ঢাকা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সংঘর্ষ- মুখোমুখি নেতাকর্মীরা একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু ছাড়াল একশ রামেক হাসপাতালে হাম নিয়ন্ত্রণে- ডেঙ্গুতে বাড়ছে রোগীর চাপ দেশের ১১ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত আজ ৩ দিনের জন্য ভোলা যাচ্ছেন তথ্যমন্ত্রী পার্থ সাদা শাড়িতে অপরূপ সাজে ভক্তদের মন জয় করলেন পরীমনি হাসপাতালে ভর্তি জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গৌরনদীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জহির উদ্দিনের ১৭ বছরের শাহেদের ‘ঘুষ ডট সাইটে- নড়েচড়ে বসল প্রশাসন বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের পৃথক কর্মসূচি

একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু ছাড়াল একশ

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ০৩:২৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২৩৬ Time View

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা চলছে হাসপাতালে।ফাইল ছবি

দেশে ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৩২৪ জন, যা চলতি বছরের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যা। এ নিয়ে টানা চার দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। একই সময়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হওয়ায় চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০২ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক বুলেটিনে গতকাল এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৩২৪ জন রোগী, ফলে চলতি বছরে মোট ভর্তির সংখ্যা পৌঁছেছে ৩৭ হাজার ১৭০ জনে। এই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক হাজার ১৮০ জন, যা নিয়ে এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৩৮৫ জনে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছর ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে আগস্ট মাসে—৪৩ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে পাঁচজন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মিলিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বাধিক রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, সংখ্যায় ২৯৮ জন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকাতেই ভর্তি হয়েছেন ২৮০ জন। এছাড়া খুলনা বিভাগে ২৪৬ জন, চট্টগ্রামে ১৩৯ জন, বরিশালে ১২১ জন, রাজশাহীতে ১১৪ জন এবং ময়মনসিংহে ৮৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্তদের প্রায় ৬০ শতাংশের বয়স ১৬ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, যাদের মধ্যে ৬৩ শতাংশ পুরুষ ও ৩৭ শতাংশ নারী। তবে মৃত্যুর ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন—একই বয়সসীমার মৃতদের মধ্যে ৬০ শতাংশই নারী এবং ৪০ শতাংশ পুরুষ। অর্থাৎ আক্রান্তের সংখ্যায় পুরুষরা এগিয়ে থাকলেও মৃত্যুঝুঁকিতে এগিয়ে নারীরা।

নারীদের মধ্যে মৃত্যুহার বেশি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা জিয়াউল ইসলাম বলেন, স্থূলতা ডেঙ্গুতে মৃত্যুর একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করে। শরীরের ওজন যত বেশি হয়, ডেঙ্গুর তীব্রতাও তত বেড়ে যেতে পারে। নির্দিষ্ট বয়সের পর বাংলাদেশি নারীদের মধ্যে স্থূলতা ও ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা বেশি দেখা যায়, যা তাদের ডেঙ্গু জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে চলতি বছর মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক কম মনে হলেও সার্বিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, এবার রাজধানীর বাইরের জেলাগুলোতে ডেঙ্গু সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি ছড়িয়ে পড়েছে, অথচ ওইসব এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম প্রায় নেই বললেই চলে।

স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণের অভাবকেও বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, সরকার দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের কথা বললেও ডেঙ্গু মোকাবিলার মাধ্যমেই এর বাস্তব প্রয়োগ শুরু করা প্রয়োজন। ডেঙ্গু পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া জরুরি হলেও এক্ষেত্রে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সংঘর্ষ- মুখোমুখি নেতাকর্মীরা

একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু ছাড়াল একশ

প্রকাশের সময়ঃ ০৩:২৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৩২৪ জন, যা চলতি বছরের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যা। এ নিয়ে টানা চার দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। একই সময়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হওয়ায় চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০২ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গুবিষয়ক বুলেটিনে গতকাল এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৩২৪ জন রোগী, ফলে চলতি বছরে মোট ভর্তির সংখ্যা পৌঁছেছে ৩৭ হাজার ১৭০ জনে। এই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক হাজার ১৮০ জন, যা নিয়ে এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৩৮৫ জনে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছর ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে আগস্ট মাসে—৪৩ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে পাঁচজন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মিলিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বাধিক রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, সংখ্যায় ২৯৮ জন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকাতেই ভর্তি হয়েছেন ২৮০ জন। এছাড়া খুলনা বিভাগে ২৪৬ জন, চট্টগ্রামে ১৩৯ জন, বরিশালে ১২১ জন, রাজশাহীতে ১১৪ জন এবং ময়মনসিংহে ৮৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্তদের প্রায় ৬০ শতাংশের বয়স ১৬ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, যাদের মধ্যে ৬৩ শতাংশ পুরুষ ও ৩৭ শতাংশ নারী। তবে মৃত্যুর ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন—একই বয়সসীমার মৃতদের মধ্যে ৬০ শতাংশই নারী এবং ৪০ শতাংশ পুরুষ। অর্থাৎ আক্রান্তের সংখ্যায় পুরুষরা এগিয়ে থাকলেও মৃত্যুঝুঁকিতে এগিয়ে নারীরা।

নারীদের মধ্যে মৃত্যুহার বেশি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা জিয়াউল ইসলাম বলেন, স্থূলতা ডেঙ্গুতে মৃত্যুর একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করে। শরীরের ওজন যত বেশি হয়, ডেঙ্গুর তীব্রতাও তত বেড়ে যেতে পারে। নির্দিষ্ট বয়সের পর বাংলাদেশি নারীদের মধ্যে স্থূলতা ও ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা বেশি দেখা যায়, যা তাদের ডেঙ্গু জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে চলতি বছর মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক কম মনে হলেও সার্বিক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, এবার রাজধানীর বাইরের জেলাগুলোতে ডেঙ্গু সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি ছড়িয়ে পড়েছে, অথচ ওইসব এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম প্রায় নেই বললেই চলে।

স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণের অভাবকেও বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, সরকার দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের কথা বললেও ডেঙ্গু মোকাবিলার মাধ্যমেই এর বাস্তব প্রয়োগ শুরু করা প্রয়োজন। ডেঙ্গু পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া জরুরি হলেও এক্ষেত্রে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।