
চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানকে আগামী ১৫ দিন বনরুটি সরবরাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন ২০২৬) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন এবং সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ২১৩টি বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের খাবার সরবরাহ করে গ্রাম উন্নয়ন কর্ম (গাক) নামের একটি বেসরকারি সংস্থা। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার সালিম ডোলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই প্রকল্পের আওতায় ডিম ও পাউরুটি খেয়ে ১৫ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এদের মধ্যে ১০ জনকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সবার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে ছাড়পত্র দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মাহবুব হাসান।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন জানান, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার উপজেলা মনিটরিং কমিটির সভায় আগামী ১৫ দিনের জন্য বনরুটি সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ডিম ও কলা সরবরাহ চালু থাকবে, এবং তা অভিভাবকদের নিয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে যাচাই করা হবে। তিনি আরও জানান, ঘটনায় ব্যবহৃত খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলো পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও জানান, এর আগেও গাক-এর সরবরাহকৃত খাবার খেয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। সেবারও নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল, তবে সেই প্রতিবেদন এখনও উপজেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়নি। পরবর্তীতে কিছু শর্ত আরোপ করে গাককে পুনরায় সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
এ ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুরুল হোদা বৃহস্পতিবার সকালে সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন। ওসি একরামুল হোসাইন জানান, বিষয়টিতে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২২ এপ্রিল জেলা শহরের শংকরবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও একই প্রকল্পের পাউরুটি খেয়ে ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছিল। সেসময় পেট ব্যথা, বমি ও চোখ-মুখ জ্বালাপোড়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছিল শিক্ষার্থীদের।
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 



















