
দীর্ঘ ২১ বছরের সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে লেস্টার সিটি ছেড়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। নতুন ঠিকানা হিসেবে ইংল্যান্ডের চ্যাম্পিয়নশিপ ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডকে বেছে নিয়েছেন তিনি।
এক বছরের চুক্তিতে হামজাকে দলে ভিড়িয়েছে শেফিল্ড ইউনাইটেড। তবে লেস্টার সিটি থেকে তাকে দলে নিতে কত অর্থ খরচ হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ক্লাবটি। নিজেদের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতির মাধ্যমে হামজার সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে শেফিল্ড।
২৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার গত মৌসুমের দ্বিতীয় ভাগে শেফিল্ড ইউনাইটেডে ধারে খেলেছিলেন। ওই সময়ে দলের হয়ে ১৬টি লিগ ম্যাচে মাঠে নামেন তিনি। চ্যাম্পিয়নশিপের প্লে-অফ ফাইনালেও খেলেছিলেন হামজা। তবে সান্ডারল্যান্ডের কাছে হেরে প্রিমিয়ার লিগে ওঠার স্বপ্ন পূরণ হয়নি শেফিল্ডের।
শেফিল্ড ইউনাইটেডের সঙ্গে হামজার পরিচয় নতুন নয়। গত মৌসুমে ধারে এসে অল্প সময়ের মধ্যেই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন তিনি। তার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট ক্লাবটির কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডারও।
হামজার বহুমুখী দক্ষতার প্রশংসা করে ওয়াইল্ডার বলেন, হামজা রাইট-ব্যাকসহ একাধিক পজিশনে খেলতে সক্ষম। গত মৌসুমে শেফিল্ডে তার প্রথম মেয়াদের শেষ কয়েকটি ম্যাচে, বিশেষ করে প্লে-অফ পর্বে, দলের অন্যতম সেরা পারফরমার ছিলেন তিনি।
লেস্টার সিটির একাডেমি থেকেই ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন হামজা চৌধুরী। বয়সভিত্তিক পর্যায় পেরিয়ে তিনি ক্লাবটির মূল দলে জায়গা করে নেন। লেস্টারের হয়ে ১১ মৌসুমে মোট ১৬৬ ম্যাচ খেলেছেন এই মিডফিল্ডার।
চলতি মৌসুমেও লেস্টার সিটির হয়ে তিনটি ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন হামজা। দীর্ঘদিনের ক্লাব ছাড়লেও লেস্টারের সঙ্গে তার স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সাফল্যের সঙ্গে।
২০১৫-১৬ মৌসুমে লেস্টার সিটির ঐতিহাসিক প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জয়ী দলের অংশ ছিলেন তিনি। এছাড়া ২০২১ সালে চেলসিকে হারিয়ে লেস্টারের এফএ কাপ জয়ের দলেও ছিলেন এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার।
লেস্টার ছাড়ার অনুভূতি জানিয়ে হামজা বলেন, ‘আমি লেস্টারে ২০ বছর ছিলাম। তাই আমার ও আমার পরিবারের জন্য এটি একটি বড় পরিবর্তন। তবে নতুন এই চ্যালেঞ্জের জন্য আমি সত্যিই উচ্ছ্বসিত। আশা করছি, শেফিল্ডের সঙ্গে আমাদের সামনে একটি ভালো মৌসুম অপেক্ষা করছে।’
ক্রিস ওয়াইল্ডারের সঙ্গে হামজার সম্পর্কও বেশ পুরোনো। এর আগে ওয়াটফোর্ডে ধারে খেলার সময়ও এই কোচের অধীনে খেলেছিলেন তিনি। পরে শেফিল্ড ইউনাইটেডে ধারে এসে আবারও ওয়াইল্ডারের সঙ্গে কাজ করেন।
নতুন ক্লাবে যোগ দিয়ে পুরোনো কোচের সঙ্গে পুনরায় কাজ করার সুযোগ পেয়ে সন্তুষ্ট হামজা। তিনি জানান, ওয়াইল্ডারের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং তার অধীনে খেলতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
দীর্ঘ সময় লেস্টার সিটির সঙ্গে কাটানোর পর এবার শেফিল্ড ইউনাইটেডে নতুন অধ্যায় শুরু করছেন হামজা চৌধুরী। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরাও এখন নতুন ক্লাবে তার পারফরম্যান্সের দিকে তাকিয়ে থাকবেন।
দৈনিক অধিকার ডেস্ক 
























