ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
নাটোরে দুর্ঘটনাকবলিত সিএনজি থেকে ৩৩ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪ মামুন খালেদসহ স্ত্রী-শ্যালকের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব: সমাজকল্যাণমন্ত্রী ভূরুঙ্গামারীতে ২৩ লাখ টাকার বাজেয়াপ্ত ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ধ্বংস শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পে অনিয়ম, কেডিএর ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ শাহজাদপুরে নার্সিং ও ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সিলেট সীমান্তে ২৭ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাইপণ্য জব্দ ভারত-বাংলাদেশ পাইপলাইনে পার্বতীপুরে পৌঁছাল ৪৭ লাখ লিটার ডিজেল কক্সবাজারে চোরাই স্বর্ণালংকার ও মোবাইলসহ গৃহকর্মী গ্রেপ্তার লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৬৮ বাংলাদেশি

শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পে অনিয়ম, কেডিএর ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ

  • অধিকার ডেস্কঃ
  • প্রকাশের সময়ঃ ১০:৪৫:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২৩৬ Time View

খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে কেডিএর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, আর্থিক অসংগতি ও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

সুপারিশের মধ্যে কেডিএর অধীন ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংস্থাটির চেয়ারম্যানকে এবং প্রেষণে কেডিএতে দায়িত্ব পালন করা তিন উপসচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান অ্যান্ড মাহাবুব ব্রাদার্সকে কালো তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের তালিকায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন কেডিএর সদস্য (উন্নয়ন) এস এম মাহমুদুর রহমান, সাবেক সচিব মো. বদিউজ্জামান এবং বর্তমান সদস্য (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসেন।

এ ছাড়া তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী এ টি এম ওয়াহিদ আজহার, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী সাবিরুল আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প) মজিবুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেন, উপ-প্রকল্প পরিচালক মুনতাসির মামুন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ, ক্যাশিয়ার মেহেদী হাসান, সহকারী হিসাবরক্ষক পলাশ কুমার ঘোষ, হিসাবরক্ষক (পূর্ত) শাহানা আক্তার, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাইদুল হক এবং অর্থ ও হিসাব রক্ষণ অফিসার এম এম হোসেন আলীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

কেডিএ সূত্র জানায়, শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পটি ২০১৩ সালের ৭ মে একনেকের অনুমোদন পায়। শুরুতে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৮ কোটি টাকা। তবে ১৩ বছরেও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। এর মধ্যে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮০ কোটি টাকায়।

গত ৯ জুন একনেক সভায় প্রকল্পটির তৃতীয় দফা সংশোধন ও ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে সূত্র জানায়। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে গাফিলতি ও বিলম্বের জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর ওই দিনই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটি গত ৩১ আগস্ট গৃহায়ণ সচিবের কাছে ৪০৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও আর্থিক অনিয়ম, যথাযথ সমীক্ষা ছাড়া ডিপিপি প্রণয়ন এবং প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ১৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা প্রায় দুই বছর কেডিএর নিজস্ব তহবিলে স্থানান্তরের বিষয়টি উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে এসব কর্মকাণ্ডকে আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতেই ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

কেডিএর চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা বলেন, মন্ত্রণালয়ের চিঠি তিনি পেয়েছেন। নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নাটোরে দুর্ঘটনাকবলিত সিএনজি থেকে ৩৩ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পে অনিয়ম, কেডিএর ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ

প্রকাশের সময়ঃ ১০:৪৫:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, আর্থিক অসংগতি ও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

সুপারিশের মধ্যে কেডিএর অধীন ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংস্থাটির চেয়ারম্যানকে এবং প্রেষণে কেডিএতে দায়িত্ব পালন করা তিন উপসচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান অ্যান্ড মাহাবুব ব্রাদার্সকে কালো তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগের তালিকায় থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন কেডিএর সদস্য (উন্নয়ন) এস এম মাহমুদুর রহমান, সাবেক সচিব মো. বদিউজ্জামান এবং বর্তমান সদস্য (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসেন।

এ ছাড়া তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী এ টি এম ওয়াহিদ আজহার, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী সাবিরুল আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প) মজিবুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেন, উপ-প্রকল্প পরিচালক মুনতাসির মামুন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ, ক্যাশিয়ার মেহেদী হাসান, সহকারী হিসাবরক্ষক পলাশ কুমার ঘোষ, হিসাবরক্ষক (পূর্ত) শাহানা আক্তার, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সাইদুল হক এবং অর্থ ও হিসাব রক্ষণ অফিসার এম এম হোসেন আলীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

কেডিএ সূত্র জানায়, শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পটি ২০১৩ সালের ৭ মে একনেকের অনুমোদন পায়। শুরুতে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৯৮ কোটি টাকা। তবে ১৩ বছরেও প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। এর মধ্যে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮০ কোটি টাকায়।

গত ৯ জুন একনেক সভায় প্রকল্পটির তৃতীয় দফা সংশোধন ও ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে সূত্র জানায়। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে গাফিলতি ও বিলম্বের জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর ওই দিনই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত কমিটি গত ৩১ আগস্ট গৃহায়ণ সচিবের কাছে ৪০৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও আর্থিক অনিয়ম, যথাযথ সমীক্ষা ছাড়া ডিপিপি প্রণয়ন এবং প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ১৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা প্রায় দুই বছর কেডিএর নিজস্ব তহবিলে স্থানান্তরের বিষয়টি উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে এসব কর্মকাণ্ডকে আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতেই ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

কেডিএর চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা বলেন, মন্ত্রণালয়ের চিঠি তিনি পেয়েছেন। নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।