ঢাকা ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
একসঙ্গে নিভল পাঁচ শিশুর প্রাণের প্রদীপ- পাশাপাশি কবরে শায়িত যাত্রাবাড়ী থানা থেকে পালানো নারী আসামি কেরানীগঞ্জে আটক রংপুরে ৪ খুন-গাফিলতির কোন সুযোগ নেই, আশ্বাস নতুন পুলিশ কমিশনারের নেপালের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন- দেশে ফিরে অপু বিশ্বাস টঙ্গীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে আটক ৩ গাজীপুরে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যা রূপগঞ্জে পরিত্যক্ত ভবন থেকে ৫ পাইপগান ও সাড়ে ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার দুর্গাপুরে চুরির অভিযোগে কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল কারওয়ান বাজারে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে অগ্নিকাণ্ড, স্থানীয়দের তৎপরতায় নিয়ন্ত্রণ গোপালগঞ্জে মাইক্রোবাস-মোটরসাইকেল-বাসের ত্রিমুখী সংঘর্ষে আহত ৪০

ময়মনসিংহে কাস্টমস সিপাহি হত্যা রহস্যের কিনারা- শ্রীমঙ্গল থেকে গ্রেপ্তার ২

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় কাস্টমস সিপাহি হত্যা মামলায় শ্রীমঙ্গল থেকে গ্রেপ্তার দুই আসামি

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় আলোচিত কাস্টমস সিপাহি মোঃ আবু সাইয়াহান তালুকদার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে পুলিশ। নিখোঁজের কয়েকদিন পর তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয় তার খণ্ডিত মরদেহ। এ ঘটনায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ প্রশাসন। আসামিদের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুলাই বিকেলে ফুলবাড়ীয়া থানাধীন কাহাগাঁও এলাকায় নিজ বাড়ির কাছ থেকে নিখোঁজ হন ৪২ বছর বয়সী কাস্টমস সিপাহি আবু সাইয়াহান তালুকদার। পরিবারের পক্ষ থেকে তখন ফুলবাড়ীয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে ২ আগস্ট দুপুরে নিখোঁজ ব্যক্তির বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি পরিত্যক্ত পুকুরপাড়ে তিনটি ব্যাগ থেকে মানবদেহের অংশবিশেষ উদ্ধার হয়। পরিবারের সদস্যরা পোশাক দেখে মরদেহটি আবু সাইয়াহানের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় ফুলবাড়ীয়া থানায় হত্যা মামলা রুজু হয় এবং তদন্তভার দেওয়া হয় থানার সাব-ইন্সপেক্টর শুভ্র সাহাকে।

তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষী জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিশ্লেষণ চালিয়ে পুলিশ মোঃ রাজু মির্জা ও মোঃ সোহেল মির্জা ওরফে জিতুর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পায়। এরপর দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে তাদের অবস্থান শ্রীমঙ্গলে শনাক্ত করা হয়। দীর্ঘ কয়েকদিনের অভিযান শেষে ২৬ আগস্ট রাতে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান আসামি রাজু মির্জা দীর্ঘদিন ধরে আবু সাইয়াহানের বিশ্বস্ত কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন এবং কৌশলে ঘুমের ওষুধ প্রয়োগের পর তাকে হত্যা করা হয় বলে দাবি করেছে পুলিশ। হত্যার পর নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয় এবং অপর আসামি সোহেল মির্জার সহযোগিতায় আলামত অপসারণের চেষ্টা করা হয় বলেও পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনার আলামত মুছে ফেলতে বাড়িতে বিভিন্ন পরিষ্কারক সামগ্রী ব্যবহার করা হয় বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। এছাড়া নিখোঁজ থাকাকালীন ভুক্তভোগীর মোবাইল ও ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলনের বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

গ্রেপ্তার তথ্যের ভিত্তিতে ফুলবাড়ীয়ার সোয়াইতপুর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে। ২৬ আগস্ট বিকেলে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে ফুলবাড়ীয়া থানায় নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন— রাজু মির্জা (২২), গ্রাম সোয়াইতপুর, ফুলবাড়ীয়া, ময়মনসিংহ এবং সোহেল মির্জা ওরফে জিতু (২০), গ্রাম অনন্তপুর, ফুলবাড়ীয়া, ময়মনসিংহ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দিক এখনও যাচাই-বাছাই চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

একসঙ্গে নিভল পাঁচ শিশুর প্রাণের প্রদীপ- পাশাপাশি কবরে শায়িত

ময়মনসিংহে কাস্টমস সিপাহি হত্যা রহস্যের কিনারা- শ্রীমঙ্গল থেকে গ্রেপ্তার ২

প্রকাশের সময়ঃ ০১:৪৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় আলোচিত কাস্টমস সিপাহি মোঃ আবু সাইয়াহান তালুকদার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে পুলিশ। নিখোঁজের কয়েকদিন পর তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয় তার খণ্ডিত মরদেহ। এ ঘটনায় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ প্রশাসন। আসামিদের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুলাই বিকেলে ফুলবাড়ীয়া থানাধীন কাহাগাঁও এলাকায় নিজ বাড়ির কাছ থেকে নিখোঁজ হন ৪২ বছর বয়সী কাস্টমস সিপাহি আবু সাইয়াহান তালুকদার। পরিবারের পক্ষ থেকে তখন ফুলবাড়ীয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরে ২ আগস্ট দুপুরে নিখোঁজ ব্যক্তির বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি পরিত্যক্ত পুকুরপাড়ে তিনটি ব্যাগ থেকে মানবদেহের অংশবিশেষ উদ্ধার হয়। পরিবারের সদস্যরা পোশাক দেখে মরদেহটি আবু সাইয়াহানের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় ফুলবাড়ীয়া থানায় হত্যা মামলা রুজু হয় এবং তদন্তভার দেওয়া হয় থানার সাব-ইন্সপেক্টর শুভ্র সাহাকে।

তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষী জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিশ্লেষণ চালিয়ে পুলিশ মোঃ রাজু মির্জা ও মোঃ সোহেল মির্জা ওরফে জিতুর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পায়। এরপর দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে তাদের অবস্থান শ্রীমঙ্গলে শনাক্ত করা হয়। দীর্ঘ কয়েকদিনের অভিযান শেষে ২৬ আগস্ট রাতে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে স্থানীয় থানা পুলিশের সহযোগিতায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান আসামি রাজু মির্জা দীর্ঘদিন ধরে আবু সাইয়াহানের বিশ্বস্ত কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন এবং কৌশলে ঘুমের ওষুধ প্রয়োগের পর তাকে হত্যা করা হয় বলে দাবি করেছে পুলিশ। হত্যার পর নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয় এবং অপর আসামি সোহেল মির্জার সহযোগিতায় আলামত অপসারণের চেষ্টা করা হয় বলেও পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনার আলামত মুছে ফেলতে বাড়িতে বিভিন্ন পরিষ্কারক সামগ্রী ব্যবহার করা হয় বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। এছাড়া নিখোঁজ থাকাকালীন ভুক্তভোগীর মোবাইল ও ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলনের বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

গ্রেপ্তার তথ্যের ভিত্তিতে ফুলবাড়ীয়ার সোয়াইতপুর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে। ২৬ আগস্ট বিকেলে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে ফুলবাড়ীয়া থানায় নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন— রাজু মির্জা (২২), গ্রাম সোয়াইতপুর, ফুলবাড়ীয়া, ময়মনসিংহ এবং সোহেল মির্জা ওরফে জিতু (২০), গ্রাম অনন্তপুর, ফুলবাড়ীয়া, ময়মনসিংহ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দিক এখনও যাচাই-বাছাই চলছে।