
রাঙামাটিতে পৃথক ঘটনায় পাহাড়ি ছড়ার পানির স্রোতে তলিয়ে দুই শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বাঘাইছড়ি উপজেলায় পাঁচ বছরের এক শিশু এবং রাঙামাটি সদর উপজেলার বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়নে এক মা ও তাঁর চার বছরের ছেলে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাঘাইছড়ি উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নের গোলাছড়ি এলাকায় জোসনা ত্রিপুরা (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোলাছড়ি গ্রামের দীপেন ত্রিপুরার মেয়ে জোসনা ত্রিপুরা বাড়ির পাশের একটি ছড়ায় গোসল করতে গিয়েছিল। এ সময় হঠাৎ পানির স্রোত বেড়ে গেলে শিশুটি পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের খোঁজাখুঁজির পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রূপকারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জেসমিন চাকমা জানান, ছড়ায় গোসল করতে নেমে পানির স্রোতে তলিয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান জানান, নিহত শিশুটির পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
অন্যদিকে, রাঙামাটি সদর উপজেলার বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়নের ত্রিপুরাছড়া গ্রামে মা ও ছেলের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে জুমের কাজ শেষ করে বাসায় ফিরছিলেন বাসনা চাকমা ও তাঁর চার বছর বয়সী ছেলে মহাজনক চাকমা। পথে ভারী বৃষ্টির কারণে ছড়ার পানি হঠাৎ বেড়ে যায়। একপর্যায়ে মা ও ছেলে পানির স্রোতে তলিয়ে যান।
তারা বাড়িতে ফিরে না আসায় বাসনা চাকমার স্বামী অলংগ বিকাশ চাকমাসহ স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে তাদের খোঁজ শুরু করেন।
পরে গত রোববার জুমের ক্ষেত থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে ত্রিপুরাছড়ার পানিতে শিশু মহাজনক চাকমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এরপর বুধবার জুমের ক্ষেত থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে একই ছড়ার পাশে প্রায় ২০০ ফুট গভীর একটি পাহাড়ি খাদে বাসনা চাকমার মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অমর চাকমা জানান, জুমের কাজ শেষে বাড়ি ফেরার সময় ভারী বৃষ্টির কারণে ছড়ার পানি আকস্মিকভাবে বেড়ে যায়। এতে মা ও ছেলে স্রোতে তলিয়ে নিখোঁজ হন। পরে পৃথক সময়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিজস্ব প্রতিনিধি 



















