ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ

প্রেমিকার পেছনে সাড়ে ৪ কোটি টাকা খরচ, বিচ্ছেদের পর টাকা ফেরত চেয়ে আদালতে প্রেমিক

প্রেমের সম্পর্কের সময় ব্যয় করা অর্থ ফেরত চেয়ে সিঙ্গাপুরের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এক ব্যবসায়ী।

প্রেমের সম্পর্ক চলাকালে প্রেমিকার জন্য প্রায় ৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা খরচ করেছিলেন সিঙ্গাপুরের এক ব্যবসায়ী। দামি উপহার, বিদেশ ভ্রমণ, ফেংশুই বিশেষজ্ঞের পারিশ্রমিক ও জীবনবিমার প্রিমিয়ামসহ বিভিন্ন খাতে ৪ লাখ ৬৮ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার ব্যয় করেন তিনি।

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ওই অর্থ ফেরত চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন ব্যবসায়ী। তবে সিঙ্গাপুরের হাইকোর্ট তার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। আদালতের মতে, ওই ব্যক্তি স্বেচ্ছায় অর্থ ব্যয় করেছিলেন এবং এসব অর্থ ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল—এমন দাবির পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

প্রেমের সম্পর্ক থেকে আদালত পর্যন্ত

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার বাদী চন্দর আগরওয়াল একটি লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ২০১৯ সালে একটি ফ্লাইটে সাবেক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ফেলিসিয়া লির সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্ক চলাকালে আগরওয়াল নিয়মিত লিকে বিভিন্ন দামি উপহার দিতেন।

আদালতে আগরওয়াল দাবি করেন, লি তার কাছে বিভিন্ন সময়ে সুদমুক্ত ঋণ নিয়েছিলেন। এসব অর্থের মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের খরচ বাবদ ২ লাখ ৬ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার, বিদেশ ভ্রমণে ১ লাখ ২৯ হাজার ডলার, অ্যাপার্টমেন্টের জন্য ফেংশুই বিশেষজ্ঞ নিয়োগে ১৭ হাজার ডলার এবং জীবনবিমার প্রিমিয়ামে ২০ হাজার ডলার ব্যয়ের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

তবে লির বক্তব্য ছিল ভিন্ন। তিনি আদালতকে জানান, এসব অর্থ তিনি ঋণ হিসেবে নেননি; বরং সম্পর্কের কারণে আগরওয়াল তাকে এসব উপহার দিয়েছিলেন।

ঋণের দাবির পক্ষে প্রমাণ পাননি আদালত

২০২৪ সালের মার্চে আগরওয়াল মামলা করেন। তার দাবি ছিল, সম্পর্ক চলাকালে লিকে দেওয়া অর্থ ফেরত পাওয়ার অধিকার তার রয়েছে।

তবে সিঙ্গাপুরের হাইকোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারক লি সিউ কিন তার দাবি গ্রহণ করেননি। বিচারকের পর্যবেক্ষণ, কথিত ঋণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথি বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি আগরওয়াল।

এমনকি লি তার কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন—এমন কোনো স্বীকৃতিও আগরওয়াল দেখাতে পারেননি বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

সম্পর্কের সময় উপহার দেওয়ার প্রবণতা ছিল

বিচারক বলেন, আদালতে উপস্থাপিত তথ্য থেকে বোঝা যায়, আগরওয়াল সম্পর্কের সময় লিকে নিয়মিত দামি উপহার দিতেন। এমনকি তাদের প্রেমের সম্পর্ক শুরুর আগেও তাকে উপহার দেওয়ার ঘটনা ছিল।

রায়ে আরও বলা হয়, আগরওয়াল তাকে এসব উপহারের অর্থ ফেরত দিতে হবে না বলেও আশ্বস্ত করেছিলেন।

বিচারকের মতে, আগরওয়াল লির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সম্পর্কের সময় এসব ব্যয় করেছিলেন। কিন্তু সম্পর্ক খারাপভাবে শেষ হওয়ার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং আগের ব্যয়ের অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করেন।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, আগরওয়াল আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ছিলেন এবং তার জীবনযাপনে তুলনামূলক বেশি ব্যয়ের প্রবণতা ছিল। অন্যদিকে লির আর্থিক সামর্থ্য তার তুলনায় কম ছিল।

দামি উপহার নিতে দ্বিধাও প্রকাশ করেছিলেন লি

আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও উঠে আসে, বিভিন্ন খুদে বার্তায় লি আগরওয়ালের দামি উপহার দেওয়ার প্রস্তাবে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। কিছু ক্ষেত্রে এসব উপহার নিতে তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে আগ্রহী ছিলেন না বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

রায়ের শেষ দিকে বিচারক ইংরেজ নাট্যকার উইলিয়াম কংগ্রিভের একটি বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি উদ্ধৃত করেন। এরপর তিনি মন্তব্য করেন, এমন তীব্র আবেগ বা ক্ষোভ কেবল কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্গের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

সিঙ্গাপুরে এমন মামলা নতুন নয়

প্রেম ও প্রত্যাখ্যানকে কেন্দ্র করে সিঙ্গাপুরের আদালতে এমন মামলা আগেও হয়েছে। ২০২৩ সালের শুরুতে কে কাওশিগান নামে এক ব্যক্তি এক নারীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছিলেন। তার দাবির পরিমাণ ছিল ৩০ লাখ সিঙ্গাপুর ডলারের বেশি।

কাওশিগানের দাবি ছিল, ওই নারীর প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কারণে তিনি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার সুনামও ক্ষুণ্ন হয়েছে। তবে আদালত তার মামলা খারিজ করে দেন।

পরে ওই নারী কাওশিগানের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন। কথিত হয়রানি থেকে নিজেকে রক্ষায় আইনি লড়াই চালাতে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা ফেরত চেয়েছিলেন তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও লার্ভিসাইড অভিযান

প্রেমিকার পেছনে সাড়ে ৪ কোটি টাকা খরচ, বিচ্ছেদের পর টাকা ফেরত চেয়ে আদালতে প্রেমিক

প্রকাশের সময়ঃ ০৭:৩৪:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেমের সম্পর্ক চলাকালে প্রেমিকার জন্য প্রায় ৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা খরচ করেছিলেন সিঙ্গাপুরের এক ব্যবসায়ী। দামি উপহার, বিদেশ ভ্রমণ, ফেংশুই বিশেষজ্ঞের পারিশ্রমিক ও জীবনবিমার প্রিমিয়ামসহ বিভিন্ন খাতে ৪ লাখ ৬৮ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার ব্যয় করেন তিনি।

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ওই অর্থ ফেরত চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন ব্যবসায়ী। তবে সিঙ্গাপুরের হাইকোর্ট তার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। আদালতের মতে, ওই ব্যক্তি স্বেচ্ছায় অর্থ ব্যয় করেছিলেন এবং এসব অর্থ ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল—এমন দাবির পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।

প্রেমের সম্পর্ক থেকে আদালত পর্যন্ত

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার বাদী চন্দর আগরওয়াল একটি লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ২০১৯ সালে একটি ফ্লাইটে সাবেক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ফেলিসিয়া লির সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্ক চলাকালে আগরওয়াল নিয়মিত লিকে বিভিন্ন দামি উপহার দিতেন।

আদালতে আগরওয়াল দাবি করেন, লি তার কাছে বিভিন্ন সময়ে সুদমুক্ত ঋণ নিয়েছিলেন। এসব অর্থের মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের খরচ বাবদ ২ লাখ ৬ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার, বিদেশ ভ্রমণে ১ লাখ ২৯ হাজার ডলার, অ্যাপার্টমেন্টের জন্য ফেংশুই বিশেষজ্ঞ নিয়োগে ১৭ হাজার ডলার এবং জীবনবিমার প্রিমিয়ামে ২০ হাজার ডলার ব্যয়ের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

তবে লির বক্তব্য ছিল ভিন্ন। তিনি আদালতকে জানান, এসব অর্থ তিনি ঋণ হিসেবে নেননি; বরং সম্পর্কের কারণে আগরওয়াল তাকে এসব উপহার দিয়েছিলেন।

ঋণের দাবির পক্ষে প্রমাণ পাননি আদালত

২০২৪ সালের মার্চে আগরওয়াল মামলা করেন। তার দাবি ছিল, সম্পর্ক চলাকালে লিকে দেওয়া অর্থ ফেরত পাওয়ার অধিকার তার রয়েছে।

তবে সিঙ্গাপুরের হাইকোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারক লি সিউ কিন তার দাবি গ্রহণ করেননি। বিচারকের পর্যবেক্ষণ, কথিত ঋণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথি বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি আগরওয়াল।

এমনকি লি তার কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন—এমন কোনো স্বীকৃতিও আগরওয়াল দেখাতে পারেননি বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

সম্পর্কের সময় উপহার দেওয়ার প্রবণতা ছিল

বিচারক বলেন, আদালতে উপস্থাপিত তথ্য থেকে বোঝা যায়, আগরওয়াল সম্পর্কের সময় লিকে নিয়মিত দামি উপহার দিতেন। এমনকি তাদের প্রেমের সম্পর্ক শুরুর আগেও তাকে উপহার দেওয়ার ঘটনা ছিল।

রায়ে আরও বলা হয়, আগরওয়াল তাকে এসব উপহারের অর্থ ফেরত দিতে হবে না বলেও আশ্বস্ত করেছিলেন।

বিচারকের মতে, আগরওয়াল লির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সম্পর্কের সময় এসব ব্যয় করেছিলেন। কিন্তু সম্পর্ক খারাপভাবে শেষ হওয়ার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং আগের ব্যয়ের অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করেন।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, আগরওয়াল আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ছিলেন এবং তার জীবনযাপনে তুলনামূলক বেশি ব্যয়ের প্রবণতা ছিল। অন্যদিকে লির আর্থিক সামর্থ্য তার তুলনায় কম ছিল।

দামি উপহার নিতে দ্বিধাও প্রকাশ করেছিলেন লি

আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও উঠে আসে, বিভিন্ন খুদে বার্তায় লি আগরওয়ালের দামি উপহার দেওয়ার প্রস্তাবে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। কিছু ক্ষেত্রে এসব উপহার নিতে তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে আগ্রহী ছিলেন না বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

রায়ের শেষ দিকে বিচারক ইংরেজ নাট্যকার উইলিয়াম কংগ্রিভের একটি বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি উদ্ধৃত করেন। এরপর তিনি মন্তব্য করেন, এমন তীব্র আবেগ বা ক্ষোভ কেবল কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্গের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

সিঙ্গাপুরে এমন মামলা নতুন নয়

প্রেম ও প্রত্যাখ্যানকে কেন্দ্র করে সিঙ্গাপুরের আদালতে এমন মামলা আগেও হয়েছে। ২০২৩ সালের শুরুতে কে কাওশিগান নামে এক ব্যক্তি এক নারীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছিলেন। তার দাবির পরিমাণ ছিল ৩০ লাখ সিঙ্গাপুর ডলারের বেশি।

কাওশিগানের দাবি ছিল, ওই নারীর প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কারণে তিনি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার সুনামও ক্ষুণ্ন হয়েছে। তবে আদালত তার মামলা খারিজ করে দেন।

পরে ওই নারী কাওশিগানের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন। কথিত হয়রানি থেকে নিজেকে রক্ষায় আইনি লড়াই চালাতে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা ফেরত চেয়েছিলেন তিনি।