
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) মাদকবিরোধী কার্যক্রমে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ক্যাম্পাসে মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে কার্যকর তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে ১০ হাজার টাকা নগদ পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বহিরাগতদের মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগ এবং কিছু শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর প্রশাসন এ উদ্যোগ নিয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান এ তথ্য জানান।
সরেজমিনে ক্যাম্পাসের কয়েকটি স্থানে বহিরাগতদের আনাগোনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে স্বাধীনতা স্মারকের পেছনের এলাকা, কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠ এবং নবনির্মিত ইইই অ্যানেক্স ভবনের সামনের অংশে রাতের সময় এমন পরিস্থিতি দেখা যায় বলে জানা গেছে।
এসব স্থানে মাদক সেবনের পর ফেলে যাওয়া বিভিন্ন সামগ্রী ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র পড়ে থাকার অভিযোগ রয়েছে। এতে ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী হাবিব বলেন, রাতের দিকে ক্যাম্পাসের ফুটবল মাঠসহ বিভিন্ন এলাকায় বহিরাগতদের কয়েকটি দল অবস্থান করে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তিনি ক্যাম্পাসে নিয়মিত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদকের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে। গত দুই বছরে মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে সাতজনকে আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রক্টর।
তিনি বলেন, মাদকের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
মাদক সেবন বা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে কোনো শিক্ষার্থী তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে তাকে ১০ হাজার টাকা নগদ পুরস্কার দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
এদিকে ক্যাম্পাসে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন বেরোবি ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রিফাত হোসেন রাফি।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি এবং নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা হলে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিবেশ আরও নিরাপদ হবে বলেও তিনি মনে করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বহিরাগতদের অননুমোদিত প্রবেশ এবং বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রম বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।
নিজস্ব প্রতিনিধি 
























