ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
প্রতারণা মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন বিদিশা ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় সংসদে দুই দাবি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মাহবুবা হাকিমের রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হিসাব জানালেন অর্থমন্ত্রী জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তরই বর্তমান সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ- স্পিকার একদিনে ডেঙ্গুতে ৪ জনের মৃত্যু, নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি ১৫৫৮ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৩ বিজিবির উদ্যোগে ইলেকট্রিক্যাল প্রশিক্ষণ শুরু মাদকাসক্ত যুবকের দেয়া আগুনে ৬ দোকানসহ ১১ বসতঘর পুড়ে ছাই হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে মসিক মেয়রসহ তিনজনকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ আয়েশা (রা.) কেন গভীর রাতে মহানবী (সা.)-এর পিছু নিয়েছিলেন?

নোবিপ্রবিতে নেই অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা, ফি জমায় দীর্ঘ লাইনে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)ফাইল ছবি

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও এখনো শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ফি জমাদানে পূর্ণাঙ্গ অনলাইন পেমেন্ট বা ক্যাশলেস ব্যাংকিং সেবা চালু হয়নি। এর ফলে নির্ধারিত ফি জমা দিতে শিক্ষার্থীদের সরাসরি ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ সময় সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা তাদের সময় নষ্টের পাশাপাশি নানামুখী ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফি জমা দিতে গিয়ে ব্যাংকের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, পাশাপাশি হল, বিভাগ ও ব্যাংকের মধ্যে একাধিকবার যাতায়াতও করতে হয়। এতে একদিকে মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষত নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ফি জমাদানের বাধ্যবাধকতা থাকায় সমস্যাটি আরও প্রকট হয়ে ওঠে।

শিক্ষার্থীরা জানান, আর্থিক পরিকল্পনার কারণে অনেক সময় তারা নির্ধারিত সময়সীমার শেষদিকে ফি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেন। কিন্তু ব্যাংকের দীর্ঘ লাইন ও সীমিত ব্যাংকিং সময়ের কারণে যথাসময়ে টাকা জমা দেওয়া সম্ভব হয় না, ফলে পরবর্তীতে অতিরিক্ত জরিমানাসহ ফি পরিশোধ করতে বাধ্য হন তারা।

ফলিত গণিত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মঞ্জিল ভূঁইয়া বলেন, একাডেমিক কার্যক্রম ফেলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে গিয়ে তাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। তার ভাষায়, ২০২৬ সালে এসেও পুরনো দিনের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দেওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সামিয়া ইসলাম বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও নোবিপ্রবিতে ক্যাশলেস ব্যাংকিং ব্যবস্থা না থাকাটা শিক্ষার্থীদের জন্য হতাশাজনক ও সময়সাপেক্ষ বিষয়। তিনি জানান, ফি জমাদানের জন্য হল ও বিভাগে যাতায়াতের পাশাপাশি ব্যাংকে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, এবং সময়মতো ফি জমা দিতে না পারলে জরিমানাও গুনতে হয়। তার মতে, অনলাইন পেমেন্ট চালু হলে যেকোনো সময় কয়েক মিনিটেই ফি জমা দেওয়া সম্ভব হবে, যা সময় বাঁচানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় জরিমানা এড়াতেও সহায়ক হবে।

শিক্ষার্থীদের মতে, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন সেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও ফি পরিশোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো সরাসরি ব্যাংকনির্ভরতা থাকাটা সময়োপযোগী নয়। অনলাইন পেমেন্ট চালু হলে শিক্ষার্থীরা হল বা ঘরে বসেই ফি পরিশোধ করতে পারবেন, যা তাদের সময় ও শ্রম দুটোই সাশ্রয় করবে।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি শিক্ষার্থীদের পেমেন্ট ব্যবস্থা ক্যাশলেস করার অঙ্গীকার করেছিলেন। যদিও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, তবে ইউসিবি ব্যাংকের সঙ্গে ইতিমধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং তাদের একটি প্রস্তুত সফটওয়্যার রয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলেরও নিজস্ব একটি সফটওয়্যার আছে। উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের জন্য অধিক উপযোগী মাধ্যমটি দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তার প্রধান লক্ষ্য হলো, দ্রুততম সময়ে শিক্ষার্থীদের পেমেন্ট ব্যবস্থাকে ক্যাশলেস করা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানালেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে আপাতত প্রচলিত ব্যাংকিং পদ্ধতিতেই ফি পরিশোধ করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীদের দাবি, একটি প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত অনলাইন পেমেন্ট বা ক্যাশলেস ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি কমার পাশাপাশি একাডেমিক সময়ের অপচয়ও রোধ করা সম্ভব হবে।

প্রশাসনের ঘোষিত এই উদ্যোগ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, দীর্ঘদিনের এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সেদিকেই তাকিয়ে আছেন নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতারণা মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন বিদিশা

নোবিপ্রবিতে নেই অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা, ফি জমায় দীর্ঘ লাইনে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

প্রকাশের সময়ঃ ০৯:৫৯:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও এখনো শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ফি জমাদানে পূর্ণাঙ্গ অনলাইন পেমেন্ট বা ক্যাশলেস ব্যাংকিং সেবা চালু হয়নি। এর ফলে নির্ধারিত ফি জমা দিতে শিক্ষার্থীদের সরাসরি ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ সময় সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা তাদের সময় নষ্টের পাশাপাশি নানামুখী ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফি জমা দিতে গিয়ে ব্যাংকের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, পাশাপাশি হল, বিভাগ ও ব্যাংকের মধ্যে একাধিকবার যাতায়াতও করতে হয়। এতে একদিকে মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষত নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ফি জমাদানের বাধ্যবাধকতা থাকায় সমস্যাটি আরও প্রকট হয়ে ওঠে।

শিক্ষার্থীরা জানান, আর্থিক পরিকল্পনার কারণে অনেক সময় তারা নির্ধারিত সময়সীমার শেষদিকে ফি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেন। কিন্তু ব্যাংকের দীর্ঘ লাইন ও সীমিত ব্যাংকিং সময়ের কারণে যথাসময়ে টাকা জমা দেওয়া সম্ভব হয় না, ফলে পরবর্তীতে অতিরিক্ত জরিমানাসহ ফি পরিশোধ করতে বাধ্য হন তারা।

ফলিত গণিত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মঞ্জিল ভূঁইয়া বলেন, একাডেমিক কার্যক্রম ফেলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে গিয়ে তাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। তার ভাষায়, ২০২৬ সালে এসেও পুরনো দিনের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দেওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সামিয়া ইসলাম বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও নোবিপ্রবিতে ক্যাশলেস ব্যাংকিং ব্যবস্থা না থাকাটা শিক্ষার্থীদের জন্য হতাশাজনক ও সময়সাপেক্ষ বিষয়। তিনি জানান, ফি জমাদানের জন্য হল ও বিভাগে যাতায়াতের পাশাপাশি ব্যাংকে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, এবং সময়মতো ফি জমা দিতে না পারলে জরিমানাও গুনতে হয়। তার মতে, অনলাইন পেমেন্ট চালু হলে যেকোনো সময় কয়েক মিনিটেই ফি জমা দেওয়া সম্ভব হবে, যা সময় বাঁচানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় জরিমানা এড়াতেও সহায়ক হবে।

শিক্ষার্থীদের মতে, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন সেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও ফি পরিশোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো সরাসরি ব্যাংকনির্ভরতা থাকাটা সময়োপযোগী নয়। অনলাইন পেমেন্ট চালু হলে শিক্ষার্থীরা হল বা ঘরে বসেই ফি পরিশোধ করতে পারবেন, যা তাদের সময় ও শ্রম দুটোই সাশ্রয় করবে।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি শিক্ষার্থীদের পেমেন্ট ব্যবস্থা ক্যাশলেস করার অঙ্গীকার করেছিলেন। যদিও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, তবে ইউসিবি ব্যাংকের সঙ্গে ইতিমধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং তাদের একটি প্রস্তুত সফটওয়্যার রয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলেরও নিজস্ব একটি সফটওয়্যার আছে। উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের জন্য অধিক উপযোগী মাধ্যমটি দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তার প্রধান লক্ষ্য হলো, দ্রুততম সময়ে শিক্ষার্থীদের পেমেন্ট ব্যবস্থাকে ক্যাশলেস করা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানালেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে আপাতত প্রচলিত ব্যাংকিং পদ্ধতিতেই ফি পরিশোধ করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীদের দাবি, একটি প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত অনলাইন পেমেন্ট বা ক্যাশলেস ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি কমার পাশাপাশি একাডেমিক সময়ের অপচয়ও রোধ করা সম্ভব হবে।

প্রশাসনের ঘোষিত এই উদ্যোগ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, দীর্ঘদিনের এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সেদিকেই তাকিয়ে আছেন নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা।