ঢাকা ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি রাজশাহীতে শুরু হলো এইচএসসি পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে সোয়া লাখের বেশি শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষার সকালেই নিভে গেল তিশার স্বপ্ন-এক মৃত্যুর শোক, হাজার প্রশ্নের ভার শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু এইচএসসি পরীক্ষা, কারাগার থেকে পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ, সালিশ শেষে হামলায় বিএনপি নেতা নিহত লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রত্যাহার বরিশালে ভূমি অফিসে অনিয়মের প্রমাণ, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বেরোবির ৪ মেধাবী নারী শিক্ষার্থী পেলেন ‘হাসনা ইলাহি মেমোরিয়াল স্কলারশিপ’ যুবদল নেতার চেম্বারে চার যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে তোলপাড়

রাজশাহীতে পারিবারিক কলহে স্কুলশিক্ষক নিহত, মাস্টার্স পড়ুয়া ছেলে পলাতক

রাজশাহীর মেহেরচণ্ডী এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে নিহত স্কুলশিক্ষক রেজাউল করিমের ঘটনাস্থল। ছবি: প্রতিনিধি

রাজশাহী মহানগরীতে পারিবারিক কলহের জেরে এক হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নগরীর মেহেরচণ্ডী এলাকায় ছেলের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন রেজাউল করিম (৬০) নামের এক স্কুলশিক্ষক। অভিযুক্ত ছেলে রাকিবুল করিম (২৭) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) শিক্ষার্থী। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।

সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেহেরচণ্ডী বেড়ার মসজিদ এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে একপর্যায়ে বাবা-ছেলের তর্ক ভয়াবহ রূপ নেয় এবং তা শেষ হয় নির্মম হত্যাকাণ্ডে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল থেকেই পরিবারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রেজাউল করিম, তার স্ত্রী এবং ছেলে রাকিবুল করিমের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা চলছিল। একপর্যায়ে রাকিবুল চরম উত্তেজিত হয়ে ঘরে থাকা একটি ভারী মুগুর তুলে নিয়ে তার বাবার মাথায় পরপর কয়েকটি আঘাত করেন। গুরুতর জখম হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মারা যান রেজাউল করিম।

ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত রাকিবুল করিম পালিয়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পুলিশকে খবর দিলে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত রেজাউল করিম দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানান, এমন নৃশংস ঘটনার কথা তারা কখনো কল্পনাও করেননি। পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এভাবে হত্যাকাণ্ডে রূপ নেবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি।

চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন,
“খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে ছেলে তার বাবাকে মুগুর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে। অভিযুক্ত ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

পারিবারিক কলহ থেকে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজশাহীজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করা হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ সশস্ত্র আনসার মোতায়েন

রাজশাহীতে পারিবারিক কলহে স্কুলশিক্ষক নিহত, মাস্টার্স পড়ুয়া ছেলে পলাতক

প্রকাশের সময়ঃ ০৫:৪৬:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

রাজশাহী মহানগরীতে পারিবারিক কলহের জেরে এক হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নগরীর মেহেরচণ্ডী এলাকায় ছেলের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন রেজাউল করিম (৬০) নামের এক স্কুলশিক্ষক। অভিযুক্ত ছেলে রাকিবুল করিম (২৭) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) শিক্ষার্থী। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।

সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেহেরচণ্ডী বেড়ার মসজিদ এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে একপর্যায়ে বাবা-ছেলের তর্ক ভয়াবহ রূপ নেয় এবং তা শেষ হয় নির্মম হত্যাকাণ্ডে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল থেকেই পরিবারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রেজাউল করিম, তার স্ত্রী এবং ছেলে রাকিবুল করিমের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা চলছিল। একপর্যায়ে রাকিবুল চরম উত্তেজিত হয়ে ঘরে থাকা একটি ভারী মুগুর তুলে নিয়ে তার বাবার মাথায় পরপর কয়েকটি আঘাত করেন। গুরুতর জখম হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মারা যান রেজাউল করিম।

ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত রাকিবুল করিম পালিয়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পুলিশকে খবর দিলে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত রেজাউল করিম দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানান, এমন নৃশংস ঘটনার কথা তারা কখনো কল্পনাও করেননি। পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এভাবে হত্যাকাণ্ডে রূপ নেবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি।

চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন,
“খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে ছেলে তার বাবাকে মুগুর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে। অভিযুক্ত ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

পারিবারিক কলহ থেকে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজশাহীজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করা হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।