
রাজশাহীর দুর্গাপুরে চুরির অভিযোগ তুলে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে গাছের সঙ্গে পিছমোড়া করে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার পানানগর মহিপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোরটিকে একটি গাছের সঙ্গে পিছমোড়া করে বেঁধে মারধর করা হচ্ছে এবং সে যন্ত্রণায় আর্তনাদ করছে। ভিডিওতে পাশ থেকে একজনকে হুমকি দিতে শোনা যায় যে, কাঁদলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পায়ের নখ কেটে ফেলা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিশোরটির বাবার বাড়ি দুর্গাপুর উপজেলার মইপাড়ায়। ২০১৮ সালে তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হওয়ার পর থেকে সে পাশের গ্রামে নানার বাড়িতে থাকত। তার মা পরে দ্বিতীয় বিয়ে করে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। প্রায় এক মাস আগে কিশোরটি মায়ের কাছে ঢাকায় চলে যায় এবং বৃহস্পতিবার সেখান থেকে ফিরে বাবার বাড়িতে যায়।
কিশোরটির নানির বাড়ির প্রতিবেশী আবদুর রশিদ ওরফে বাবু অভিযোগ করেন, প্রায় এক মাস আগে তাঁর বাড়ি থেকে একটি মুঠোফোন ও কিছু নগদ টাকা চুরি করে কিশোরটি পালিয়ে যায়। কিশোরটি বাড়িতে ফিরেছে জানার পর শুক্রবার সকালে তিনি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে যান। তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে কিশোরটি জানায় যে তার বাবা তাকে চুরি করতে প্ররোচিত করেছিলেন এবং চুরির টাকাও নিজে নিয়ে গেছেন। এরপর স্থানীয় লোকজন তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে ফেলেন। তবে নিজে মারধরে জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেন তিনি এবং জানান, সকাল ১১টার দিকে কিশোরকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
তবে কিশোরটির বাবা আনোয়ার হোসেন এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, নির্যাতনের মাধ্যমে জোরপূর্বক তাঁর ছেলেকে দিয়ে মিথ্যা কথা বলানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে দুর্গাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার ভিডিওটি তাঁর নজরে এসেছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কিশোরটির পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানান তিনি।
অধিকার ডেস্কঃ 























