ঢাকা ০৫:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
ময়মনসিংহে ট্রাকের চাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রীর মৃত্যু, আহত ৪ রাজশাহী কলেজে ডেঙ্গু সচেতনতায় শিক্ষার্থীদের হাতে লিফলেট বিতরণ নোবিপ্রবির তৃতীয় সমাবর্তনে থাকছেন রাষ্ট্রপতি- উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাতে সম্মতি ময়মনসিংহে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার নিয়ে মন্ত্রীর সামনে ক্ষোভ প্রকাশ এমপিদের স্কুল-কলেজে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিলেন ইউএনও বাংলাদেশের মানুষ কখনো স্বৈরশাসন মেনে নেয়নি- স্পিকার হাফিজ উদ্দিন শিশু আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেন হাইকোর্ট বিয়ে করেছেন মিষ্টি জান্নাত, প্রকাশ করলেন না স্বামীর পরিচয় নতুন দুই হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো শাহজাহান ওমরকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো সোলায়মান সেলিম-মোস্তফা জালালকে

শিশু আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেন হাইকোর্ট

মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা ও নির্যাতন মামলার রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট । ফাইল ছবি

মাগুরায় আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত ২৫ আগস্ট রায় ঘোষণার দিন নির্ধারিত থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক, তাঁকে সহায়তা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি। অন্যদিকে আসামি হিটু শেখের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান।

মামলার তথ্যানুযায়ী, মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গত বছরের ৫ মার্চ (২০২৫) রাতে নির্মম এই ঘটনার শিকার হয় শিশু আছিয়া। রমজানের ছুটিতে সে সেখানে বেড়াতে গিয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, বোনের শ্বশুর হিটু শেখ শিশুটির ওপর এই অপরাধ সংঘটনের পর তাকে হত্যার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মৃত্যু হয় আট বছর বয়সী আছিয়ার।

এই ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন, পরে পুলিশ সবাইকে গ্রেপ্তার করে।

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এরপর ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে শুরু হয় বিচার প্রক্রিয়া এবং ২৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন এবং ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, মাত্র ১৩ কার্যদিবসের মধ্যেই মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

গত বছরের ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর ১৭ মে রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান।

নিম্ন আদালতের রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই মামলায় অপর তিন আসামি— নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীবের ছোট ভাই (১৭) এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে (৪০) খালাস দেওয়া হয়।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী কোনো বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে তা অনুমোদনের জন্য উচ্চ আদালতে নথি পাঠাতে হয়। সেই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ মে মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক তৈরির জন্য তা পাঠানো হয় বিজি প্রেসে। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত ৮ জুন তা হাইকোর্টে পৌঁছায় এবং পরবর্তীতে মামলাটি বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকায় শুনানির জন্য ওঠে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ময়মনসিংহে ট্রাকের চাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রীর মৃত্যু, আহত ৪

শিশু আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেন হাইকোর্ট

প্রকাশের সময়ঃ ০৪:০৮:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

মাগুরায় আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত ২৫ আগস্ট রায় ঘোষণার দিন নির্ধারিত থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক, তাঁকে সহায়তা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি। অন্যদিকে আসামি হিটু শেখের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান।

মামলার তথ্যানুযায়ী, মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে গত বছরের ৫ মার্চ (২০২৫) রাতে নির্মম এই ঘটনার শিকার হয় শিশু আছিয়া। রমজানের ছুটিতে সে সেখানে বেড়াতে গিয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, বোনের শ্বশুর হিটু শেখ শিশুটির ওপর এই অপরাধ সংঘটনের পর তাকে হত্যার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মৃত্যু হয় আট বছর বয়সী আছিয়ার।

এই ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন, পরে পুলিশ সবাইকে গ্রেপ্তার করে।

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এরপর ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে শুরু হয় বিচার প্রক্রিয়া এবং ২৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন এবং ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, মাত্র ১৩ কার্যদিবসের মধ্যেই মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

গত বছরের ১৩ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর ১৭ মে রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান।

নিম্ন আদালতের রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই মামলায় অপর তিন আসামি— নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীবের ছোট ভাই (১৭) এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে (৪০) খালাস দেওয়া হয়।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী কোনো বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিলে তা অনুমোদনের জন্য উচ্চ আদালতে নথি পাঠাতে হয়। সেই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ মে মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক তৈরির জন্য তা পাঠানো হয় বিজি প্রেসে। পেপারবুক প্রস্তুত হওয়ার পর গত ৮ জুন তা হাইকোর্টে পৌঁছায় এবং পরবর্তীতে মামলাটি বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকায় শুনানির জন্য ওঠে।