
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ট্রেনে কাটা পড়ে পম্পী বড়ুয়া (২৪) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে পৌরসভার পূর্ব কালুরঘাট ১৩ নম্বর পুল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পম্পীর সঙ্গে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের একটি ছাড়পত্র পাওয়া যায়। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি ইস্যু করা ওই ছাড়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। সেখানে বাবা/স্বামীর নাম হিসেবে জুয়েল বড়ুয়া এবং গ্রামের বাড়ি রাউজান উল্লেখ ছিল।
নিহত পম্পী বড়ুয়া রাউজান উপজেলার গজারিয়া এলাকার ভাগ্যধন (ননায়) বড়ুয়ার মেয়ে। হাসপাতালের নথিতে স্বামীর নাম জুয়েল বড়ুয়া উল্লেখ থাকলেও জুয়েল নিজেকে পম্পীর ভাই বলে পরিচয় দিয়েছেন।
জুয়েল বড়ুয়া জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে পম্পীর একই উপজেলার ইদিলপুর গ্রামের স্ববীন বড়ুয়া বুলবুলের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল।
তিনি বলেন, চাকরির খোঁজে এক দিন আগে পম্পী চট্টগ্রাম নগরে এসেছিলেন। সেখানে একটি পোশাক কারখানায় চাকরির সাক্ষাৎকার দেন। কয়েক ঘণ্টা পর তাকে জানানো হয়, তার চাকরি হয়েছে এবং পরদিন কাজে যোগ দিতে হবে।
রোববার কাজে যোগ দিতে গেলে তাকে জানানো হয়, তার চাকরি হয়নি। এরপর ফেরার পথে তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে পম্পী ফোনে জানান।
জুয়েল বলেন, অন্য একটি নম্বর থেকে ফোন করে পম্পী মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি জানান। ওই সময় তাদের মধ্যে শেষ কথা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে পম্পীর মৃত্যু হয়।
গোমদণ্ডী রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার কাঞ্চন ভট্টাচার্য জানান, কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা প্রবাল এক্সপ্রেস দুপুর আড়াইটার দিকে গোমদণ্ডী স্টেশন অতিক্রম করে। পরে এক নারী ট্রেনে কাটা পড়েছেন বলে তিনি খবর পান। বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর রেললাইন থেকে মরদেহ সরানোর কাজ চলায় কিছু সময় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলের কাছে এসে আটকে যায়। পরে লাইন পরিষ্কার করার পর প্রায় ৪৫ মিনিটের মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
অধিকার ডেস্কঃ 





















