ঢাকা ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
[gtranslate]
শিরোনামঃ
রাজ্জাকের সঙ্গে প্রথম দেখার স্মৃতিচারণ করলেন কনকচাঁপা সৌর বিদ্যুৎ যন্ত্রপাতি আমদানিতে বড় শুল্ক ছাড় দিলো এনবিআর ডেঙ্গু প্রতিরোধে অভিযান হোক নিয়মিত, জনসচেতনতা হোক ঘরে ঘরে রাজধানীতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু র‍্যাব বিলুপ্ত, নতুন নামে এসআরবির কার্যক্রম শুরু ইসির নতুন প্রতীক তালিকা প্রকাশ, যুক্ত হলো ‘না’; মোট প্রতীক ১২০টি দীর্ঘ আড়াই বছর পর একক কনসার্টে বাপ্পা মজুমদার, মঞ্চ মাতাবেন ৯ অক্টোবর একাদশ শ্রেণির ভর্তি: প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ, ক্লাস শুরু ২৪ সেপ্টেম্বর ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে: ববি হাজ্জাজ সিনেমা হতে পারে সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

র‍্যাব বিলুপ্ত, নতুন নামে এসআরবির কার্যক্রম শুরু

  • নিজস্ব প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময়ঃ ০১:২৪:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২৩৬ Time View

র‍্যাব বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে নতুন কাঠামোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে পুলিশের অধীনে বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের প্রক্রিয়া কার্যকর হয়েছে। মঙ্গলবার ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ গেজেটে প্রকাশের পর বুধবার থেকে নতুন নামে কার্যক্রম শুরু করেছে বাহিনীটি। সরকারি গেজেটেও আইনটিকে ২০২৬ সনের ১০৯ নম্বর আইন হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে।

নতুন নামে কার্যক্রম শুরুর সঙ্গে র‍্যাবের ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাহিনীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজে নাম পরিবর্তন করে এসআরবি করা হয়েছে এবং নতুন নামের লোগো ব্যবহার শুরু হয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত কয়েকটি গ্রুপেও একই পরিবর্তন দেখা গেছে।

এসআরবির মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ জানিয়েছেন, গেজেট প্রকাশের পর র‍্যাবের নাম ব্যবহার করে কার্যক্রম চালিয়ে গেলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই নতুন নামে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। পোশাক, পতাকা ও লোগোর অন্যান্য বিষয়েও পরিবর্তনের কাজ চলমান রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

আইনে কী বলা হয়েছে

সরকারি গেজেটে প্রকাশিত নতুন আইনে র‍্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন এসআরবি নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে সংশ্লিষ্ট বিলটি পাস হয় এবং ১৫ সেপ্টেম্বর তা আইনে পরিণত হয়ে গেজেটে প্রকাশিত হয়।

নতুন আইনের আওতায় র‍্যাবের সংশ্লিষ্ট জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুবিধা, তহবিল, অর্থ, দায়, চুক্তি, সম্পদ, হিসাব, রেজিস্টার ও বিভিন্ন নথি এসআরবির কাছে হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া র‍্যাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান বিভাগীয় কার্যক্রম ও আদালতের কার্যধারার বিষয়েও ধারাবাহিকতা রাখার বিধান রয়েছে। নতুন বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পুরোনো বিধানের অধীনে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ও তদন্তের ক্ষমতা

এসআরবি আইনে বিশেষায়িত ইউনিটটির অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও জব্দসহ বিভিন্ন আইনগত ক্ষমতার বিধান রাখা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার ব্যবস্থাও আইনে রয়েছে।

র‍্যাবের কাঠামো ও জনবল-সম্পদের বড় অংশ নতুন ইউনিটে স্থানান্তরের বিধান থাকায় আইনটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা হয়েছে। সংসদে বিলটি পাসের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাদের বক্তব্য ছিল, র‍্যাবের জনবল, ক্ষমতা ও সম্পদ বহাল রেখে শুধু নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন ইউনিট গঠন করা হচ্ছে।

অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার প্রয়োজনের কারণে বিদ্যমান সম্পদ নতুন ইউনিটে স্থানান্তরের কথাও সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

র‍্যাব থেকে এসআরবি

র‍্যাব ২০০৪ সালে কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীটির ভূমিকার পাশাপাশি মানবাধিকার ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড নিয়ে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন অভিযোগ ও বিতর্ক তৈরি হয়। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাব ও বাহিনীর সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর র‍্যাব বিলুপ্তির দাবি আবারও আলোচনায় আসে। পরে র‍্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে এসআরবি গঠনের জন্য আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেপ্টেম্বরের শুরুতে সংসদে বিলটি উত্থাপনের পর ১০ সেপ্টেম্বর তা পাস হয় এবং ১৫ সেপ্টেম্বর সরকারি গেজেটে আইন হিসেবে প্রকাশিত হয়।

এর মধ্য দিয়ে র‍্যাবের পরিবর্তে এসআরবি নামে নতুন কাঠামোর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজ্জাকের সঙ্গে প্রথম দেখার স্মৃতিচারণ করলেন কনকচাঁপা

র‍্যাব বিলুপ্ত, নতুন নামে এসআরবির কার্যক্রম শুরু

প্রকাশের সময়ঃ ০১:২৪:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে পুলিশের অধীনে বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের প্রক্রিয়া কার্যকর হয়েছে। মঙ্গলবার ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ গেজেটে প্রকাশের পর বুধবার থেকে নতুন নামে কার্যক্রম শুরু করেছে বাহিনীটি। সরকারি গেজেটেও আইনটিকে ২০২৬ সনের ১০৯ নম্বর আইন হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে।

নতুন নামে কার্যক্রম শুরুর সঙ্গে র‍্যাবের ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাহিনীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজে নাম পরিবর্তন করে এসআরবি করা হয়েছে এবং নতুন নামের লোগো ব্যবহার শুরু হয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত কয়েকটি গ্রুপেও একই পরিবর্তন দেখা গেছে।

এসআরবির মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ জানিয়েছেন, গেজেট প্রকাশের পর র‍্যাবের নাম ব্যবহার করে কার্যক্রম চালিয়ে গেলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই নতুন নামে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। পোশাক, পতাকা ও লোগোর অন্যান্য বিষয়েও পরিবর্তনের কাজ চলমান রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

আইনে কী বলা হয়েছে

সরকারি গেজেটে প্রকাশিত নতুন আইনে র‍্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন এসআরবি নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে সংশ্লিষ্ট বিলটি পাস হয় এবং ১৫ সেপ্টেম্বর তা আইনে পরিণত হয়ে গেজেটে প্রকাশিত হয়।

নতুন আইনের আওতায় র‍্যাবের সংশ্লিষ্ট জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুবিধা, তহবিল, অর্থ, দায়, চুক্তি, সম্পদ, হিসাব, রেজিস্টার ও বিভিন্ন নথি এসআরবির কাছে হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া র‍্যাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান বিভাগীয় কার্যক্রম ও আদালতের কার্যধারার বিষয়েও ধারাবাহিকতা রাখার বিধান রয়েছে। নতুন বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পুরোনো বিধানের অধীনে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ও তদন্তের ক্ষমতা

এসআরবি আইনে বিশেষায়িত ইউনিটটির অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও জব্দসহ বিভিন্ন আইনগত ক্ষমতার বিধান রাখা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার ব্যবস্থাও আইনে রয়েছে।

র‍্যাবের কাঠামো ও জনবল-সম্পদের বড় অংশ নতুন ইউনিটে স্থানান্তরের বিধান থাকায় আইনটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা হয়েছে। সংসদে বিলটি পাসের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাদের বক্তব্য ছিল, র‍্যাবের জনবল, ক্ষমতা ও সম্পদ বহাল রেখে শুধু নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন ইউনিট গঠন করা হচ্ছে।

অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার প্রয়োজনের কারণে বিদ্যমান সম্পদ নতুন ইউনিটে স্থানান্তরের কথাও সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

র‍্যাব থেকে এসআরবি

র‍্যাব ২০০৪ সালে কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাহিনীটির ভূমিকার পাশাপাশি মানবাধিকার ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড নিয়ে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন অভিযোগ ও বিতর্ক তৈরি হয়। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাব ও বাহিনীর সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর র‍্যাব বিলুপ্তির দাবি আবারও আলোচনায় আসে। পরে র‍্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে এসআরবি গঠনের জন্য আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেপ্টেম্বরের শুরুতে সংসদে বিলটি উত্থাপনের পর ১০ সেপ্টেম্বর তা পাস হয় এবং ১৫ সেপ্টেম্বর সরকারি গেজেটে আইন হিসেবে প্রকাশিত হয়।

এর মধ্য দিয়ে র‍্যাবের পরিবর্তে এসআরবি নামে নতুন কাঠামোর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো।