
কুমিল্লার চান্দিনায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারীকে হত্যার ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
সোমবার দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মিথিলা ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল বারইপাড়া এলাকার মৃত ক্ষিতিশ দাশের ছেলে সমির চন্দ্র দাশ (৪২) এবং তাঁর স্ত্রী রূপালী রাণী দাশ (৩৭)।
একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি বকুল রাণী দাশকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারি সকালে চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল এলাকায় জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে একই বাড়ির বাসিন্দাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় রনজিৎ চন্দ্র দাশ ও তাঁর স্ত্রী শিল্পী রাণী দাশের সঙ্গে আসামিপক্ষের বিরোধ দেখা দেয়।
একপর্যায়ে সমির চন্দ্র দাশ, তাঁর স্ত্রী রূপালী রাণী দাশ ও বকুল রাণী দাশ তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে রনজিৎ চন্দ্র দাশ ও শিল্পী রাণী দাশ গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিল্পী রাণী দাশকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ভাসুর নিতাই চন্দ্র দাশ বাদী হয়ে চান্দিনা থানায় তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. শাহজাহান ২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
দীর্ঘদিনের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত সমির চন্দ্র দাশ ও রূপালী রাণী দাশকে দোষী সাব্যস্ত করেন। পরে তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মো. ইসমাইল মিয়া রতন জানান, মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষের ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং মামলার অন্যান্য উপাদান পর্যালোচনা করেই আদালত এ রায় দিয়েছেন।
অধিকার ডেস্কঃ 
























