাল

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘কাজিম বাবু’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে প্রথম ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। এরপর দ্রুতই সেটি বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ, পেজ ও ব্যক্তিগত আইডিতে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই ঘটনাটিকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ তদন্ত ছাড়া চূড়ান্ত মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিন মাস আগেই যোগদান

পুলিশ সূত্র বলছে, কমলেশ দাস প্রায় তিন মাস আগে বাগমারা থানায় পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে যোগদান করেন। এরই মধ্যে ভাইরাল হওয়া এই ভিডিও তার কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

ভিডিও প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কমলেশ দাস বলেন,
“কে, কখন এবং কীভাবে ভিডিও ধারণ করেছে, আমি বুঝতে পারছি না। অনেক সময় রেশন বাবদ কিংবা বিভিন্ন বৈধ খাতে মানুষ টাকা নিয়ে আসে। বিষয়টি না জেনে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া ঠিক হবে না।”

তবে তিনি ভিডিওতে দেখা অর্থ গ্রহণের ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

পুলিশের বক্তব্য: তদন্তে সত্যতা মিললে ব্যবস্থা

রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন,
“ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বাগমারা থানা থেকে প্রত্যাহার করে রাজশাহী পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তিনি আরও জানান, ভিডিওটির উৎস, ঘটনার প্রেক্ষাপট এবং অর্থ লেনদেনের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জনমনে প্রশ্ন, তদন্তে মিলবে উত্তর?

ভাইরাল ভিডিওটি প্রকাশের পর বাগমারা ও রাজশাহীর বিভিন্ন মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। থানার ভেতরে বসেই একজন তদন্ত কর্মকর্তার হাতে খাম পৌঁছানো এবং পরে টাকা গুনে মানিব্যাগে রাখার দৃশ্য জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

তবে ভিডিওটি এককভাবে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করে না। কারণ ভিডিওতে লেনদেনের উদ্দেশ্য, অর্থের উৎস কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য স্পষ্ট নয়। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ঘটনাটিকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, তদন্ত যেন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয় এবং প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়। এখন সবার নজর জেলা পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের দিকে—ভাইরাল ভিডিওর পেছনে সত্যিই কোনো অনিয়ম আছে, নাকি এটি ছিল বৈধ কোনো আর্থিক লেনদেন, তার উত্তর মিলবে তদন্তেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

ঘুষ নাকি বৈধ লেনদেন?

বাগমারা থানায় টাকা নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৩৪:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

রাজশাহীর বাগমারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কমলেশ দাসকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাকে এক ব্যক্তির কাছ থেকে খাম গ্রহণ, খাম থেকে টাকা বের করে গুনে দেখা এবং পরে নিজের মানিব্যাগে রাখতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে রাজশাহী পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৮ জুন) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী জেলা পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশে কমলেশ দাসকে বাগমারা থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। একইসঙ্গে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে।

৫২ সেকেন্ডের ভিডিওতে যা দেখা গেল

রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৫২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, বাগমারা থানার তদন্ত কর্মকর্তা কমলেশ দাস তার কার্যালয়ে বসে আছেন। এ সময় এক ব্যক্তি তার হাতে একটি খাম তুলে দেন। খামটি গ্রহণের পর তিনি ভেতর থেকে টাকা বের করে দ্রুত গুনে দেখেন এবং পরে সেই টাকা নিজের মানিব্যাগে রেখে দেন।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, অর্থ গ্রহণের পুরো সময়জুড়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে তিনি স্বাভাবিক ও হাস্যোজ্জ্বলভাবে কথা বলছেন। পরে টেবিলের ওপর থাকা একটি লাল রঙের খাতার কিছু অংশ দেখিয়ে তাকে কিছু বোঝাতেও দেখা যায়।

তবে ভিডিওতে অর্থ প্রদানকারী ব্যক্তির মুখ স্পষ্ট নয় এবং ভিডিওটির অডিও অংশও বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে অর্থ গ্রহণের প্রকৃত কারণ কিংবা দু’জনের মধ্যে কী ধরনের আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ফেসবুক থেকে শুরু, মুহূর্তেই ভাইরাল

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘কাজিম বাবু’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে প্রথম ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। এরপর দ্রুতই সেটি বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ, পেজ ও ব্যক্তিগত আইডিতে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই ঘটনাটিকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ তদন্ত ছাড়া চূড়ান্ত মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিন মাস আগেই যোগদান

পুলিশ সূত্র বলছে, কমলেশ দাস প্রায় তিন মাস আগে বাগমারা থানায় পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে যোগদান করেন। এরই মধ্যে ভাইরাল হওয়া এই ভিডিও তার কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

ভিডিও প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কমলেশ দাস বলেন,
“কে, কখন এবং কীভাবে ভিডিও ধারণ করেছে, আমি বুঝতে পারছি না। অনেক সময় রেশন বাবদ কিংবা বিভিন্ন বৈধ খাতে মানুষ টাকা নিয়ে আসে। বিষয়টি না জেনে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া ঠিক হবে না।”

তবে তিনি ভিডিওতে দেখা অর্থ গ্রহণের ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

পুলিশের বক্তব্য: তদন্তে সত্যতা মিললে ব্যবস্থা

রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন,
“ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বাগমারা থানা থেকে প্রত্যাহার করে রাজশাহী পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

তিনি আরও জানান, ভিডিওটির উৎস, ঘটনার প্রেক্ষাপট এবং অর্থ লেনদেনের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জনমনে প্রশ্ন, তদন্তে মিলবে উত্তর?

ভাইরাল ভিডিওটি প্রকাশের পর বাগমারা ও রাজশাহীর বিভিন্ন মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। থানার ভেতরে বসেই একজন তদন্ত কর্মকর্তার হাতে খাম পৌঁছানো এবং পরে টাকা গুনে মানিব্যাগে রাখার দৃশ্য জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

তবে ভিডিওটি এককভাবে কোনো অভিযোগ প্রমাণ করে না। কারণ ভিডিওতে লেনদেনের উদ্দেশ্য, অর্থের উৎস কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য স্পষ্ট নয়। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ঘটনাটিকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, তদন্ত যেন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয় এবং প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়। এখন সবার নজর জেলা পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের দিকে—ভাইরাল ভিডিওর পেছনে সত্যিই কোনো অনিয়ম আছে, নাকি এটি ছিল বৈধ কোনো আর্থিক লেনদেন, তার উত্তর মিলবে তদন্তেই।