ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
বাগাতিপাড়ায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা বাগাতিপাড়ায় বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন, কেক কাটা ‘গত ১৭ বছরে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে’-আইনমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ‘বিশ্ব ক্রিকেটকে ভালো বার্তা’ দেওয়ার কথা বললেন শান্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদ্বোধন নোয়াখালীতে তিন শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন সিলেটে হামে আরও এক শিশুর মৃত্যু, বিভাগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৬ চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনের ধাক্কায় নারীর মৃত্যু পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়, টাইগারদের অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী

সামিটের এলএনজি টার্মিনাল চালু, বাড়ছে গ্যাস সরবরাহ; লোডশেডিং কমার আশা

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৯:০৩:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২৪৫ Time View

মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।

মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে আবারও গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। টানা কয়েক দিনের গ্যাস সংকটের মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ চালু করা হয়।

সামিট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুরুতে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ১১ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ধাপে ধাপে এই পরিমাণ বাড়িয়ে শনিবার রাত ২টার মধ্যে প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুটে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সামিটের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ কমে প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়। টার্মিনালটি ফের চালু হওয়ার পর সরবরাহ বেড়ে এখন প্রায় ২০১ কোটি ঘনফুট হয়েছে।

দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহে বড় ঘাটতি থাকায় শিল্প, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে এই খাতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো হলেও বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ঘাটতি অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার ভোরে বিদ্যুৎ ঘাটতি বেশি ছিল

ছুটির দিন শুক্রবারও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতিতে ঘাটতি দেখা গেছে। পাওয়ার গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ১টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯২৪ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৪ হাজার ২৮০ মেগাওয়াট। এতে ঘাটতি দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৪৪ মেগাওয়াট।

রাত ২টায় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৭১৯ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ১৩ হাজার ৯১০ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮০৯ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৭৭৩ মেগাওয়াট এবং ভোর ৪টায় ১ হাজার ৭২৮ মেগাওয়াট। ভোর ৫টায় ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট।

তবে সকাল হওয়ার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি দেখা যায়। সকাল ৬টায় ঘাটতি ছিল ৬০৯ মেগাওয়াট, ৭টায় ৩০৪ মেগাওয়াট। সকাল ৮টায় তা কমে ১৮৫ মেগাওয়াট এবং ৯টায় ১৬৯ মেগাওয়াটে নেমে আসে।

সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহ প্রায় কাছাকাছি ছিল। দুপুর ১টায় ১৪ হাজার ৪৬৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয় ১৪ হাজার ৪১৪ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ঘাটতি ছিল মাত্র ৫২ মেগাওয়াট। দুপুর ২টায় ঘাটতি আরও কমে দাঁড়ায় ২২ মেগাওয়াটে।

ফলে শুক্রবার ভোরে বিদ্যুৎ ঘাটতি তুলনামূলক বেশি থাকলেও দিনের দিকে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়। সামিট থেকে গ্যাস সরবরাহ আরও বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

যেভাবে শুরু হয় গ্যাস সংকট

মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের দৈনিক সক্ষমতা প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট। অন্যদিকে সামিটের টার্মিনালের স্বাভাবিক সক্ষমতা প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট।

তবে শুক্রবার সামিট জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে তাদের টার্মিনাল থেকে প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে টার্মিনালটির গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা কমে যায়। এর পর জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে সামিটের ওপর নির্ভরতা বেড়ে যায়।

একপর্যায়ে সামিটের টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫৬ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করা হয়। পরে তা প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুটে সীমিত রাখা হয়।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে এলএনজি বহনকারী একটি কার্গো বঙ্গোপসাগরে পৌঁছালেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেটিকে টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে নতুন কার্গো থেকে এলএনজি গ্রহণ করা যায়নি।

এ অবস্থায় টার্মিনালে থাকা মজুত এলএনজি দিয়ে সামিট সরবরাহ অব্যাহত রাখে। মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া ঠেকাতে সোমবার সন্ধ্যা থেকে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার তা ২০ কোটি ঘনফুটে নামানো হয়। বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হচ্ছিল।

শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে সামিটের গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। এর আগের দিন বুধবার সরবরাহ ছিল প্রায় ২০৩ কোটি ঘনফুট।

স্বাভাবিক সময়ে দেশে দৈনিক প্রায় ২৬০ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস বাড়লেও শিল্পে সংকট

গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার পরও বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে এই খাতে গ্যাসের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। আগে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো প্রতিদিন প্রায় ৬৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেত। বর্তমানে দেওয়া হচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট।

সার কারখানায় যাচ্ছে প্রায় ১৪ কোটি ঘনফুট। আর শিল্প, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য খাতে মিলছে প্রায় ৮৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস।

তিন সপ্তাহ আগেও শিল্প, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য খাতে দৈনিক প্রায় ১৬০ থেকে ১৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু রাখার জন্য গ্যাস বরাদ্দ বাড়ানো হলেও অন্যান্য খাতে সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ জানিয়েছেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কারখানাগুলোর উৎপাদন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

গ্যাস পরিস্থিতিতে কতটা স্বস্তি আসবে?

সামিটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ঘাটতি কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়িয়ে শনিবার রাত ২টার মধ্যে প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুটে নেওয়া হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাসের জোগান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

তবে শুধু সামিটের টার্মিনাল চালু হলেই দেশের গ্যাস পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। এক্সিলারেট এনার্জির ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে হবে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে। প্রতিটির সক্ষমতা দৈনিক ৩০ কোটি ঘনফুট। অগ্নিকাণ্ডে একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অপর বয়লার থেকে গত ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি পুনরায় চালুর প্রস্তুতিও চলছে।

তবে সেটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা কবে শুরু হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। বয়লারটি পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরানোর আগে টার্মিনাল থেকে টানা ৭২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার প্রয়োজন হতে পারে।

সামিটের সরবরাহ বাড়ায় আপাতত গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও দুটি এলএনজি টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরে না আসা পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগাতিপাড়ায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

সামিটের এলএনজি টার্মিনাল চালু, বাড়ছে গ্যাস সরবরাহ; লোডশেডিং কমার আশা

প্রকাশের সময়ঃ ০৯:০৩:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে আবারও গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। টানা কয়েক দিনের গ্যাস সংকটের মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ চালু করা হয়।

সামিট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুরুতে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ১১ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ধাপে ধাপে এই পরিমাণ বাড়িয়ে শনিবার রাত ২টার মধ্যে প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুটে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সামিটের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ কমে প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুটে নেমে যায়। টার্মিনালটি ফের চালু হওয়ার পর সরবরাহ বেড়ে এখন প্রায় ২০১ কোটি ঘনফুট হয়েছে।

দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহে বড় ঘাটতি থাকায় শিল্প, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে এই খাতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো হলেও বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ঘাটতি অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার ভোরে বিদ্যুৎ ঘাটতি বেশি ছিল

ছুটির দিন শুক্রবারও বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতিতে ঘাটতি দেখা গেছে। পাওয়ার গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ১টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৯২৪ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৪ হাজার ২৮০ মেগাওয়াট। এতে ঘাটতি দাঁড়ায় ১ হাজার ৬৪৪ মেগাওয়াট।

রাত ২টায় চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৭১৯ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ১৩ হাজার ৯১০ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৮০৯ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৭৭৩ মেগাওয়াট এবং ভোর ৪টায় ১ হাজার ৭২৮ মেগাওয়াট। ভোর ৫টায় ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৫৯০ মেগাওয়াট।

তবে সকাল হওয়ার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি দেখা যায়। সকাল ৬টায় ঘাটতি ছিল ৬০৯ মেগাওয়াট, ৭টায় ৩০৪ মেগাওয়াট। সকাল ৮টায় তা কমে ১৮৫ মেগাওয়াট এবং ৯টায় ১৬৯ মেগাওয়াটে নেমে আসে।

সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহ প্রায় কাছাকাছি ছিল। দুপুর ১টায় ১৪ হাজার ৪৬৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয় ১৪ হাজার ৪১৪ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ঘাটতি ছিল মাত্র ৫২ মেগাওয়াট। দুপুর ২টায় ঘাটতি আরও কমে দাঁড়ায় ২২ মেগাওয়াটে।

ফলে শুক্রবার ভোরে বিদ্যুৎ ঘাটতি তুলনামূলক বেশি থাকলেও দিনের দিকে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়। সামিট থেকে গ্যাস সরবরাহ আরও বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

যেভাবে শুরু হয় গ্যাস সংকট

মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের দৈনিক সক্ষমতা প্রায় ৬০ কোটি ঘনফুট। অন্যদিকে সামিটের টার্মিনালের স্বাভাবিক সক্ষমতা প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুট।

তবে শুক্রবার সামিট জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে তাদের টার্মিনাল থেকে প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে টার্মিনালটির গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা কমে যায়। এর পর জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে সামিটের ওপর নির্ভরতা বেড়ে যায়।

একপর্যায়ে সামিটের টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫৬ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করা হয়। পরে তা প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুটে সীমিত রাখা হয়।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে এলএনজি বহনকারী একটি কার্গো বঙ্গোপসাগরে পৌঁছালেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেটিকে টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে নতুন কার্গো থেকে এলএনজি গ্রহণ করা যায়নি।

এ অবস্থায় টার্মিনালে থাকা মজুত এলএনজি দিয়ে সামিট সরবরাহ অব্যাহত রাখে। মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া ঠেকাতে সোমবার সন্ধ্যা থেকে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার তা ২০ কোটি ঘনফুটে নামানো হয়। বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হচ্ছিল।

শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে সামিটের গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। এর আগের দিন বুধবার সরবরাহ ছিল প্রায় ২০৩ কোটি ঘনফুট।

স্বাভাবিক সময়ে দেশে দৈনিক প্রায় ২৬০ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস বাড়লেও শিল্পে সংকট

গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার পরও বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে এই খাতে গ্যাসের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। আগে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো প্রতিদিন প্রায় ৬৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেত। বর্তমানে দেওয়া হচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট।

সার কারখানায় যাচ্ছে প্রায় ১৪ কোটি ঘনফুট। আর শিল্প, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য খাতে মিলছে প্রায় ৮৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস।

তিন সপ্তাহ আগেও শিল্প, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য খাতে দৈনিক প্রায় ১৬০ থেকে ১৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু রাখার জন্য গ্যাস বরাদ্দ বাড়ানো হলেও অন্যান্য খাতে সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ জানিয়েছেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কারখানাগুলোর উৎপাদন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

গ্যাস পরিস্থিতিতে কতটা স্বস্তি আসবে?

সামিটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ঘাটতি কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে সরবরাহ বাড়িয়ে শনিবার রাত ২টার মধ্যে প্রায় ৫৫ কোটি ঘনফুটে নেওয়া হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাসের জোগান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

তবে শুধু সামিটের টার্মিনাল চালু হলেই দেশের গ্যাস পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। এক্সিলারেট এনার্জির ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে হবে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে। প্রতিটির সক্ষমতা দৈনিক ৩০ কোটি ঘনফুট। অগ্নিকাণ্ডে একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অপর বয়লার থেকে গত ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি পুনরায় চালুর প্রস্তুতিও চলছে।

তবে সেটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা কবে শুরু হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। বয়লারটি পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরানোর আগে টার্মিনাল থেকে টানা ৭২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার প্রয়োজন হতে পারে।

সামিটের সরবরাহ বাড়ায় আপাতত গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও দুটি এলএনজি টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরে না আসা পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম।