
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মামুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে নলকূপের পানি পান করে অন্তত ৩৭ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে এই ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দ্রুত উদ্ধার করে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, কেউ বা কারা সকালে বিদ্যালয়ের নলকূপে কীটনাশক জাতীয় তরল পদার্থ মিশিয়ে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা তা না জেনেই পানি পান করার পরপরই একের পর এক অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে। নলকূপের পাশ থেকে পলিথিনে ভরা সাদা পেস্টের মতো সন্দেহজনক বস্তুও উদ্ধার করা হয়েছে।
নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদীর জানান, বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত ৩৭ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে আসে। তাদের মধ্যে ২৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং বাকি ৬ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থী মারুফা আক্তার জানায়, ঝালমুড়ি খাওয়ার পর তারা কয়েকজন বিদ্যালয়ের পাশের নলকূপ থেকে পানি পান করে। এরপরই বমি হয়ে শরীর খারাপ হতে শুরু করে। তার মতে, সবাই ঝালমুড়ি খায়নি — অনেকে শুধু গরমে পানি পান করেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
মামুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সকালে শিক্ষার্থীরা পর্যায়ক্রমে অসুস্থ হতে থাকলে শিক্ষকরা দ্রুত পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তাদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
মামুদনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ জজ কামাল বলেন, নলকূপের পানিতে ইচ্ছাকৃতভাবে বিষাক্ত পদার্থ মেশানো হয়েছে বলে তার ধারণা। এটি পরিকল্পিত নাশকতা কিনা তা তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত ও শাস্তির আওতায় আনা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নাগরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাদীর আহমেদ জানান, ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। নলকূপের পাশ থেকে উদ্ধার করা সাদা পেস্টজাতীয় বস্তু পানিতে মেশানোর কারণেই বিষক্রিয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের অবস্থা এখন অনেকটাই উন্নত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরফান উদ্দিন জানান, নলকূপের পানিতে সত্যিই কোনো বিষাক্ত পদার্থ মেশানো হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হতে পানির নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। ল্যাব রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 

















